ফ্যাশন জগতে ঈদ প্রস্তুতি : রঙের ঝলক

এ. কে. রাসেল

ঈদ মানেই আনন্দ। আর ঈদের আনন্দ অনেকটাই মিশে থাকে নতুন কাপড়ে। ঈদ আমাদের দেশের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব। আর সে জন্যই ঈদ উপলক্ষে ফ্যাশন হাউসগুলোর রয়েছে নানা আয়োজন। তাই এবারে আমাদের আয়োজনেও থাকছে দেশের নামী-দামি ফ্যাশন হাউসগুলোর ঈদের প্রস্তুতি নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন। ঈদ আয়োজনে আমাদের পোশাকশিল্প পেয়েছে নান্দনিকতার ছোঁয়া। প্রতিবারের মতো এবারো ঈদকে ঘিরে ফ্যাশন হাউসগুলোর রয়েছে বিশেষ কালেকশন। গত কয়েক বছর রমজানের ঈদে বৃষ্টি-বাদলের সাথে বেশ গরম পড়তে দেখা গিয়েছে। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়তো হবে না। ফলে সময়োপযোগী পোশাক নিয়েই বেশি ভেবেছে দেশী ফ্যাশন হাউসগুলো। আমরা কথা বলেছি দেশের কয়েকজন স্বনামধন্য ফ্যাশন ডিজাইনার এর সাথে।
অঞ্জন’স-এর পোশাকে কী ধরনের কাপড় ও নকশা ব্যবহার করা হয়েছে জানতে চাইলে অঞ্জন’স-এর স্বত্বাধিকারী ও ফ্যাশন ডিজাইনার শাহীন আহমেদ জানান, আমরা সব বয়সীদের জন্যই পোশাক তৈরি করে থাকি। বিশেষ করে এবারের ঈদে গরমের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে আরামদায়ক ঈদের পোশাক। এবারের ঈদে সুতি ও ভয়েল কাপড়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। ভ্যালু অ্যাডিশনে কাটিং এবং প্যাটার্নেও এসেছে বৈচিত্র্য। মেয়েদের জন্য রয়েছে, সালোয়ার কামিজ, থ্রি-পিস এবং শাড়ি। কারুকাজ ও নকশায় ভরপুর এসব পোশাকে রয়েছে বিভিন্ন রঙ। কারণ, ঈদে সাধারণত পোশাকে সব ধরনের রঙের ব্যবহারই লক্ষ করা যায়। তবে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে, নীল, সবুজ, মেজেন্টা ও কমলা। মেয়েদের পোশাকে হাতের কাজ, মেশিন এম্ব্রয়ডারি এবং বিভিন্ন প্রিন্ট রয়েছে। এ ছাড়া শাড়ির জমিন, পাড় ও আঁচলে এম্ব্রয়ডারি, ব্লক ও স্ক্রিন প্রিন্টের কাজ করা হয়েছে। পাশাপাশি শাড়ির বুনন ও ডিজাইনে আছে নতুনত্ব। প্রিন্টেড শাড়ির ক্ষেত্রে রয়েছে নকশা। অঞ্জন্স-এর তৈরি শাড়িগুলো এ গরমেও আপনাকে এনে দেবে এথনিক লুক। ছেলেদের পোশাকের মধ্যে রয়েছে, পাঞ্জাবি, শার্ট ও ফতুয়া। পাঞ্জবি ও ফতুয়াতে রয়েছে নানা কারুকাজ। একই সাথে শিশুদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবি, ফতুয়া ও টি-শার্ট।
তারুণ্যের প্রথম পছন্দ হিসেবে ফ্যাশন হাউস প্লাস পয়েন্ট সব সময়ই এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে। ব্যতিক্রম নয় এবারের ঈদেও। এই ঈদকে সামনে রেখে প্লাস পয়েন্ট নিয়ে এসেছে এক্সক্লুসিভ সব কালেকশন। এবারের ঈদে প্যাটার্ন, ফেব্রিক্স এবং ডিজাইনে এনেছে বেশ পরিবর্তন। ছেলেদের পোশাকে রয়েছে, প্রিন্ট, এক কালার এবং চেক। কাপড়ে ওয়াশিং সিস্টেমে ব্যবহার করা হচ্ছে কুলডাইং এবং ডিপডাইং। শিশুদের পোশাকে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। শিশুদের টি-শার্ট গরমে আরামদায়ক এবং ফ্যাশনেবল করে তৈরি করা হচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদা, রুচি এবং গরমে আরামের বিষয় মাথায় রেখে প্লাস পয়েন্ট নিয়ে এসেছে, পলো-শার্ট ক্যাজুয়াল শার্ট, ফরমাল শার্ট, শর্ট ও লং পাঞ্জাবি, থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট ও প্যান্ট প্রভৃতি।
