সেই প্রথম হিদেকুটি দেখিয়েছিল একটা নতুন পজিশন- ইউথড্রন ফরোয়ার্ড
সেই প্রথম হিদেকুটি দেখিয়েছিল একটা নতুন পজিশন- ইউথড্রন ফরোয়ার্ড

ফুটবলের স্ট্র্যাটেজি

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ফুটবলে যে কোনো স্ট্র্যাটেজি কিসের উপর নির্ভর করে তৈরি হয়?

কোচের হাতে কী ধরনের ফুটবলার আছে, কীরকম পরিবেশে খেলছে সেই টিমটা, কোন টুর্নামেন্টেই বা খেলছে- এসবের উপরই নির্ভর করে স্ট্র্যাটেজি।

বিশ্বকাপও এর বাইরে নয় এবং অন্য সব খেলার মতো ফুটবলেও স্ট্র্যাটেজি চিরস্থায়ী নয়। সব সময় পরিবর্তনশীল। চিরস্থায়ী যেটা তার মূল, ফুটবল খেলার প্রাথমিক শর্তগুলো। এখন অ্যাটাকার বলটা ঠিকভাবে রিসিভ করবে, ড্রিবল করবে, পাস করবে, ট্যাপ করবে, গোলে শট নেবে ঠিকভাবে। তেমনি ডিফেন্ডার ঠিকভাবে ট্যাকল করবে, বিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নেবে, ঠিকঠাক ডিস্ট্রিবিউশন থাকবে তার। সা রে গা মা সুরের সাত মাত্রার যাবতীয় অদলবদলে যেমন যাবতীয় গান, তেমনি ফুটবলেও রিসিভিং, ড্রিবল, ট্যাকল, ট্যাপিং, শুটিং- কয়েকটা প্রাথমিক জিনিসের উপর ভিত্তি করেই যুগে যুগে নানা নতুন স্ট্র্যাটেজি জন্ম দিয়েছে।

১৯৫০ সাল আগে থেকেই ধরা যাক। মূলত ৫৪' বিশ্বকাপ থেকেই ফুটবলে আধুনিকতার পূর্ণ বিকাশ ঘটেছে। তা-ই সেসময় থেকেই ধরা যাক। সে বার হাঙ্গেরি দেখিয়েছিল বিপক্ষের দুই থেকে তিন ব্যাক সিস্টেমে চলে যাওয়াটাকে কীভাবে বুদ্ধু বানাতে হয়। সেই প্রথম হিদেকুটি দেখিয়েছিল একটা নতুন পজিশন- ইউথড্রন ফরোয়ার্ড। হিদেকুটি একটু পিছিয়ে খেলল আর সামনে ককসিস এবং পুসকাস, দুই অসাধারণ স্ট্রাইকার। তখন কোনো টিমের ডিফেন্স বুঝে উঠতে পারেনি হাঙ্গেরির কাকে ছেড়ে কাকে ধরবে।

এ বার নজর দেয়া যাক ৫৮' সালের বিশ্বকাপে। ভিনসেন্ট ফিওলা-র ব্রাজিল, নাকি ১৯৭০-এর পেলে-জারজিনহো’র ব্রাজিল কোনটা সেরা তা নিয়ে অনেক দিন পর্যন্ত তর্ক টিকে ছিল। ৫৮'তে ফিওলা ডিফেন্সে দুই স্টপারসহ চারজনকে নামিয়ে, মাঝমাঠকে সামান্য অবজ্ঞা করে অ্যাটাকিং লাইনে গ্যারিঞ্চা-ডিডি-ভাভা- পেলে’র মতো চার ফরোয়ার্ড নামিয়ে ব্রাজিলকে প্রথম বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। তার মধ্যেই ডিডি ফরোয়ার্ড লাইনের খানিকটা পিছন থেকে “অপারেট’ করত। সতেরো বছরের পেলে ছিল গেমমেকার কাম স্কোরার। আর গ্যারিঞ্চা-ভাভা কখনও কখনও জাগালো- ও উইং প্লে করত। মাঠটাকে প্রস্থে অনেকটা বাড়িয়ে ফাঁকা জায়গা তৈরি করে ফেলত। যেখান দিয়ে স্ট্রাইকাররা গোল করে যেত।

