জীবনভর সুস্থ দাঁতের জন্য

ডা: শুভাগত চৌধুরী

কে না ভালোবাসে সুন্দর হাসি! হাসিতে ফাঁক হয়ে যাওয়া ঠোঁটের পরিসরে দুই সারি শুভ্র সুন্দর দাঁতের ঝিলিক।
দাঁতের ব্যথা বড় ব্যথা। সহ্য করা যায় না। কোমল পানীয় পানে দাঁতে শিরশির করে ওঠা। মাড়ি পাতলা হয়ে যাওয়া।
কিভল্যান্ড কিনিকের জেরিয়াট্রিকস বিভাগের প্রধান ডা: ববার্ট পামার বলেন, বয়স একটি বড় কারণ। দাঁত ও মাড়ি ক্ষয়ে যায় আর বয়স ৫০-৬০ হলে সমস্যার হয় শুরু।
সুখবর হলো : ডেন্টাল রুটিনে সামান্য কিছু পরিবর্তনে সুফল অবশ্য। সুস্থ দাঁতের জন্য টিপস। সতর্কসঙ্কেত চেনা বা ব্যবস্থা নেয়া।
সতর্কসঙ্কেত : দাঁত কনকন বা শিরশির করে ওঠা।
ফুরিডেটেড পানি তো পাওয়া গেল না সবসময়, তাই সুবমা যখন বেড়ে উঠেছিল তখন ফুরাইড দিয়ে কুলি তো ছিল না। আমাদের তো সবার তেমন সুরক্ষা নেই, আমাদের অনেকের দাঁতে ফিলিং, ৫০ ঊর্ধ্ব মানুষের সেসব স্থানে চির দেখা যায়। একটি দাঁত যখন মেরামত করা হয় তখন আসল দাঁতের মতো এটি তত মজবুত হয় না। তবে বয়সের সাথে অনেক দাঁতে চির দেখা যায়। সেখানে জীবাণু বাসা বাঁধে।
মাড়ি রেখাতেও টিস্যু বয়সের সাথে সরে যায়। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের কিমবাবলি হামস ডিডিএস বলেন, যেহেতু স্থানটি দাঁতের স্নায়ুর খুব কাছে সেজন্য সেখানে ক্ষয় দ্রুত গুরুতর হয়ে ওঠে।
তাই দাঁত সামান্য কনকন করলে বা শিরশির করলে ডেনটিস্টকে দেখাবেন চটজলদি। দাঁতে চির দেখার জন্য এক্সরে করতে হতে পারে। এরপর একে মসৃণ করে দেয়া বা ফিল করে দেয়া।
বড় চির থাকলে পুরো ক্রাউন বা ক্যাপ প্রয়োজন হতে পারে।
প্রতিরোধ করবেন কিভাবে?
উপায় হলো দাঁত ব্রাশ করা, ফস করা এবং ফুরাইড কুলি করা। এলকোহল কুলি বরং ক্ষতিকর।
সতর্কসঙ্কেত
সংবেদনশীল দাঁত এবং ব্যথায় কাতর মাড়ি
যাদের দাঁত খুব সংবেদনশীল, এর পেছনে কারণ হতে পারে যে পেরিওডোন্টাল রোগ মাড়ি ক্ষয় করে ফেলেছে। এই ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগটি শুরু হয় উপসর্গ ছাড়াই, আর বড় রকমের ক্ষতি হওয়ার আগে অনেকেই বুঝতেই পারেন না যে রোগটি অনেকদূর এগিয়েছে। ৫৫ ঊর্ধ্ব অর্ধেকের বেশি লোক মৃদু ধরনের এ রোগের শিকার হয়েই থাকেন।
ব্যাকটেরিয়া দাঁতের মূলে গজাতে থাকলে, ব্রাশের সময় সামান্য রক্তক্ষরণ চোখে ধরা পড়ে। তবে অণুজীবগুলো সংখ্যায় বাড়তে থাকলে মাড়ির টিস্যু আলগা হতে থাকে, নিচের লিগামেন্ট ক্ষয় হতে থাকে, যে হাড়গুলো দাঁতকে যথাস্থানে রাখে সেগুলোও ক্ষয়ে যায়। ব্যাকটেরিয়া চলে যেতে পারে রক্তে, বাড়ে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য রোগের ঝুঁকি।
আগাম মাড়ি রোগ বোধ করা এবং সুস্থ দাঁত পেতে হলে প্রয়োজন হবে পেশাদারি দাঁতের গভীর কিনিং, দৈনিক এন্টিবায়োটিক কুলি, মাঝে মধ্যে ডেনটিস্ট দর্শন (তিন মাসে একবার) ফসিং ভালো করে করা। নরম, গোলাকার কুচিসহ ব্রাশ ব্যবহার করা (ংড়ভঃ নৎঁংয) সেনসোডাইন পেস্ট সংবেদনশীল দাঁতের জন্য।
সতর্কসঙ্কেত : শুকিয়ে যাওয়া
লালারস সুস্থ দাঁতের জাদুকরী সালসা বটে। এটি ব্যাকটেরিয়ানাশক অমø প্রশমক, খনিজ উপাদানে ভরপুর যা এনামেলকে মজবুত করে। তবে ৫০ বছর বয়স ২৫% মহিলার লালারস কম বের হয়, তাই মুখে দুর্গন্ধ হয় অনেকের।
জিব বা ঠোঁট প্রায়ই শুকিয়ে গেলে, ডাক্তারকে বলুন। অনেক ওষুধ খেলে মুখ শুকিয়ে যায়। বিষণœতারোধক ওষুধ, রক্তচাপের ওষুধ, মূত্রনালির ওষুধ অনেক নিলে মুখ শুকাতে পারে। মুখ সামান্য শুকানো, মুখে বদ গন্ধ হলে পামাবের পরামর্শ হলোÑ সুগারহীন শক্ত ক্যানডি বা গাম জাইলিটল দিয়ে মিষ্ট করা। প্রতিদিন জিব পরিষ্কার করা ভালো। উপর নিচ, পেছনে জিবকে পরিষ্কার করতে হবে।

লেখক : অধ্যাপক ও ডিরেক্টর, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস, বারডেম, ঢাকা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.