ইজির আয়োজনে থাকছে ভিন্নতা ডিজাইন এবং রঙ ও স্টাইলে পরিবর্তন লক্ষ করা যাবে। থাকছে পাঞ্জাবির প্রচুর কালেকশন বিভিন্ন ফরম্যাটে, কলারে, হাতে থাকছে নতুন ডিজাইন। টি-শার্টের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি ইজির শার্ট, পাঞ্জাবির চাহিদাও প্রচুর। ইজি ফ্যাশনের এই ঈদের আয়োজন নিয়ে কথা হয় পরিচালক তৌহিদ চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদ মানে ক্রেতাদের নতুন কিছু দিতে পারা। আর আমরা এবারের ঈদে ইজির পোশাকে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছি যেমন-ডিজাইন, প্যাটার্ন, কালার, কাপড়। আশা করছি, এই ঈদে ক্রেতারা ইজিতে আরো নতুনত্ব পাবেন। বিশেষ করে গরমের কথা মাথায় রেখেই এবারের ঈদের পোশাক তৈরি করা হচ্ছে। এ দিকে ফ্যাশন আরেক দিকে আরামদায়ক হবে এবারের ঈদের পোশাক, যা আরো স্মার্ট করে তুলবে প্রত্যেক ফ্যাশনেবলদের।
রঙ বাংলাদেশ ঈদ উপলক্ষে তিনটি থিম নিয়ে কাজ করছে বলে জানান এ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার সৌমিক দাস। তিনি বলেন, এবারের ঈদে ফ্লোরাল, জিওমেট্রিক এবং ইসলামিকÑ এই তিনটি থিম নিয়ে রঙ বাংলাদেশ কাজ করছে। এ ছাড়া একটি পরিবারের সব বয়সীদের জন্যই আমরা পোশাক তৈরি করছি। রঙ বাংলাদেশের পোশাকের সমাহারে রয়েছে, সালোয়ার কামিজ, থ্রি পিস, শার্ট, পাঞ্জাবি, টি-শার্টসহ নানা পোশাক।
দীর্ঘ দিন ধরে দেশীয় ফ্যাশন নিয়ে কাজ করছে কাপড় ই-বাংলা। এবারের ঈদ আয়োজন নিয়ে কথা হয় প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মুর্সালিন মিথুনের সাথে। তিনি জানান, ঈদ স্পেশাল আয়োজনে মেয়েদের জন্য রয়েছে, সিঙ্গেল কামিজ এবং থ্রিপিস। বৈচিত্র্যে ভরপুর এসব পোশাকে রয়েছে বিভিন্ন আকর্ষণীয় ডিজাইন।
ঈদ উপলক্ষে ফ্যাশন হাউস গ্রামীণ মেলায় এসেছে ঈদের রকমারি তাঁতের শাড়ি। টাঙ্গাইলের লাবলু-বাবলু এসব শাড়ির ডিজাইন করেছেন। এ ছাড়া গ্রামীণ মেলায় এসেছে ঈদের থ্রি-পিস, ফতুয়া, শার্ট, পাঞ্জাবি ও শিশুদের পোশাক। এসব পোশাক তৈরি করা হয়েছে সুতি, সিল্ক, খাদি, এন্ডি, মসলিনসহ বিভিন্ন তাঁতের কাপড়। বিভিন্ন হাতের কাজ ও প্রিন্টের মাধ্যমে নকশা করা এসব পোশাকে দেখা যাবে ঈদের ভিন্ন মাত্রার আমেজ।
আর্টিজানের স্বত্বাধিকারী রাকিব বলেন, ফ্যাশন ব্র্যান্ড আর্টিজানের পোশাকের মধ্যে আছে শার্ট, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট ও পোলো শার্ট। আরামদায়ক কাপড়ে এসব পোশাক তৈরি করা আর নকশায় রয়েছে উৎসবের আমেজ। পাঞ্জাবিতে রয়েছে, হাতের কাজ, কারচুপি, এম্ব্রয়ডারিসহ নানা কারুকাজ। খুচরার পাশাপাশি পাইকারিও কেনা যাবে।
দরদাম : এবারের ঈদে বিভিন্ন শোরুমের পোশাকের দামও পড়বে ভিন্ন ভিন্ন। যেমন, যেকোনো ধরনের শার্ট কিনতে পারবেন ৮০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকায়, পাঞ্জাবি পাবেন ৫০০ টাকা থেক ৯৫০০ টাকায়, টি-শার্ট পাবেন ২৫০ টাকা থেকে ১২৫০ টাকায়, প্যান্ট পাবেন ৮৫০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকায়, ফতুয়া পানেন, ৪০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায়, সিঙ্গেল কামিজ পাবেন ৭৫০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকায়, থ্রি-পিস পাবেন, ১৯০০ টাকা থেকে ৪৫০০ টাকায়। যেকোনো শোরুম ছাড়াও ঈদের কেনাকাটা করতে পারবেন রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেট, নিউ মার্কেট, বসুন্ধরা, গুলিস্তান বঙ্গবাজারসহ যেকোনো মার্কেট থেকে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.