উলিপুরে ধান-চাল ক্রয় শুরু না হওয়ায় লোকসানের মুখে কৃষকেরা

আনিছুর রহমান উলিপুর (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয় শুরু না হওয়ায় ইরি-বোরো মওসুমের শুরুতেই লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। শ্রমিক সঙ্কটের কারণে ধান কাটা-মাড়াইয়ের খরচ মেটাতে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা।
ধান ক্রয় শুরু না হওয়ায় বাজারগুলো ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে একরপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। উপজেলায় ধান ক্রয়ের বরাদ্দ না থাকায় এ অঞ্চলের কৃষকেরা লাভের আশায় ধান চাষ করলেও লোকসানের মুখে পড়েছেন।
এ দিকে বৈরী আবহাওয়া ও ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে কৃষকেরা জালের ওপর ধান শুকাচ্ছেন। সরকার প্রতি মণ ধান এক হাজার ৪০ টাকা ও প্রতি কেজি চাল ৩৮ টাকা নির্ধারণ করেছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খালেদুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় এক হাজার ৩১৮ টন চালের বরাদ্দের অনুকূলে আগামী ২০ মে’র মধ্যে মিল মালিকদের সাথে চাল ক্রয়ের চুক্তি সম্পাদন হওয়ার পর বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধি পাবে। তবে এখন পর্যন্ত ধান ক্রয়ের কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি ইরি-বোরো মওসুমে উপজেলায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষাবাদ হয়েছে ২২ হাজার হেক্টর জমিতে। মওসুমের শুরুতে বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে এবার একর প্রতি অনেক বেশি খরচ হয়। বিশেষ করে ব্রি-২৮ জাতের ধানক্ষেতে নেক-ব্লাস্ট ছত্রাক আক্রমণ করায় ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ধান পাকা শুরু হলে এ অঞ্চলে শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ পরিস্থিতিতে কৃষকেরা ধান কাটা-মাড়াই শুরু করলে শ্রমিক সঙ্কট দেখা দেয়।
কৃষকেরা জানান, প্রতি ৩০ শতক জমিতে ধান উৎপাদন করতে অঞ্চল ভেদে খরচ হয়েছে আট থেকে ১০ হাজার টাকা। তবে বর্গাচাষিদের ক্ষেত্রে জমির বর্গাংশসহ খরচ পড়েছে প্রায় ১৬ থেকে ১৯ হাজার টাকা। হেক্টর প্রতি ধানের ফলন হচ্ছে ছয় টন। এতে ধান বিক্রি করে জমির মালিকেরা কিছু লাভবান হলেও লোকসানের মুখে পড়েছেন বর্গাচাষিরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন বাজারগুলো মনিটরিং করছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.