সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর বাজারের একটি দৃশ্য :নয়া দিগন্ত
সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর বাজারের একটি দৃশ্য :নয়া দিগন্ত
সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক

জাফলং সড়ক চলাচলের অনুপযোগী সংস্কারের নামে অর্থ লোপাট

রেজওয়ান করিম সাব্বির জৈন্তাপুর (সিলেট)

সিলেট জেলার ব্যস্ততম মহাসড়ক সিলেট-তামাবিল। বিগত ২০০০ সালে কুয়েত সরকারের অর্থায়নে মহাসড়কটি বর্ধিত করা হয়। এরপর ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সওজ কর্তৃপ মহাসড়কটি দেখভাল করছে। সংস্কার কাজের জন্য বিভিন্ন সময় কর্তৃপ বরাদ্দ নিয়ে মরা পাথর, পচা ইট, মাটি মিশ্রিত বালু ব্যবহার করে দায়সারা সংস্কার কাজ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে কাজের এক মাসের মাথায় আবার বড় বড় গর্ত হয়েছে সড়কটিতে।
সরেজমিন সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের বটেশ্বর থেকে জাফলং পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায় সড়কটিতে ছোট বড় কয়েক হাজার গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বাজার এলাকায় মাত্রাতিরিক্ত অবস্থা বিরাজ করছে। রাস্তার বালু পাথর উড়ে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। তীব্র গতিতে যানবাহন চলাচলের ফলে রাস্তার ধুলোবালু উড়ে গিয়ে হোটেল রেস্তোরাঁগুলোতে প্রবেশ করছে। শুধু তাই নয় এ রাস্তা দিয়ে দেশী-বিদেশী হাজার হাজার পর্যটককে চলাচল করতে হয়ে মুখে কাপড় বেঁধে।
সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের শুক্রবারী বাজার, সিলেট গ্যাস ফিল্ড, হরিপুর বাজার, বাগেরসড়ক, দামড়ী, ফরফরা, সারীঘাট দণি বাজার, ফেরিঘাট ব্রিজ, ইমরান আহমদ মহিলা ডিগ্রি কলেজ গেট, জৈন্তাপুর বাজার, চাঙ্গীল বাজার, কদমখাল, রাংপানী, বাংলাবাজার, আসামপাড়া, আদর্শগ্রাম, শ্রীপুর, আলুবাগান, মোকামবাড়ি, জেলা পরিষদের ডাক বাংলোর সম্মুখ, নলজুরী বাজার, বিজিবি সম্মেলন কেন্দ্র, তামাবিল, মামার দোকান, বল্লাঘাট এলাকায় রয়েছে কয়েকটি পুকুর সমান গর্ত, এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ছোট ছোট কয়েক সহস্রাধিক গর্ত। এ দিকে জৈন্তাপুর হতে বল্লাঘাট পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে সময় লাগে ২ ঘণ্টার অধিক সময়। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণ, দেশী-বিদেশী পর্যটক, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিার্থীদের। স্থানীয় এলাকাবাসী- মরতুজ আলী, হুমায়ুন রশিদ, গোলাম মোস্তফা, আবদুর রহমান, আবদুর রকিব, হারিছ আলী, ইব্রাহীম আলী, মোবারক আলী, এরশাদ মিয়া, জয়দোল হোসেন, আবদুল মান্নান, ইলিয়াছ উদ্দিন লিপু, জালাল উদ্দিন, বশির উদ্দিন, আবুল হোসেন, নজির আলী, আলী হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার শতাধিক ব্যক্তির সাথে আলাপকালে তারা ােভের সাথে জানান, সিলেট-তামাবিল সড়কটি এশিয়ান হাইওয়ে বা মহাসড়ক হলেও, এটি গ্রামীণ সড়ক হিসেবে সবার কাছ চিহ্নিত হয়। সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রকাশ কয়েক মাস আগে জৈন্তাপুর থেকে জাফলং পর্যন্ত ১৯০ কোটি টাকার সংস্কার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। অথচ রাস্তাটি ব্যবহারকারীরা সংস্কারের দৃশ্যমান কোনো কাজ দেখতে পাচ্ছে না। বৃষ্টি হলে এসব স্থানে কাদায় পরিপূর্ণ আর রোদের দিনে ধূলিঝড়ে পরিণত হচ্ছে।
অন্য দিকে সওজ কর্তৃপ রাস্তা সংস্কারের নামে মাঝে মধ্যে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যৎসামান্য নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার করে যেন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর শাখা প্রকৌশলী মাসুম আহমদ জানান ২৪ এপ্রিল জৈন্তাপুর হতে মামার দোকান ও হরিপুর বাজার এবং শুক্রবারী বাজার রাস্তার কাজের জন্য ১৩৮ কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে। তাড়াতাড়ি এসব স্থানে সিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে। এ ছাড়া সিলেট-জৈন্তাপুর পর্যন্ত রাস্তার গর্তগুলো ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌরীন করিম জানান রাস্তাটি সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপ বরাবর মৌখিক ও লিখিতভাবে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। একনেকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের পূর্ণ কাজের প্রস্তাব পাস হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন রাস্তাটির উন্নয়ন কাজের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান রাস্তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপকে জানিয়ে আসছি। আশারাখি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন রাস্তাটি সংস্কারের ব্যাপারে কার্যকর পদপে নেবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.