সাকিব আল হাসান
সাকিব আল হাসান

বিশ্ব একাদশে খেলবেন না সাকিব, কারণ কী?

নয়া দিগন্ত অনলাইন

লর্ডসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিশ্ব একাদশের হয়ে অংশ নেয়ার কথা ছিল সাকিব আল হাসানের। তবে সেখান থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-২০ অধিনায়ক। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

আইসিসি বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ব্যক্তিগত কারণে বিশ্ব একাদশে খেলবেন না সাকিব।

তবে কারণটা পুরোপুরি ব্যক্তিগত নয়। কিছুটা জাতীয় স্বার্থেও। সাকিব জানিয়েছেন, আফগানিস্তান সিরিজে নিজের সেরাটা দিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সাকিব বলেন, 'আফগানিস্তান সিরিজ আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই সিরিজে সেরা অবস্থায় থাকতে চাই, যেন পারফর্ম করতে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়। তা ছাড়া বাংলাদেশের খেলাও তো ভারতেই। আমার জন্য ভালো হবে আমি যদি কয়েক দিন বিশ্রাম নিয়ে তারপর খেলতে পারি।'

এদিকে বিশ্ব একাদশে সাকিব না খেললেও ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল যথারীতি খেলবেন।

এই একাদশে যুক্ত করা হয়েছে নেপালের ১৭ বছর বয়সী স্পিনার সন্দ্বীপ লামিচানেকে। একাদশে রয়েছেন শহিদ আফ্রিদি, দিনেশ কার্তিক, রশিদ খান, মিচেল ম্যাকক্লেনঘান, শোয়েব মালিক, হার্দিক পান্ডিয়া, থিসারা পেরেরা, লুক রনকি। অধিনায়কত্ব করবেন ইয়ান মর্গান।

একাদশে সাকিবের বদলি হিসেবে এখনো কারো নাম ঘোষণা করা হয়নি।

আগামী ৩১ মে লর্ডসে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। মূলত ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্টেডিয়ামগুলোর মেরামতের জন্য অর্থ সাহায্যের জন্যই এ ম্যাচের আয়োজন করেছে আইসিসি।

প্রীতি ম্যাচের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল : ক্রিস গেইল, এভিন লুইস, আন্দ্রে ফ্লেচার, মারলন স্যামুয়েলস, দিনেশ রামদিন, কার্লস ব্রাথওয়েট (অধিনায়ক), আন্দ্রে রাসেল, স্যামুয়েল বদ্রি, রোভম্যান পাওয়েল, কেস্রিক উইলিয়ামস, রিয়াদ এমরিট, অ্যাসলে নার্স, কিমো পল।

বিশ্ব একাদশ : তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ), শহিদ আফ্রিদি, শোয়েব মালিক (পাকিস্তান), ইয়ন মরগান (ইংল্যান্ড, অধিনায়ক), লুক রনকি, মিচেল ম্যাকক্লেনঘা (নিউজিল্যান্ড), দিনেশ কার্তিক, হার্দিক পান্ডিয়া (ভারত), থিসারা পেরেরা (শ্রীলঙ্কা), রশিদ খান (আফগানিস্তান) ও সন্দীপ লামিচানে (নেপাল)।

 

