মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

খুলনার জনগণের সাথে হিপোক্রেসি করা হয়েছে, গাজীপুর নিয়ে নতুন ভাবনা : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদের আগেই খালেদা বিএনপির চেয়ারপারসন কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন বলে প্রত্যাশা করছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুধবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়াপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বলেন, ঈদ পর্যন্ত ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) কারাগারে থাকবেন এটা আমরা মনে করি না। ঈদের আগে অবশ্যই তিনি কারাগার থেকে বেড়িয়ে আসবেন- এটা আমাদের বিশ্বাস। আমাদের দেশের মধ্যে আইনের যে সিস্টেম আছে তাতে মনে করি যে, এটাই হওয়া উচিৎ। এছাড়া খুলনা সিটি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে মন্তব্য করে অবিলম্বে কমিশন পুনর্গঠনের দাবি জানান তিনি। বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে খুলনার জনগণের সাথে হিপোক্রেসি করা হয়েছে। তাই গাজীপুর নির্বাচন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। আলাপচারিতার সময় বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ম্যাডামের বিরুদ্ধে এখন ৬টা মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানো আছে। সেই মামলাগুলো নিয়ে আমরা হাইকোর্টে মুভ করবো। আইনজীবীদের সাথে আলাপ করেছি। আমরা প্রত্যাশা করছি যে, আগামী ৭/১০ কর্ম দিবসের মধ্যেই ওইসব মামলায় জামিন পাওয়া যাবে।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে জড়ানোর কোনো ভিত্তি নেই দাবি করে তিনি বলেন, এই মামলার সাথে বেগম জিয়ার কোনো সম্পর্কই নাই, উনি জানতেনও না এই ফান্ড আসছে, এই ফান্ড যাচ্ছে। উনার কোনো সই নাই। ট্রাস্টি বোর্ডে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই তাকে কি করে আসামী করা যায়? নিম্ন আদালতে যে বিশ্বাস ভঙ্গের কথা বলা হয়েছে তা কিন্তু প্রমাণ করতে পারেনি। নিম্ন আদালতে রায় দিয়ে দিয়েছেন। আমরা আশাবাদী যে, উচ্চ আদালতে উনি মুক্তি পাবেন।

গতকাল সকালে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৪ সদস্যের বেঞ্চ জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাই কোর্ট যে জামিন দিয়েছিল, তা বহাল রেখেছেন। উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে এ মামলার রায়ের পর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পুরনো ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।

গাজীপুরে নির্বাচনে নতুন কৌশল নিয়ে এগুনোর কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খুলনার জনগণের সাথে হিপোক্রেসী করেছে তারা। সেখানকার জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অবশ্যই গাজীপুরের নির্বাচনে নতুন করে ভাববো, নতুন স্ট্রাটেজি নেব অথবা সিদ্ধান্ত নেবো নতুন করে। আলোচনা হবে আমাদের পার্টির সব লেভেলে। কারণ খুলনার নির্বাচনটা নি:সন্দেহে আই ওপেনার। সব মিলিয়ে আমরা চিন্তা করবো।

গাজীপুরের নির্বাচনে আপনারা যাচ্ছে না এটাই কি ধারণা করা যায়- এমন প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা গাজীপুরের নির্বাচনে যাবো না এটা আমরা বলছি না। আমরা বলছি যে, এই নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় ও এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব না। এটা আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। যাবো কি যাবো না- বহু রাজনৈতিক কৌশল আছে, বহু রাজনৈতিক প্রশ্ন আছে। সেটা আমরা আলোচনা করে বসে সিদ্ধান্ত নেবো।

খুলনা সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীরা নতুন কৌশল নিয়ে ভোট করেছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, খুলনায় ক্ষমতাসীনরা যেভাবে নির্বাচন করছে- এটা নতুন কৌশল। কৌশলটা একেবারে নতুন। দৃশ্যত ভালো, সুন্দর, শান্ত। ভেতরে সব কিছু গোলমাল হয়ে যাচ্ছে। কিভাবে করেছে ভয়-ভীতি, ত্রাস সৃষ্টি করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে সেখানে একটি ক্ষেত্র তৈরি করেছে তারা।

তিনি দাবি করেন খুলনায় সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতেন।

নজরুল ইসলাম খান অসুস্থ
গুলশানে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনার আগে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থায়ী কমিটির সদস্য অসুস্থ নজরুল ইসলাম খানকে দেখতে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি চিকিৎসকদের কাছে তার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.