ইশাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনার নতুন মোড়, এবার ছাত্রীদের শোকজ
ইশাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনার নতুন মোড়, এবার ছাত্রীদের শোকজ

ইশাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনার নতুন মোড়, এবার ছাত্রীদের শোকজ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রীদের হাতে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইফফাত জাহান ইশার লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়েল প্রক্টর স্বাক্ষরিত এ নোটিশে ছাত্রীদের দোষী সাব্যস্ত করার বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল শৃঙ্খলা পরিষদের সুপারিশে ৩০ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দু’সপ্তাহের মধ্যে লিখিতভাবে প্রক্টর বরাবর কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে এ ছাত্রীদেরকে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১০ এপ্রিল মধ্যরাতে কবি সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে আপনি পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও গুজব ছড়িয়েছেন। ছাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তিকর অপবাদ পরিবেশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ছড়িয়েছেন। এ ধরনের পূর্বপরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র ও প্রচারণা হলের ছাত্রীদের ভীষণভাবে উত্তেজিত ও আতঙ্কিত করে। তাছাড়া, আপনি পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে সংঘবদ্ধ হয়ে ইশাকে মারধর, লাঞ্ছিত, গলায় জুতার মালা পরানো এবং তার বস্ত্র হরণ করেন। হলের গঠিত তদন্ত কমিটি এর সাথে আপনার জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। এ কার্যকলাপ ঢাবির নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও আইনের পরিপন্থী।
এতে আরো বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো জবাব না পেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তপক্ষ আপনার বিরুদ্ধে একতরফাভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এদিকে, কারণ দর্শানোর নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক ছাত্রীদের স্পষ্টভাবে দোষী সাব্যস্তের উল্লেখ করা তাদের মাঝে ভীতির সঞ্চার করেছে। এর আগেও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন তারা। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন।
এর আগে গত ১৯ এপ্রিল গভীর রাতে প্রাধ্যক্ষ কর্তৃক কোটা আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নেয়ায় বেশ কিছু ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দেন প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিতা রেজওয়ানা রহমান। যদিও তখন ছাত্রীদেরকে তাদের অভিভাবকদের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে দাবি করে হল প্রশাসন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃতীয় বর্ষের বাংলা বিভাগের এক ছাত্রী নিজের উদ্বেগ ব্যক্ত করে বলেন, ইশা কর্তৃক ছাত্রীদের যে নির্যাতন করা হয় তার বিচার হয় না। বরং প্রতিবাদ করলে ক্ষমতাশালীদের রোষানলে পড়তে হয় আমাদের। যা খুবই লজ্জার, ক্ষোভের।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়াকে কেন্দ্র করে সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে সংগঠিত ঘটনায় সাধারণ ছাত্রীরাও অংশগ্রহণ করে। পরে এ ঘটনায় গভীর রাতে বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে দোষী সাব্যস্থ করে তাদের হল থেকে বের করে দেয় হল প্রাধ্যক্ষ। এছাড়া হলের তদন্ত কমিটি ২৬ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে। যদিও এ ঘটনায় পূর্বে গঠিত ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটিকে অনুসরন করার অভিযোগ ওঠে, যেখান ২৪ ছাত্রীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে সংগঠনটি। তবে ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের মধ্যে- ঘটনার রাতে দেশের বাইরে অবস্থান করা একজন, অসুস্থতার জন্য বিশ্রামে ছিলেন একজন। এছাড়া পা কেটে দেয়ার অভিযোগে ছাত্রলীগ সভাপতি ইশাকে লাঞ্চনার অভিযোগে মোরশেদা খানমকে বহিষ্কার করা হলেও কোটা আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্রীদের মারধর ও হুমকির ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।

কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র সংগঠিত এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, আমার নোটিশপ্রাপ্তদের বিষয়ে বিশ^বিদ্যারয় প্রশাসনের সাথে কথা বলে পরে জানাবো।
জানতে চাইলে প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রাব্বানী বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের এ নোটিশ দেয়া হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.