৬৬'র বিশ্বকাপে অ্যালফ র‌্যামসে আবার দেখালেন আর এক নতুন স্ট্র্যাটেজি। যখন খেলতেন তখন একরকম ফুটবল-ধারণা ছিল। ইংল্যান্ডের কোচ হয়ে দেখালেন আর এক ধরনের কৌশল। একেবারে সামনে দুই বড়সড় চেহারার নিখাদ স্ট্রাইকার হার্স্ট-হান্ট। তার পিছনে চার মিডফিল্ডার। অ্যাল্যান, বল, মার্টিন্স পিটার, ববি চার্লটন আর নবি স্টাইলস। এর মধ্যে ববি চার্লটন ছিল স্কিমার কাম স্কোয়ার। দুই স্ট্রাইকার হার্স্ট-হান্টের পিছন থেকে খেলে মাঝে মাঝে ফাঁকা জাযগা দিয়ে উঠে এসে প্রচণ্ড ভলিতে গোল করে গিয়েছে। সেমিফাইনালে পর্তুগাল ম্যাচে চার্লটনের দুটো গোল নিয়ে এখনও আলোচনাটালোচনা হয়।

১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের মতো সত্তরের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের স্ট্র্যাটেজিতেও ছিল নতুনত্বের স্বাদ। পেলে তখন কিছুটা স্লো হয়ে গিয়েছে। চেহারা সামান্য ভারী। কিন্তু অসাধারণ স্কিল দিয়ে উইথড্রন ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলেই মাত করে দিয়েছিল সেবার। টোস্টাও আর জারজিনহোর উইং প্লে-কে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলতে ডিপ ডিফেন্স থেকে দুই সাইড ব্যাকের সেই প্রথম উঠে-নেমে খেলা আমরা দেখলাম। তারপর চুয়াত্তরের বিশ্বকাপ দেখাল দুটো জিনিস। এক, যে দলের নমনীয়তা যত বেশি তার খেলায় তত বেশি ভয়ঙ্করতা। ‘টোট্যাল ফুটবল’ যার টেকনিক্যাল নাম হয়ে গেল। দুই, দুই স্টপারের পিছন থেকে লিবেরো খেলার চূড়ান্ত আধুনিকতা দেখিয়েছিল বেকেনবাউয়ার। লুজ বল ধরে খেললেও বেকেনবাউয়ার এতটাই অসাধারণ স্কিলফুল ফুটবলার ছিল যে লিবেরো পজিশন থেকে উঠে গিয়েও অনেক গোল করেছে।

আর ফুটবল দুনিয়ায় হইচই ফেলে দেয়ার রেনেশ মিশেলের সেই নেদারল্যান্ডস টিমের মন্ত্র ছিল কারো কোনো নির্দিষ্ট পজিশন থাকবে না। যখন ডিফেন্স করা হবে সবাই মিলে নীচে নামো, যখন আক্রমণ তখন আট-নয়জন মিলেও ওঠে। সাইড ব্যাক সারাক্ষণ ওঠা-নামা করবে টাচলাইন ধরে, সুযোগ দেখলেই কাট করে ভেতরে ঢুকে পড়বে, মিডফিল্ডাররা ডিফেন্স করার সময় বাড়তি সাইডব্যাক হয়ে যাবে আক্রমণের সময় হয়ে উঠবে বাড়তি ফরোয়ার্ড।

এখনও সেই টোট্যাল ফুটবলেরই একটু অদলবদল চেহারা ফুটবলবিশ্ব দাপিয়ে চলেছে। ৯৪' বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল টিমে অধিনায়ক দুঙ্গা দুর্দান্তভাবে ব্লকারের ভূমিকা নিয়েছিল। দুটি স্টপারের সামনে তার খেলা দেখাটা একটা নতুন অভিজ্ঞতা। আর এখন মাঝমাঠে তিন ধরনের ফুটবলার থাকছে। ব্লকার ছাড়াও একজন গেমমেকার যাকে ‘ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডার’ বলা হচ্ছে, আর একজন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এবং পুরো খেলাটা দাঁড়িয়ে থাকছে গতির উপর। গতিই যেন নবতম স্ট্র্যাটেজি।

 

প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ কেন উরুগুয়েতে হয়েছিল?

