বিশ টাকার লোভ

জোবায়ের রাজু

রনি ভাইয়া পাশের বাড়ির ইলার প্রেমে পড়েছে। এ কথা জানলাম তখনই, যখন রনি ভাইয়া আমার হাতে একটা ভাঁজ করা কাগজ দিয়ে বলল, ‘যা, এটা ওই বাড়ির ইলাকে দিয়ে আয়। কেউ যেন টের না পায়!’
ভাইয়ার কথা শুনে আমি দ্বিমত পোষণ করলাম। ইলারা খুবই রক্ষণশীল ফ্যামেলি। ওর বাবা বদমেজাজি। জমিদারি আচরণের জন্য তাকে এলাকার সবাই ভয় পায়। আমাদের এলাকার কুখ্যাত মাস্তান কোপা শামসুও ইলার বাবাকে দেখে ডরে কাঁপতে থাকে। সেই ব্যাটার মেয়ে ইলাকে প্রেমপত্র দিতে যাব আমি? কখনো না। একবার যদি ইলার বাবার হাতে ধরা পড়ি, জন্মের মতো শিক্ষা পেয়ে যাব। না, বাবা! আমি পারব না রনি ভাইয়ার প্রেমপত্র পিয়ন হয়ে ইলার হাতে তুলে দিতে।
Ñ নারে ভাইয়া, তুই যা।
Ñ প্লিজ ভাই, তুই দিয়ে আয়। বিশ টাকা পাবি।
ওয়াও!!! বিশ টাকা? আমি ছেলেটা হয়তো খুব লোভি! তা না হলে সামান্য বিশ টাকার লোভ সামলাতে পারছি না কেন? রনি ভাইয়া যখন আমাকে বিশ টাকা দিবে, তো সাহস করে যাই না একবার ইলাদের বাড়ি! দেখি, যা করে আল্লায়।

২.
ভয়ে ভয়ে ইলাদের বাড়ি গেলাম। জানতাম না দুর্ভাগ্য আমার জন্য অপেক্ষা করছে। ইলার বাবা আমায় দেখে তেড়ে এলেন।
Ñ দেখি, তোর হাতে ওটা কী?
Ñ না মানে ...!
Ñ বের কর বলছি, তা না হলে এক থাপ্পড়ে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিবো বলছি।
Ñ চি..চি..চিঠি...!
ইলার বাবা চিঠি পড়ছেন। আমার বুক কাঁপাকাঁপি আরম্ভ হয়ে গেছে। এভাবে ধরা পড়বো ভাবিনি। আগে জানলে ২০ টাকা কেন, ২০ কোটি টাকা দিলেও এখানে আসতাম না। লোভে যে পাপ, এ কথা আবার প্রমাণিত হলো।
চিঠি পড়ে ইলার বাবা আমার গালে ঠাস করে চড় বসিয়ে দিলো। একটা নয়, পরপর কয়েকটা।
Ñ আমার মেয়েকে চিঠি লিখিস? এত বড় সাহস তোর? ওই তোর বাপ না মাস্টার? মাস্টারের পোলা হয়ে এসব আকাম করিস? দাঁড়া, দেখাচ্ছি! তোর বাপকে খবর দে! এর বিচার হবে।
ইলাদের আমগাছের সাথে আমাকে বেঁধে রাখা হলো। বাড়ির দারোয়ান, ঘরের চাকর, বাগানের মালি সবাই জড়ো হয়ে এসে আমাকে দেখতে লাগলো। যেন আমি চিড়িয়াখানার এক হনুমান।
ইলাদের কাজের মেয়েকে আমাদের বাড়িতে পাঠানো হলো আমার আব্বার জন্য। ইলার বাবার বক্তব্যÑ এই অন্যায়ের বিচার আমার আব্বাই করবে। ইলার আব্বার চেয়েও আমি আমার আব্বাকে বেশি ভয় পাই। কী করে বলবো, ইলাকে আমি চিঠি লিখিনি। রনি ভাইয়াই লিখেছে।
চিনা বেত নিয়ে আব্বা এলেন। আব্বাকে আজ আরো বেশি ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছে। ছেলের এই কুকর্ম হয়তো তিনি মানতে পারছেন না। অথচ ছেলের কোনো দোষ নেই।
ইলার আব্বার কাছে আসল কাহিনী শুনে আব্বা আমায় গরুপিটুনি দিলেন।
Ñ তোর বয়স কত হইছেরে? এই বয়সে পিরিতের ভিমরতি? তুই আমার পোলা হয়ে এই কুকর্ম করিস?
Ñ আমি না আব্বা। রনি ভাইয়া আমারে পাঠাইছে।
Ñ চুপ কর হারামি, রনি তোর মতো এত বেয়াদব না।
ইলার বাবা বললÑ
Ñ দেখেছো ছেলের কাণ্ড! এখন ভায়ের ঘাড়ে দোষ চাপে। কত বড় বেয়াদব।

৩.
আমাকে বাড়িতে আনা হলো। আব্বার এমন রাম পিটুনি আগে আর খাইনি। আম্মা কাঁদছেন। এসবের জন্য দায়ী রনি ভাইয়া। অথচ কেউ সেটা জানলো না, মাঝখান দিয়ে ফেঁসে গেলাম আমি।
Ñ ভাইয়া কোথায় আম্মা?
Ñ রনি কিছুক্ষণ আগে হঠাৎ করে তোর সেজো খালার বাড়ি চলে গেছে।
আম্মা কেঁদেই যাচ্ছেন। রনি ভাইয়া তাহলে ভয়ে সেজো খালার বাড়ি...? আমাকে ফাঁসিয়ে দিয়ে সে এখন খালার বাড়ি বেড়াতে গেছে? আর বিশ টাকার লোভে আমি মার খেলাম।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.