প্রথম দিনই ৩৩৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ইন্ট্রাকোর

১৪ মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে ডিএসই সূচক

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

সূচকের উন্নতির কথা যেন ভুলেই গেছে পুঁজিবাজার। প্রতিদিনই পড়ছে তো পড়ছেই দেশের দুই পুঁজিবাজার সূচক। গতকাল নিয়ে ১২ কার্যদিবসের টানা পতনে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি নেমে আসে গত এক বছর দুই মাসের সর্বনি¤œ অবস্থানে। দর হারিয়েছে বাজারগুলোতে লেনদেন হওয়া কোম্পানির ৭৫ শতাংশের বেশি।
টানা সূচক পতনে প্রতিদিনই নতুন করে রেকর্ড গড়ছে পুঁজিবাজারগুলো। সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারগুলো আর এত দিন টানা সূচক হারায়নি। সর্বশেষ গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটানা আট কার্যদিবস সূচক হারিয়েছিল দেশের দুই পুঁজিবাজার। সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নির্দেশনা আর্থিক খাতে তারল্যসঙ্কট নিয়ে কিছুটা অস্থির ছিল যা পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছুটা ছাড় দেয়। এতে আবার গতিশীল হয়ে ওঠে পুঁজিবাজার। কিন্তু সম্প্রতি পুঁজিবাজার পরিস্থিতির আবার অবনতি ঘটতে শুরু করে। এখনো সেই তারল্যসঙ্কটকেই এ জন্য দায়ী করা হচ্ছে। আর বাজার আচরণের দিকে তাকালে প্রতিদিনই চোখে পড়ছে একই চিত্র। ভালোভাবে দিন শুরু করা বাজারগুলো লেনদেনের কোনো না কোনো পর্যায়ে প্রচণ্ড বিক্রয়চাপের শিকার হচ্ছে। দিনের বাকি সময় তা আর সামলে উঠতে পারছে না। এভাবে দিনদিন মুখ থুবড়ে পড়ছে পুঁজিবাজার।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৬৮ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট হারায়। ৫ হাজার ৫১১ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি গতকাল বৃহস্পতিবার দিনশেষে নেমে আসে ৫ হাজার ৪৪৩ দশমিক ৩১ পয়েন্টে। গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারির পর আর এত নিচে নামেনি ডিএসইএক্সের প্রধান সূচকটি। একই সময় ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচক হারায় ৩০ দশমিক ১৭ ও ১৩ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট।
দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে ২১৩ দশমিক ৮৬ ও ১২৮ দশমিক ৩২ পয়েন্ট। এটি পুঁজিবাজারটির এ বছরের একদিনে সর্বোচ্চ সূচক পতন। এখানে সিএসই-৫০ ও সিএসই শরিয়াহ সূচক হারায় ১৬ দশমিক ৮৮ ও ১৩ দশমিক ১৩ পয়েন্ট।
সূচকের বড় অবনতির মধ্যেও লেনদেন বেড়েছে দুই পুঁজিবাজারে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ গতকাল ৪৯২ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ৯৮ কোটি টাকা বেশি। বুধবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৩৯৪ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে ২৩ কোটি টাকা থেকে ৫১ কোটিতে পৌঁছে লেনদেন। তবে উভয় বাজারেই প্রচুর পরিমাণে ব্লক লেনদেন চোখে পড়ে।
এ দিকে তালিকাভুক্তির প্রথম দিনই ৩৩৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে বাজারে আসা কোম্পানিটি গতকাল সর্বশেষ ৪৩ দশমিক ৬ টাকায় লেনদেন শেষ করে। ৬৩ দশমিক ৯ টাকায় কোম্পানিটির লেনদেন শুরু হলেও বেশিক্ষণ এ দর ধরে রাখতে পারেনি কোম্পানিটি। লেনদেনের বিভিন্ন পর্যায়ে সামান্য ওঠানামা থাকলেও পতনের দিকেই ছিল বেশির ভাগ সময়। দিনের সর্বনি¤œ দর ছিল ৪৩ টাকা।
আগের দিনগুলোর মতো গতকাল সকালে সূচকের উন্নতি দিয়ে দিন শুরু করে দুই পুঁজিবাজার। ঢাকায় ডিএসইএক্স সূচকটি ৫ হাজার ৫১১ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট থেকে যাত্রা করে প্রথম দিকে ৫ হাজার ৫২৫ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। সূচকের এ অবস্থান থেকে শুরু হয় বিক্রয়চাপ। বেলা যত বাড়ছিল ততই বৃদ্ধি পাচ্ছিল বিক্রয়চাপ। দিনের বাকি সময় বাজার আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। দিনশেষে সূচকের ৬৮ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট হারায় ডিএসই।
দুই পুঁজিবাজারের বেশির ভাগ খাতেই দরপতন ঘটে গতকাল। ঢাকায় কমপক্ষে পাঁচটি খাতে শতভাগ কোম্পানি দর হারায়। এগুলো ছিল কাগজ, সেবা, টেলিকমিউনিকেশন, পাট ও বিবিধ খাত। এ ছাড়া ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে দরপতন ঘটে প্রায় ৯০ শতাংশ কোম্পানির। সূচকের অবনতিতে এ তিনটি খাতের অবদানই ছিল বেশি। ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ৩৩৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৪৪টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ২৫৪টি। অপরিবর্তিত ছিল ৩৮টির দর। অপর দিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ২২৫টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ২৬টির দাম বাড়লেও কমেছে ১৭৯টির। অপরিবর্তিত ছিল ২০টির দাম।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে ছিল নতুন কোম্পানি ইন্ট্রাকো। ৪৪ কোটি ৩০ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৯৬ লাখ ৬০ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ৩০ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় ২৫ লাখ ৯০ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে বিএসআরএম লি: উঠে আসে দ্বিতীয় অবস্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, ইউনাইটেড পাওয়ার, বেক্সিমকো লি:, মুন্নু সিরামিকস, ব্র্যাক ব্যাংক, গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মা ও কুইন সাউথ টেক্সটাইল।
ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন বাদ দিলে দিনের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ ছিল কুইক সাউথ টেক্সটাইল। ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে শ্যামপুর সুগার মিলস ৭.৪৯, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স ৭.০৫, এসইএম আইবিবিএল ফান্ড ৫.০১, এভিন্স টেক্সটাইল ৩.৯৪ ও জিপিএইচ ইস্পাতের ৩.৬৯ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। অপর দিকে দিনের দরপতনের শীর্ষে ছিল জুট স্পিনার্স। ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.