দেশে শতকরা দশ ভাগ মানুষও আ’লীগের পক্ষে নেই : আসম রব

ফরিদপুর সংবাদদাতা

বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী সাবেক ছাত্রনেতা আসম আবদুর রব বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের নামে জাতিকে বিভক্ত করে আওয়ামী লীগের কোন লাভ হয়নি। এখন দেশে শতকরা দশ ভাগ মানুষও আওয়ামী লীগের পক্ষে নেই। ’৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু সেই মুক্তি কোথায়? কাঙ্খিত মুক্তি আজও মেলেনি। মানুষ আজও মুক্তি চায়। এ মুক্তি তাদের ভোটের ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।
বুধবার সকালে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার হাসামদিয়ায় শাহ্ জাফর টেকনিক্যাল কলেজের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ’৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনীর গুলিতে নিহত ৩৩ জন শহিদের স্মরণে এ সভার আয়োজন করা হয়।
আসম রব তার বক্তব্যে হাসামদিয়া নিহত শহীদদের রাষ্ট্রিয় স্বীকৃতি না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যাদের রক্তের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধিন হয়েছে, সেইসব শহীদগণ ৪৭ বছর পর আজও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পেলো না! এই বোয়ালমারীতে বিভিন্নস্থানে অসংখ্য স্মৃতিফলক হলেও এইসকল শহীদদের স্মরণে আজও কোন স্মৃতিফলক নির্মিত হয়নি? তাহলে কিসের জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম? কিসের জন্য দেশটাকে স্বাধিন করেছি?
তিনি বলেন, একশ’ বছর পরে হলেও এদেশে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস ঠিকই লেখা হবে। আর আগামী প্রজন্মই সে দ্বায়িত্ব নেবে। বঙ্গবন্ধু মুক্তিযোদ্ধাদের চিনলেও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের চিনেন না। আগামী এক বছরের মধ্যে যদি হাসামদিয়া গণহত্যার নিহত শহীদদের রাষ্ট্রিয় স্বীকৃতি দেয়া না হয় তাহলে এক বছর পর প্রয়োজনে যুদ্ধ ঘোষনা দেবো। তিনি সরকারের প্রতি অবিলম্বে নিহতদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান ও পরিবারগুলোকে শহীদ পরিবারের মর্যাদা দানের দাবী জানান।
ব্যারিষ্ঠার শাহ্ খুররম রাহুল কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আসম আব্দুর রবের স্ত্রী মিসেস তানিয়া রব, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মুক্তিযোদ্ধা শাহ্ মোঃ আবু জাফর, মুক্তিযোদ্ধাকালীন সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন নূর মোহাম্মদ বাবুল, বোয়ালমারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কমান্ডার অধ্যাপক আব্দুর রশীদ, মুক্তিযোদ্ধাকালীন কমান্ডার নওয়াব উদ্দিন আহমেদ টোকন, উপজেলা বিএনপি সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম কামাল, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু প্রমূখ। অনুষ্ঠানে পাকবাহিনীর হাতে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে হাসামদিয়ার শহীদ পরিবারের মাঝে অনুদান প্রদাণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১৬ মে পাক হাসামদিয়া গ্রামে পাক বাহিনীর গুলিতে ৩৩ গ্রামবাসী নিহত হন। তবে শহীদ পরিবারগুলো আজও রাষ্ট্রিয় স্বীকৃতি পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.