কিশোর মুসা রবিনের অভিযান

রকিব হাসান

একত্রিশ.
ফারিহাকে হাত গুটিয়ে চুপ করে বসে থাকতে দেখে বললেন, ‘খাচ্ছো না কেন? এজন্যই তো গায়ে কিছু নেই। কাটলে এক পোয়া মাংস বেরোবে না কাবাব বানানোর জন্য। খাবে সব সময়, বুঝলে। না খেলে ওজন বাড়ে না। চর্বি জমে না।’
মাংসের প্লেটটা সামনে থেকে ঠেলে সরিয়ে দিলো ফারিহা। প্রায় ফুঁপিয়ে উঠে বলল, ‘আমার খিদে নেই।’
‘তাই বলে কি খাবার নষ্ট করবে নাকি? ঠিক আছে, তুমি না খেলে আমিই খেয়ে ফেলি। এত খিদে পেয়েছে, আস্ত একটা মুরগি শেষ করে ফেলতে পারব এখন। হাড়-মাংস-পালক, সবসহ।’ বলে হাত বাড়িয়ে ছোঁ দিয়ে ফারিহার প্লেটের মাংসের টুকরোটা তুলে নিলেন মিস্টার উলফ।
চোখ বড় বড় করে তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে ফারিহা, কিশোর-রবিন ও মুসা। মাংস ছিঁড়ে খেতে দেখছে। মাংস শেষ করে হাড় চাটতে লাগলেন তিনি। চাটতে চাটতে ঝকঝকে বানিয়ে ফেললেন হাড়টাকে।
‘আহ, রানের মাংসের স্বাদই আলাদা,’ তৃপ্তির ঢেঁকুর তুললেন মিস্টার উলফ। মাংসের তেল লেগে গেছে দাড়িতে। তেল লেগে থাকা হাত দিয়ে দাড়ি মুছতে গিয়ে আরো বেশি করে লাগালেন। ‘খাওয়া শেষ করো তাড়াতাড়ি। কিভাবে অগ্নিকুণ্ড বানাতে হয় শেখানো হবে। তোমাদের ক্যাম্প-কর্মীরা শেখাবেন। বুনো অঞ্চলে বাস করতে হলে আগুন জ্বালানো শিখতেই হবে তোমাদের।’
কিশোর জিজ্ঞেস করল, ‘আপনি শেখাচ্ছেন না কেন, স্যার?’
দাড়ি চুলকাতে চুলকাতে জ্বলন্ত চোখে কিশোরের দিকে তাকালেন মিস্টার উলফ। ‘আগুন আমার ভালো লাগে না। গরম সহ্য করতে পারি না। তাই আগুন জ্বালানোর কাজটা অন্যকে দিয়েই করাই।’
উঠে চলে গেলেন তিনি।
(চলবে)

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.