শিক্ষকের ভূমিকায় পুলিশ কর্মকর্তা

এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখা গেল শিক্ষকের ভূমিকায়। চক ও ডাস্টার হাতে কালো ব্লাক বোর্ডে চক্রবৃদ্ধি হারের একটি অঙ্কের সমাধান লিখেন তিনি। তারপর শিক্ষার্থীদের তাদের খাতায় নোট করাতে বলেন এবং সমাধানের পুরো প্রক্রিয়া তিনি খণ্ড খণ্ড করে বুঝিয়ে দেন। গণিতভীতি কাটিয়ে তুলতেই তার এই অঙ্ক কষা। এরপর ইংরেজি একটি বাক্য লিখে তার কোন শব্দটি কী তাও বুঝিয়ে দিলেন তিনি। স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে ডিম, দুধ খাওয়ার পরামর্শ দিলেন তিনি। জীবনকে সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী বই উপহার দিলেন। পাশাপাশি একটি গানও শোনান তিনি।
গত ১৩ মে মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাস নিয়ে সবাইকে বিস্মিত করেন মিরসরাই সার্কেলের এএসপি মসিয়ার রহমান। পরদিন ১৪ মে উপজেলার খৈয়াছড়া উচ্চবিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কাস নেন তিনি।
সেদিন বেলা ১১টায় দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের গণিত কাস নেয়ার কথা ছিল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোসেনের। তার পরিবর্তে পুলিশ কর্মকর্তা মশিয়ার রহমানকে দেখে শিক্ষার্থীরা বিস্মিত হন। তিনি বলেন, ‘আমি পুলিশ তবে তোমাদের বড় ভাইয়ের মতো, আমাকে ভাই বলে ডাকতে পারো। আমার কাছে তোমাদের যেকোনো সমস্যার কথা বলতে পারো।’
খৈয়াছড়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল শাহরিয়া, সানজিদ মাহমুদ ইভান, হালিমাতুছ সাদিয়া, তাসনিয়া ইজদানী বলেন, ‘পুলিশ স্যারের ৫০ মিনিটের কাস আমরা খুব উপভোগ করেছি। আমরা চাই মাঝে মধ্যে তিনি এমন আমাদের আরো কাস নেবেন। উনার প্রতিটি কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি, তা আমাদের জীবন চলার পথে কাজে লাগবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘মিরসরাই সার্কেলের এএসপি মশিয়ার রহমান সাহেবের এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। উনার দুটি কাস দেখার আমার সুযোগ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বোঝানোর কৌশল আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। উনি পুলিশে চাকরি না করে শিক্ষকতা করলে আরো ভালো করতেন।
খৈয়াছড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোসেন জানান, ‘আমি এটিকে মহৎ উদ্যোগ হিসেবে দেখছি। পুলিশ কর্মকর্তারা সবসময় ব্যস্ত থাকেন তার মধ্যেও তিনি এভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উদ্বুদ্ধ করছেন। এটি একটি অনন্য উদাহরণ।’
এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মশিয়ার রহমান বলেন, ‘আমি গ্রামের বাড়ি গেলে বোনের পড়াশোনার খবর নিই, তাদের স্কুলে যাই; শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করি। এখানে কর্মস্থলে তো আমার বোন বা ভাই কেউ নেই। ওই শিক্ষার্থীরা আমার ভাইবোন, তাদের পড়াশোনায় একটু দেখভাল করলে আমার ভালো লাগে। তাই ক্রমান্বয়ে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে কাস নেবো।’

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.