ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংয়ের লেনদেন শুরু আজ

সূচকের টানা পতনে বিনিয়োগকারীদের হতাশা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

পুঁজিবাজারে অব্যাহত রয়েছে সূচকের পতন। গত ১১টি কার্যদিবসের সব ক’টিতেই সূচক হারিয়েছে দেশের দুই পুঁজিবাজার। ৩০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক এ পতন অব্যাহত ছিল গতকালও। আর এ ১১টি কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচকটি হারায় ৩০০ পয়েন্টের বেশি। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক মূল্যসূচকের অবনতি হয় ৮৮০ পয়েন্ট। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া সূচকের ধারাবাহিক এ পতনে হতাশায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
গতকাল মতিঝিলে ডিএসইর বিভিন্ন ব্রোকার হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের ট্রেডিং ফোরগুলোতে গিয়ে উপস্থিত বিনিয়োগকারীদের সাথে কথা বললে তারা তাদের হাতাশার কথা জানান। তাদের মতে, বছরের শুরুতে একবার তারল্য সঙ্কটের কথা বলে পুঁজিবাজার সূচকের ব্যাপক পতন হয়। সে সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার শুরু হয়েছে পতন। এ পতন আর থামছে না। আগেও বিভিন্ন সময় পুঁজিবাজারে সংশোধনের ঘটনা ঘটেছে। স্বাভাবিক নিয়মেই সংশোধন শেষ করে বাজার আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে; কিন্তু এবার গত ১১টি কার্যদিবসের একটিতেও তা হয়নি।
তারা আরো বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও পুঁজিবাজার কর্তৃপক্ষ বরাবরই বাজার নিয়ে ভালো ভালো কথা বলেন। সম্প্রতি কৌশলগত বিনিয়োগকারী বিষয়ে দেশের পুঁজিবাজারে একটি বড় অর্জনও হয়েছে। কিন্তু তাতেও বাজার পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। প্রতিদিনই একই থাকছে বাজার আচরণ। এভাবে আর কিছু দিন চলতে থাকলে বিনিয়োগকারীদের আর কোনো মূলধন অবশিষ্ট থাকবে না। এতে আবারো বিপর্যয়ের দিকে যাবে পুঁজিবাজার।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৩৭ দশমিক ১৩ পয়েন্ট হারায়। ৫ হাজার ৫৪৮ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি বুধবার দিনশেষে নেমে আসে ৫ হাজার ৫১১ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচক হারায় যথাক্রমে ১৬ দশমিক ৫৬ ও ৯ দশমিক ৬৬। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি হয় যথাক্রমে ১০৯ দশমিক ৯২ ও ৬৫ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট। এখানে সিএসই -৫০ ও সিএসই শরিয়াহ সূচক হারায় যথাক্রমে ৮ দশমিক ৫২ ও ৭ দশমিক ০৪ পয়েন্ট।
এ দিকে সম্প্রতি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) সম্পন্ন করা ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেডের লেনদেন আজ বৃহস্পতিবার শুরু হবে। ডিএসই ও সিএসই দুই স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটি ‘এন’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন শুরু করবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) মাধ্যমে গত ১০ মে কোম্পানিটির লটারিতে বরাদ্দপ্রাপ্ত শেয়ার বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে জমা হয়েছে। গত ১৮ মার্চ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানিটির আইপিও আবেদন গ্রহণ করা হয়। তার আগে গত ১৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদন দিয়েছে। ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড আইপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে ৩০ কোটি টাকা উত্তোলন করে। কোম্পানিটিকে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ৩ কোটি শেয়ার ইস্যু করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ার-প্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে এককভাবে ১০ টাকা ৪৯ পয়সা এবং সমন্বিতভাবে ১৩ টাকা ৮৭ পয়সা। এ ছাড়া বিগত পাঁচ বছরের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ার-প্রতি আয় (ইপিএস) গড় হারে হয়েছে সমন্বিতভাবে এক টাকা ৪৩ পয়সা এবং এককভাবে ৬৭ পয়সা।
কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড এবং এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।
গতকাল সূচকের উন্নতি দিয়ে দিন শুরু করার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে বাজারগুলো। ডিএসইতে প্রধান সূচকটি ৫ হাজার ৫৪৮ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করে প্রথম দিকে ৫ হাজার ৫৫৮ পয়েন্টে ওঠে। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই শুরু হয় বিক্রয়চাপ। দুপুর ১২টায় সূচকটি নেমে আসে ৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে। লেনদেনের এ পর্যায়ে সাময়িকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ডিএসই সূচক বেলা ১টায় পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৫৪২ পয়েন্টে। এ অবস্থান থেকে দ্বিতীয়বারের মতো বিক্রয়চাপ তৈরি হয় যা অব্যাহত থাকে দিনের শেষ পর্যন্ত। দিনশেষে ৩৭ দশমিক ১৩ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৫১১ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে স্থির হয় ডিএসই সূচক।
দুই পুঁজিবাজারের বেশির ভাগ খাতেই দরপতন হয় গতকাল। ঢাকায় ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ তিনটি প্রধান খাতেই বড় দরপতন হয় গতকাল। আর বীমা খাত ছিল দরপতনের শীর্র্ষে। ডিএসইর দরপতনের শীর্ষ দশ কোম্পানির ৬টিই ছিল বীমা কোম্পানি। এ ছাড়া প্রকৌশল, রসায়ন, জ্বালানি ও বিবিধ খাতে বড় দরপতন হয়। ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ৩৩৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৭১টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ২২৩টি। অপরিবর্তিত ছিল ৪৫টির দর। অপর দিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ২৩২টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৫০টির দাম বাড়ে, ১৫৭টির কমে এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.