কেকেআরের সামনে আরো লজ্জায় পড়তে পারত রাজস্থান!
কেকেআরের সামনে আরো লজ্জায় পড়তে পারত রাজস্থান!

কেকেআরের সামনে আরো লজ্জায় পড়তে পারত রাজস্থান!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ইডেনে রাজস্থান রয়্যালসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে প্লে-অফের আলৈঅ কাছে পৌঁছে গেল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ১৩ ম্যাচে নাইটদের ঝুলিতে এখন ১৪ পয়েন্ট। সমসংখ্যক ম্যাচ খেলে রাজস্থান ১২ পয়েন্টেই থাকল। অন্তিম ম্যাচে কেকেআর হায়দরাবাদে খেলবে সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে। শেষ ম্যাচটি জিতলে প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলবে নাইটরা। হেরে গেলেও অঙ্কের বিচারে কলকাতার প্লে-অফে খেলার ক্ষীণ সম্ভাবনা থেকে যাবে।

চারটি উইকেট নিয়ে কেকেআরের জয়ের পথটা গড়ে দিয়েছিলেন রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদব। তার ওপর দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে জয়ের লক্ষ্যে দলকে পৌঁছে দেন অধিনায়ক দীনেশ কার্তিক। ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন তিনি। কার্তিক ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন। ৫ বলে ১২ রানে অপরাজিত থাকেন আন্দ্রে রাসেল।

প্রথম ব্যাট করে রাজস্থান রয়্যালস জয়ের জন্য কেকেআরকে ১৪৩ রানের টার্গেট দিয়েছিল। শুধু জেতা নয়, নেট রান রেটও ভালো করার দিকে নজর ছিল নাইটদের। কিন্তু সেটা হয়নি। প্রথম ওভার থেকেই চালিয়ে খেলা শুরু করেন সুনীল নারিন। প্রথম চারটি বলে দু’টি বাউন্ডারি ও দু’টি ওভার বাউন্ডারি হাঁকান নারিন। যদিও পরের ওভারেই বেন স্টোকসের বলে নারিন ৭ বলে ২১ রান করে আউট হন। রবীন উথাপ্পার নামের পাশে চার রান বড়ই বেমানান। বড় ইনিংস খেলার দারুণ সুযোগ ছিল তাঁর সামনে। কিন্তু তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে উথাপ্পা ডিপ স্কোয়ার লিগে ক্যাচ তুলে আউট হন।

আস্কিং রেট খুব বেশি না হওয়ায় নাইট রাইডার্সের ব্যাটসম্যানরা তাড়াহুড়ো করেননি। তৃতীয় ওভারে ক্রিস লিন ও নীতীশ রানা ধীরে ধীরে জয়ের ভিত গড়ে তুলছিলেন। তারা ৩৩ রান যোগ করেন। কিন্তু আচমকাই ইশ সোধির বলে এলবিডব্লু হয়ে যান রানা (২১)। পর পর তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে রাজস্থান ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু স্টোকসদের প্রসাসে পানি ঢেলে দেন দীনেশ কার্তিক ও ক্রিস লিন। চতুর্থ উইকেটে তাঁরা ৪৮ রান যোগ করেন। তবে লিন উইকেটে সেট হয়ে গিয়েও ৪৫ রানে আচমকাই উইকেট ‘উপহার’ দেন। তবে লক্ষ্য কঠিন না হওয়ায় কেকেআরের জয়ের পথে রাজস্থানের বোলাররা অন্তরা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি।

ম্যাচের নায়ক কুলদীপ যাদব। কখনও গুগলি। কখনও রং আন। কখনও আবার গতির বৈচিত্র্য ঘটিয়ে মঙ্গলবার ইডেনে কুলদীপ যাদব যে বোলিং উপহার দিলেন, তা অনেক দিন মনে থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের। ৪-০-২০-৪। টি-২০ ফরম্যাটে সত্যিই যেন স্বপ্নের বোলিং। কুলদীপের শিকারের তালিকায় কে নেই-- জস বাটলার, অজিঙ্কা রাহানে, বেন স্টোকস এবং স্টুয়ার্ট বিন্নি।