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম আসর অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৩০ সালে, উরুগুয়েতে। জাকজমকের সাথে ১৩ জুলাই উদ্বোধন হয়েছিল আসরের। শেষ হয়েছিল একই মাসের ৩০ তারিখে। মোট তিনটি ভেন্যুতে ১৩টি দলের অংশগ্রহণে ১৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। সে বার চ্যাম্পিয়ন হয় আয়োজক দেশ উরুগুয়েই। আর রানারআপ আর্জেন্টিনা। তবে এতো দেশ থাকতেও প্রথম আসরের আয়োজন কেন উরুগুয়েতে করা হয়েছিল?

প্রথম আসরের আয়োজক দেশ কে হবে- এ নিয়ে ফিফা ১৯২৯ সালে বার্সেলোনায় সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেখানে উরুগুয়েকে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেয়া হয়। কারণ সেবছর উরুগুয়ে স্বাধীনতার শতবর্ষে পা দিয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, আগের বছর অর্থাৎ ১৯২৮ গ্রীষ্ম অলিম্পিকে শিরোপা জিতেছিল উরুগুয়ে ফুটবল দল।

প্রথম আসরে অংশ নেয়া ১৩টি দলের মধ্যে আমেরিকার নয়টি ও ইউরোপের চারটি দল ছিল। ভ্রমণের খরচ ও সময় বিবেচনা করে অনেক ইউরোপীয় দল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে।

বিশ্বকাপের প্রথম দুটি ম্যাচ যুগপৎভাবে অনুষ্ঠিত হয় ফ্রান্স ও মেক্সিকোর মধ্যে যাতে ৪-১ গোলে ফ্রান্স জয়ী হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের মধ্যে যাতে ৩-০ গোলে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হয়।

বিশ্বকাপের প্রথম গোল করেন ফ্রান্সের লুসিয়েন লরেন্ত। ফাইনালে উঠে যায় প্রতিযোগিতার ফেবারিট উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা। ৯৩ হাজার দর্শকের সামনে উরুগুয়ে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে পরাজিত করে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা লাভের গৌরব অর্জন করে। তবে সেরা গোলদাতা কিন্তু ছিলেন আর্জেন্টিনার গিয়ের্মো স্তাবিলে।

কেমন হয়েছিল সেই ফাইনাল ম্যাচ?

১৯২৮ সালের অলিম্পিকের ফাইনালের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালেও লড়াই করে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে। বিশ্বকাপের জন্য মল্টিভিডিওতে নতুন স্টেডিয়াম তৈরি করে উরুগুয়ে। সেই স্টেডিয়ামে দুই দেশের ৯০ হাজার সমর্থক হাজির হয়েছিলেন। আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনেস আয়ার্স থেকে নদী পেরিয়ে হাজার হাজার মানুষ এসে হাজির মল্টিভিডিওতে। স্টেডিয়াম কানায় কানায় ভরে যায়, তবু কাতারে কাতারে মানুষ আসতে থাকে।

উত্তেজনায়, রোমাঞ্চে, আবেগে মল্টিভিডিও শহর তখন কাঁপছে। তারই সাথে পাল্লা দিয়েই যেন উত্তপ্ত হয়ে উঠে শহরের পরিবেশ। হু হু করে বেড়ে যায় বাজির দর। টিকিট পাওয়া দুস্কর। আশঙ্কা দেখা দিলো হামলার। তার মোকাবিলা করার জন্য স্টেডিয়ামের চারদিকে ঘিরে ফেলা হলো পুলিশ আর মিলিটারি দিয়ে। প্রত্যেকটি দর্শককে তল্লাশির পর ঢুকতে দেয়া হলো মাঠে। অস্ত্রটস্ত্র তো দূরের কথা, বিয়ারের বোতল পর্যন্ত কেড়ে নেয়া হলো তাদের কাছ থেকে।

খেলার শুরুতেই ঝামেলা। আর্জেনটিনা সাথে করে বল এনেছে। তারা দাবি জানালো তাদের বলেই খেলা হবে। উরুগুয়েও ছাড়বে না। তারাও সাথে করে বল এনেছে। কেউ কারো গোঁ ছাড়বে না। শেষ পর্যন্ত ঠিক হলো, টসে ঠিক হবে কোন দলের বলে খেলা হবে। টসে জিতলো আর্জেনটিনা।

