গাছ মানুষের বন্ধু

আজ তোমরা জানবে গাছের উপকারিতা সম্পর্কে। মানুষ আর অন্যান্য প্রাণীর এই জগতে বেঁচে থাকার মূল চাবিকাঠিই যেন গাছপালার হাতে! তাই গাছ আমাদের বন্ধু।
লিখেছেন মুহাম্মদ রোকনুদ্দৌলাহ্
তোমরা গাছ চেনো, তাই না? জানো, গাছ বিভিন্নভাবে আমাদের বেঁচে থাকতে সাহায্য করে? এটি বেঁচে থাকার বিশেষ উপকরণ অক্সিজেনের জোগান দেয়।
মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত, রুটি, পাউরুটি আসে কোথা থেকে? প্রধান শস্য ধান, গম ইত্যাদি থেকে। তা ছাড়া নানা রকম তেলও আমরা পাই শস্য থেকে। এটি আমরা ব্যবহার করি ভোজ্যতেল হিসেবে, সাবান, রঙ, বার্নিশ প্রভৃতি তৈরির কাজে।
মসলাপাতির সরবরাহ আসে কোথা থেকে? উদ্ভিদ জগৎ থেকে। আমরা চিনি পাই আখ বা বিটজাতীয় গাছ থেকে। গাছ থেকে পাওয়া চা, কফি দিয়ে আমাদের কান্তি দূর হয়।
কাঠ, বাঁশ, দড়ি সবই পাওয়া যায় গাছপালা থেকে। কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয় আসবাবপত্র, নৌকা, দরজা, এমনকি ঘরবাড়ি।
পোশাক বা কাপড় তৈরির প্রয়োজনীয় তুলো আসে গাছ থেকে। নকল সিল্ক আর রেয়ন পাওয়া যায় কাঠ থেকে। নাইলন আর টেরিলিন তৈরি করা হয় গাছপালা থেকে উৎপন্ন জৈব রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে। গাছ থেকে পাওয়া যায় পাট এবং এজাতীয় আঁশ। এগুলোর রয়েছে বহুল ব্যবহার। চট, বস্তা, কাপড়, রশিÑ কত কী যে তৈরি হয়!
বিভিন্ন ওষুধের জন্যও মানুষ গাছপালার ওপর নির্ভরশীল। আধুনিক জমানার অদ্ভুত ক্ষমতার ওষুধ পেনিসিলিন, স্ট্রেপটোমাইসিন, অরিওমাইসিন ইত্যাদি তৈরি করা হয় নিম্নশ্রেণীর উদ্ভিদ থেকে।
অক্সিজেন যেকোনো প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। আর এটা জোগায় সবুজ গাছপালা। কী করে? সবুজ গাছপালা তাদের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়ায় বাতাস থেকে অপকারী কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস নেয়, আর পাতার সূক্ষ্ম ছিদ্রপথে ছেড়ে দেয় অক্সিজেন। এভাবে অনেক অক্সিজেনের জোগান আসে। বাতাসে কমে আসা অক্সিজেন গাছপালা ক্রমাগত পরিপূরণ না করলে পৃথিবীর অক্সিজেন অনেক আগেই নিঃশেষ হয়ে যেত। আকাশ ভরে উঠত অনিষ্টকর কার্বন ডাই-অক্সাইডে। এর ফলে সৃষ্টি হতো ধ্বংস। এ ছাড়া গাছপালা, মানুষ এবং সেই সঙ্গে অন্যান্য প্রাণীর প্রধান খাদ্য।
জ্বালানি কাঠ, কয়লা, লেখার কাগজ, রবার, কর্ক ইত্যাদি রাশি রাশি জিনিস আসে গাছপালা থেকে। মানুষ আর অন্যান্য প্রাণীর এই জগতে বেঁচে থাকার মূল চাবিকাঠিই যেন গাছপালার হাতে! তাই গাছ আমাদের বন্ধু।
মানুষের বেঁচে থাকার তাগিদেই গাছের প্রতি যতœশীল হওয়া দরকার। আর বৃক্ষরোপণ তো করতেই হবে।
তথ্যসূত্র : ওয়েবসাইট

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.