শেরেবাংলায় জাতীয় দলের মাঝে গ্রিনিজ

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের অবকাঠামো দেখে বেজায় খুশি ক্যারিবিয়ান লিজেন্ড গর্ডন গ্রিনিজ! তিনি যে সময়ে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তখন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামকেন্দ্রিক ছিল ক্রিকেটের সবকিছু। বিসিবি কার্যালয়ও ছিল বঙ্গবন্ধুতে। গ্রিনিজ শীষ্যদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুতেই প্র্যাকটিস করাতেন। বিকেএসপিও ছিল তার আরেক ভেনু। কাল বাংলাদেশের হোম অব ক্রিকেট দেখতে গিয়েছিলেন ওই লিজেন্ড। ঘুরে ঘুরে দেখলেন তিনি সবকিছু। এতদিন যা দেখে এসেছেন তা টিভি স্কিনে। এবার স্বচক্ষে দেখলেন সব। একপর্যায়ে স্টেডিয়ামে অনুশীলনরত ক্রিকেটারদের কাছেও যান তিনি। ক্রিকেটারেরা এক সময়ে ব্যাট হাতে দুর্ধর্ষ এক ক্রিকেটারকে পেয়ে ঘিরে ধরেন। তার সঙ্গে কথা বলেন। গ্রিনিজও কিছুক্ষণ তাদের সঙ্গে সময় অতিবাহিত করেন। কিভাবে এগিয়ে যেতে হবে সে বিষয়েও কথা বলেন তিনি মাশরাফি-মুশফিকদের সঙ্গে। এ সময় বাংলাদেশের একটা জার্সি উপহার দেন মাশরাফি, যাতে ছিল খেলোয়াড়দের স্বাক্ষর। মুশফিক উপহার দেন জাতীয় দলের ক্যাপ। বিসিবির পক্ষ থেকেও ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে অভিবাদন জানানো হয়। বিসিবির পরিচালক এনায়েত হোসেন সিরাজ, সিইও নিজামুদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পাঁচ দিনব্যাপী সফরে কাল তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেন। এ সময় তিনি ’৯৭ সনে আইসিসি ট্রফিতে অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ’৯৯-এ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে খেলার যোগ্যতা অর্জনের সাফল্যের স্মৃতিচারণ করেন। মালয়েশিয়ার কিলাত কাব মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওই আইসিসি ট্রফি। ওই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিষয়টা ছিল খুবই চ্যালেঞ্জিং। তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ ওই ট্রফি জিতে সেদিন গোটা বাংলাদেশ উৎসবে মেতে উঠেছিল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে এ আনন্দে মাতোয়ারা ছিল গোটা বাংলাদেশ। আকরাম খানের নেতেৃত্বে অংশ নেয়া সে দলকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। গর্ডন গ্রিনিজকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ দলকে পুরস্কারে এক রকম ভাসিয়ে দেয়ার অবস্থা। সে দলটির সঙ্গেও এ সফরে সাক্ষাৎ করেন এ ক্যারিবিয়ান লিজেন্ড। আকরাম খান (বর্তমানে ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক), খালেদ মাহমুদ সুজন (বর্তমানে ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক), খালেদ মাসুদ পাইলট, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু (প্রধান নির্বাচক), সাইফুল ইসলাম, হাসিবুল হোসেন শান্ত প্রমুখ ক্রিকেটারদের সবাইকে না পেলেও যারা বাংলাদেশে ছিলেন তাদের বেশির ভাগ বিসিবি আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সাক্ষাৎ করেন সাবেক এ কোচের সঙ্গে।

এখন যারা জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন, তারা সেদিনকার খেলাটি সম্ভবত টিভিতে দেখেছেন বা রেডিওতে সম্প্রচারিত ধারাবিবরণী শুনেছিলেন। অনুষ্ঠানে গ্রিনিজ বলেন, ‘সেদিন কুয়ালালামপুরে যা ঘটেছিল, তার বিস্ফোরণ ঢাকাতেও ঘটেছিল!’

তিনি বলেন, ‘সে সময়ে অমন সাফল্য পাওয়াটা ছিল চ্যালেঞ্জিং। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাফল্যের সূচনা সেখান থেকেই শুরু।’ তিনি বলেন, ‘আমি তাদের সাফল্য পাওয়া নিয়ে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলাম। কিন্তু আমি জানতাম, দলে যারা ছিলেন তারা অভিজ্ঞ এবং তারা সঠিক নির্দেশনা মানলে সাফল্য পাওয়া সম্ভব ছিল।’ অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ওই ম্যাচের কিছু ভিডিও কিপ প্রদর্শিত হয়। যেখানে উইনিং রান নেয়া (হাসিবুল হাসান কর্তৃক), উৎসবমুখর পরিবেশ। সাবের হোসেন চৌধুরীর এক্সসাইটমেন্ট, এগুলোও দেখানো হয়।

সেদিনকার বীর সেনানিদের মহানায়ককে তারা এক নজর দেখেছেন কাল মিরপুরে। সেদিন আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেয়া। এবং বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানের মতো দলকে হারানোর মাধ্যমে টেস্ট স্ট্যাটাস লাভের পথ সুগম হয়। তৎকালীন বোর্ড সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর নামও তিনি স্মরণ করেন। যার অসাধারণ দক্ষতায় এবং তৎকালীন আইসিসি চেয়ারম্যান প্রায়ত জগমোহন ডালমিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস লাভ এটা ভুলে যাওয়ার মতো নয়। যদিও ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার পরই হঠাৎই গ্রিনিজ চলে যান চাকরি ছেড়ে। কিছু অভিযোগও তিনি সেদিন করেছিলেন!

তবে অতীত তো অতীতই। যে সাফল্যের সূচনা তিনি করে দিয়ে গিয়েছিলেন তার কৃতজ্ঞতা আজো স্বীকার করছে বাংলাদেশ। তাইতো গর্ডনের এ আগমনকে আনন্দঘন করে তুলেছে বোর্ড। তার এ সফরের একটা উদ্দেশ্যও রয়েছে। তার সময়ের ক্রিকেটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ছাড়াও তার একটা ক্রিকেট স্কুলের জন্য সহায়তাও চেয়েছেন তিনি। এতে বিসিবি পাঁচ লাখ টাকা প্রদান করেছে।

৬৭ বছর বয়সের এ ক্যারিবিয়ান লিজেন্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ১৯৭৪ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে খেলেছেন। তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ১০৮টি টেস্ট ম্যাচ ও ১২৮টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন। টেস্টে রান করেন তিনি ১৯টি সেঞ্চুরিসহ ৭,৫৫৮ এবং ওয়ানডেতে রান করেছেন ১১ সেঞ্চুরিসহ ৫,১৩৪ রান।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.