শুরু হলো খেলা। দু’দলই জেতার জন্যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মল্টিভিডিওর নতুন স্টেডিয়ামে নব্বই হাজার দর্শক তখন উত্তেজনায় টানটান। মাঠের বাইরের হাজার হাজার মানুষ। কাজকর্ম সব বন্ধ। খেলার ১২ মিনিটের মাথায় পাবলো ডোরাডো গোল করে উরুগুয়েকে এগিয়ে দিলেন। আনন্দে নাচতে লাগলেন উরুগুয়ের সমর্থকরা। আর্জেনটিনা থেকে আসা হাজার হাজার দর্শক চিৎকার করে উৎসাহ দিচ্ছেন তাদের খেলোয়াড়দের।

কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আর্জেনটিনার কারলোস পিডসেলে গোলটা শোধ করে দিতেই আর্জেনটিনার খেলায়াড়রা বাঘের মতো ঝাপিয়ে পড়লেন জয়ের মূলধন জোগাড়ে আনার জন্য। এলোও তাই। বেলজিয়ামের জন ল্যাংগ্রেনাস অতর্কিতে গোল করে বসলেন। গোলটি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলেও রেফারি কিন্তু গোলের সিদ্ধান্তে অটল থাকলেন। ২-১ গোলে এগিয়ে গেলো আর্জেনটিনা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে বদলে গেলো খেলার চেহারা। খেলা শুরু হওয়ার সাথে সাথে ঝাঁপিয়ে পড়লেন উরুগুয়ের খেলোয়াড়রা। একজনের পর একজনকে কাটিয়ে গিয়ে গোল করে সিয়া উরুগুয়েকে সমতায় এনে দিলেন (২-২)।

তারপরই ইরিয়ার্টে এগিয়ে দিলেন উরুগুয়েকে। উরুগুয়ের সমর্থকদের আনন্দ উচ্ছ্বাস আরো বেড়ে গেলো ক্যাসট্রো দুরপাল্লার এক দূরন্ত শটে যখন হার মানালেন আর্জেনটিনাকে। ৪-২ গোলে জিতে উরুগুয়ে প্রথম বিশ্বকাপ বিজয়ী দেশ হিসেবে নিজের নাম লেখালো ইতিহাসের পাতায়।

দক্ষিণ আমেরিকার ছোট দেশ উরুগুয়ের (জনসংখ্য মাত্র ২৫ লাখ) সরকার পরদিন জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করলেন। আনন্দের বন্যা বইতে লাগলো সারা দেশ জুড়ে।

আর রাগে, দুঃখে জ্বলতে জ্বলতে আর্জেনটিনা রেফারির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ঝাল মেটাতে চাইলো। সেই অভিযোগের ঝাটপা ঝড় তুললো বুয়েনেস আয়ার্সের পথে পথে। শুধু তাই নয় বুয়েনেস আয়ার্সে উরুগুয়ের রাষ্ট্রদূতের দফতর আর বাড়ির সামনে প্রচণ্ড বিক্ষোভ দেখালো তারা। ভাঙচুরও করল। ফলে উরুগুয়ে আর আর্জেনটিনার ফুটবল সংস্থার কর্তাদের মুখ দেখাদেখিও বন্ধ হয়ে গেল। সব মিলিয়ে কিন্তু প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা দারুণভাবে সফল হলো। হাসিমুখে প্যারিসে ফিরে গেলেন জুলে রিমে।

টান টান উত্তেজনার এই ফাইনালের কেবল একজন খেলোয়াড় আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার ফ্রান্সিসকো ভ্যারালো ২০০৭ সাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।

প্রতিযোগিতার পরে ফ্রান্স, যুগোশ্লাভিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আমেরিকায় প্রীতি ম্যাচে খেলে। ব্রাজিল ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ১৯৩০ সালের ১ আগস্ট, যুগোশ্লাভিয়ার বিরুদ্ধে ১০ আগস্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট ম্যাচ খেলে। আর ৩ আগস্ট যুগোশ্লাভিয়ার বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে অংশ নেয় আর্জেন্টিনা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.