শুরুটা দেখে একবারের জন্য মনে হয়নি রাজস্থান রয়্যালস ১৯ ওভারে ১৪২ রানেই অল-আউট হয়ে যাবে। দুরন্ত ফর্মে থাকা জস বাটলারের সঙ্গে ওপেন করতে নেমে রাহুল ত্রিপাঠি ৩.২ ওভারেই ৫৩ রান তুলে ফেলেছিলেন। কিন্তু তার পরেই স্পিনারদের কাঁধে চড়ে দ্রুত ম্যাচে ফিরে আসে কলকাতা নাইট রাইডার্স।

প্রথম ওভারের প্রথম বলেই স্লিপে রাহুল ত্রিপাঠির ক্যাচ ফেলেন নীতীশ রানা। ওই ওভারে মাত্র ২ রান দেন মাভি। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারেই পালাবদল ঘটতে শুরু করে বিদ্যুৎ গতিতে। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার শেষ চারটি বলে রাহুল ত্রিপাঠি পরপর বাউন্ডারি (৬, ৪, ৪, ৪) হাঁকান। তৃতীয় ওভারে মাভি ২৮ রান দেন। বাটলার দু’টি ছক্কা ও চারটি চার মারেন। দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের অধিনায়ক শ্রেয়াস আয়ারও মাভির বিরুদ্ধে ২৮ রান তুলেছিলেন। দশ বলে দশটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে এক ধাক্কায় রাজস্থান রয়্যালসের স্কোর তিন ওভারে ৪৯-এ পৌঁছে দেন বাটলার-রাহুল জুটি।

রানের গতিতে লাগাম টানতে কেকেআরের অধিনায়ক দীনেশ কার্তিক চতুর্থ ওভারেই বল তুলে দেন মিস্ট্রি স্পিনার সুনীল নারিনের (২৯/১) হাতে। রানের গতি কিছুটা কমে। কেকেআরকে প্রথম সাফল্যটি এনে দেন আন্দ্রে রাসেল। পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বলে রাহুল ত্রিপাঠি ২৭ রানে দীনেশ কার্তিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন।

একাদশ আইপিএলে অজিঙ্কা রাহানে (১১) ফর্মের ধারে কাছে নেই। কুলদীপ যাদবের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে তিনি বোল্ড হন। চতুর্দশ ওভারের পঞ্চম বলে বেন স্টোকসের ফিরতি ক্যাচটা ধরার পর কুলদীপ বারবার বলটায় চুমু খাচ্ছিলেন। আনন্দ হওয়াটাই স্বাভাবিক। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে চার ওভারে দিয়েছিলেন ৪৩ রান। পরের ম্যাচে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে দু’ওভারে ২৯ রান দেওয়ার পর দীনেশ কার্তিক তাঁকে দিয়ে আর বল করাননি। ধীরে ধীরে যেন হারিয়ে যাচ্ছিলেন কুলদীপ। অধিনায়কের আস্থা ও নিজের উপর বিশ্বাসের জোরেই ফের ছন্দ ফিরে পেয়েছেন বলে জানান কুলদীপ।

দশম ওভারে দ্বিতীয় বলে জস বাটলারকে আউট করে কুলদীপই। পাঁচটি হাফ-সেঞ্চুরি করে ইডেনে নেমেছিলেন বাটলার। শুরুটা বেশ ভালোই করেছিলেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানটি। কিন্তু স্পিনের ছোবলে তিনিও কুপোকাত। রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে শর্ট থার্ড ম্যানে ক্যাচ তুলে মাঠ ছাড়েন বাটলার। ২২ বলে তার সংগ্রহ ৩৯ রান। একাদশ ওভারে সুনীল নারিনের তৃতীয় ডেলিভারি সঞ্জু স্যামসনের প্যাডে লাগে। বোলার সেভাবে এলবিডব্লুর জন্য জোরালো আবেদন করেননি। হঠাৎই উইকেটরক্ষক দীনেশ কার্তিক রিভিউ চেয়ে নেন। রিল্পেতে দেখা যায় বলটি সোজা সঞ্জুর প্যাডে গিয়ে আঘাত করছে। আম্পায়ার আউট দেন। সঞ্জু ১২ রান করেন। ডি কে’র এই সিদ্ধান্ত ম্যাচের মোড় ঘোরাতে অনেকটাই সাহায্য করে। পরের ওভারে স্টুয়ার্ট বিন্নিকে (১) অনবদ্য প্রয়াসে স্টাম্পিং করেন ডিকে। জয়দেব উনাদকাট ১৮ বলে ২৬ রান না করলে রাজস্থান রয়্যালস আরো লজ্জায় পড়ত!

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.