মনবিষয়ক গানের বিপরীত থেরাপি

ইয়াছিন খন্দকার লোভা

গান-১
অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন
পেলাম খুঁজে এ ভুবনে আমার আপনজন।
তুমি কাছে টেনে নাওনা প্রিয় আমাকে, আমি ভালোবাসি তোমাকে।
এ সময় কেউ কারো থেকে মন পাওয়ার সাধনাটা যেন কোরিয়া আমেরিকা রাশিয়ানদের সাথে যুদ্ধ করে বিজয়ী হওয়ার মতো হয়ে গেছে। এখন আবার হাজার কষ্টে মন দিয়ে মনের জয় পেয়েও লাভ হয় না। কারণ এ ভুবনে অনেকের জন্য নির্ধারিত আপনজন শুধু একটা নয় হাজার থাকে। তাই কাছে টেনেও একটা মনকে দূরে ফেলে দিতে তাদের কোনো দ্বিধাও থাকে না। সেজন্য ভালোবাসা যতই বিলিয়ে দেয়া হয় তত তারা নিজেকে আরো শক্তিধর মনে করে থাকেন। এগুলো সত্যিকারে বাস্তবিকভাবে ভালোবাসার হিসাব-নিকাশটা নিজেরা কখনোই বুঝতে চায় না।

গান-২
এই মন তোমাকে দিলাম,এই প্রেম তোমাকে দিলাম।
তুমি চোখের আড়াল হও, কাছে কিবা দূরে রও, মনে রেখো আমিও ছিলাম।
আজকাল ফ্রেশ মন দিয়ে অন্যের নিকট হতে ফ্রেশ মন খুঁজে পাওয়া খুবই দুষ্কর পড়ছে। কেউ কারো মনের মানুষ থেকে কিছুটা সময় চোখের আড়াল হলেই এখন অন্যের দিকে নজর বসিয়ে দেয়। যা আজকালকার এক শ্রেণীর মানুষের স্বভাবে পরিণত হয়েছে। তারা সবসময় একজনের সাথে কাছে থাকার অভিনয়ে ব্যস্ত থাকে। এবং অন্যকে ঠকিয়ে-ঠাকিয়ে কিভাবে নানা কিসিমের মনের ইতিহাস আদায় করা যায় সে পথটাই খুঁজে বেড়ায়।
গান-৩
ও পাগল মন, মনরে।
মন কেন এত কথা বলে।
পথেঘাটে পাগল ব্যক্তিরা যেখানে অনেক কিছুই বলে বেড়ান সেখানে মনটাও পাগলের মতো করে আবোলতাবোল বলবে এবং নানা প্রকারের চাহিদা থাকবে এটা স্বাভাবিক। তবে পাগল ব্যক্তিরা পথেঘাটে যত কথাই বলুক তাতে তাদের দোষের কিছুই থাকে না। কিন্তু কেউ কারোর জন্য মনটা যদি পাগলের মতো করে একটি শব্দের কথা বলে আরেকটা মন পেতে চায় সেখানে দোষের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আসলে একজন মানুষের মনটাকে আরেকজন মানুষ উপযুক্ত প্রাধান্য দিয়ে থাকে না। এবং মূল বিষয়টাও বুঝতে চায় না।

গান-৪
মনের সাথে মনের মিল হয় যদি একবার
দেখলে তারে লাগে ভালো রূপের কী দরকার।
মনের সাথে আরেকটি মন মিলে গেলে সেখানে কোনো এক প্রেম ভালোবাসার কাহিনীর সমাপ্তি ঘটে। আজকালকার যুগে সত্যিকারের ভালো মন পাওয়া খুব দুষ্কর হয়ে পড়ছে।
মনের সাথে আরেক মনের জোড়া লেগে গেলে সে েেত্র রূপের খুব প্রয়োজন হয় না। কিন্তু এখনকার যুগে মনের চেয়ে রূপের বিষয়টা হলো সবচেয়ে আসল। যার রূপ সুন্দর সে এখন একধাপ এগিয়ে। বাস্তবে ভালো মনকে এখন আর কেউ গুরুত্ব এবং প্রাধান্য দেয় না বললেই চলে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.