১২২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু
১২২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু

১২২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু

আমানুর রহমান

এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষার মান মূূল্যায়নের সব সূচক ছিল নিম্নমুখী। কুমিল্লা বোর্ড ছাড়া সব শিক্ষা পবার্ডে পাসের হার কমেছে। গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ভালো করতে পারেনি। গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। এ ছাড়া শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান কমেছে, শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে বিগত বছরের চেয়ে। এবারের এসএসসিতে শূন্য পাস করা ১২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌক্তিকতা যাচাই-বাছাই করে সরকারি অনুদান (এমপিও) ও অনুমোদন-স্বীকৃতি বাতিল করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


গত ৬ মে প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত ৯ বছরের মধ্যে মাধ্যমিকে পাসের হার এটাই সবচেয়ে কম। মোট ২০ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ জন। দেশের ২৮ হাজার ৫৫৮টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত স্কুল-মাদরাসা ও কারিগরি স্কুলগুলোর মধ্যে ১০৯টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী এ বছর উত্তীর্ণ হতে পারেনি। গত বছর এর সংখ্যা ছিল ৯৩টি। এক বছরের ব্যবধানে ১৬টি বাড়ল। সাধারণ আট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে ১৩টি স্কুল ও মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় ৯৬টি মাদরাসা রয়েছে।

সাধারণ বোর্ডগুলোর মধ্যে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বোর্ড এ তালিকায় নেই। ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার পরপরই সব বোর্ড চেয়ারম্যানকে নিয়ে সচিবালয়ে নিজ কক্ষে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। বৈঠকে শিক্ষা সচিবেরাও উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে শূন্য পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এ ছাড়া ফলাফলে নিম্নমুখী সূচকের কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন চেয়ারম্যানদের। বোর্ড চেয়ারম্যানদের শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ডেকে এনে কারণ জানতে চাওয়ার নির্দেশ দেন এবং ফলাফলের সব সূচকের নিম্নমুখী হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে আন্তঃবোর্ড সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠাতে বলেন।


এবার ঢাকা বোর্ডে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। তিনটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে গাজীপুর কাপাসিয়ার কিরাটি পূর্ব পাড়া ড. এ রহমান গার্লস হাইস্কুল, ফরিদপুর মধুখালীর গয়েশপুর বকশিপুর হাইস্কুল ও জামালপুর সরিষাবাড়ির গুইঞ্চা আওনা এসইএসডিপি হাইস্কুল। এই তিন স্কুলের প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এসব শিক্ষার্থীর একজনও পাস করতে সক্ষম হয়নি। এসব স্কুলের মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সংখ্যা ১২ থেকে ১৮ জন পর্যন্ত বলে বোর্ডের একটি সূত্রে জানা গেছে। এসব শিক্ষকের বেতনভাতা সরকারি কোষাগার থেকেই দেয়া হয়। অন্যান্য বোর্ডের চিত্র প্রায় একই রকম।


জানা গেছে, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঢাকা বোর্ডের শূন্য পাস করা তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকসহ কর্তৃপক্ষকে বোর্ড অফিসে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছে এসএসসির ফলাফলের কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে বলে গতকাল বোর্ড চেয়ারম্যান নয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আমরা কারণগুলো শুনেছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।


ইতোমধ্যে মাদরাসা বোর্ডের শতভাগ ফেল করা মাদরাসাগুলোর কর্তৃপক্ষকে শোকজ নোটিশ ইস্যু করেছেন বলে জানিয়েছেন বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম ছায়েফ উল্যা। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ৯৬টি প্রতিষ্ঠানকে গত ১৩ মে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ২৩ মে’র মধ্যে তাদের কাছে এর জবাব চাওয়া হয়েছে। অন্যান্য বোর্ডও একইভাবে শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম ছায়েফ উল্যা বলেন, শতভাগ ফেল করা ৯৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, শতভাগ শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হচ্ছে না। এসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও স্বীকৃতি বাতিল ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সব সুবিধা বন্ধের জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হবে বলে জানান মাদরাসা বোর্ডের এ চেয়ারম্যান।


অভিযোগ আছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অতীতে অধিকাংশ স্কুল-কলেজ-মাদরাসার অনুমোদন-স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল। সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রাপ্যতা না থাকলেও নানাভাবে তদবির করে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। পরে তা এমওপিওভুক্ত করা হয়েছে। এখন এসব প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং কমিটিতে রয়েছেন সরকারদলীয় এমপির মনোনীত ব্যক্তিরা। তারা বিভিন্নভাবে এসব প্রতিষ্ঠানে খবরদারি করছেন। নিয়োগবাণিজ্যসহ সর্ব ক্ষেত্রেই হস্তক্ষেপ করছেন।


আন্তঃশিক্ষা বোর্ড ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক নয়া দিগন্তকে বলেন, শতভাগ ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌক্তিকতা কতটুকু রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা দ্রুত শূন্য পাসের কারণ জানতে শোকজ দেবো। উপযুক্ত জবাব না পেলে এসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল করাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.