‘বাবু আমরা ঘরেও ভিজি’

‘বাবু হামরা (আমরা) চা বাগানের শ্রমিকরা বৃষ্টির ছময়ে (সময়ে) ঘরেও ভিজি, বাইরে কাজে গেলেও ভিজি। সারা ঘরে পানি পড়ে। টিন ছিদ্র, দেয়াল ফাঁটা, দরজা-জানালা নষ্ট। রাইতে (রাতে) ঘুমাইতে পারি না।’ কথাগুলো বলছিলেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ডানকান ব্রাদার্স শমশেরনগর এর ফাঁড়ি দেওছড়া চা বাগানের যামুনি রবিদাস ও শিউ নারায়ন ভর।

দেওছড়া চা বাগানের শ্রমিক বসতিগুলো ঘুরে দেখা যায়, চা শ্রমিকদের বসতঘরের শোচনীয় অবস্থা। প্রায় ষাট শতাংশ শ্রমিকের ঘরের পুরনো টিনের চালা ছিদ্র থাকায় বৃষ্টির পানি পড়ে ঘর ভিজে পড়ছে। পাকিস্তান আমলে তৈরি মাডওয়ালের একাধিক ঘরের পাকা দেয়ালে বড় ধরণের ফাঁটল দেখা দিয়েছে।
যেকোন মূহুর্তে দেয়াল ধ্বসে প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন শ্রমিকরা। এছাড়াও অধিকাংশ ঘরের দরজা-জানালা ও চালের কাঠ বিনষ্ট হয়ে পড়ছে। এসব পরিবারের শ্রমিকরা বৃষ্টির সময়ে রাতে ঘুমাতে পারেন না। ঘরের কোণে বসে কেউ কেউ রাত কাটাচ্ছেন।

চা শ্রমিকরা স্বামী-স্ত্রী, মা-বাবা ও সন্তানাদি নিয়ে পাঁচ, সাত জনের পরিবারের মধ্যে চা বাগানে মাত্র দৈনিক ৮৫ টাকা মজুরিতে কাজ করেন। ওই একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দিয়েই চলে তাদের সংসার। অন্য সদস্যরা কেউ রিক্সা চালিয়ে, কেউ অন্য কাজ করে বাড়তি যোগান দিয়ে অভাবি সংসার চালিয়ে গেলেও ঘর মেরামতের অবস্থা তাদের নেই। শ্রম আইনে কোম্পানী কর্তৃক শ্রমিকের ঘর মেরামত করে দেওয়ার কথা থাকলেও এসব পরিবারের সদস্যরা বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন সময়ে আবেদন করেও ঘর মেরামত করতে পারেননি।

দেওছড়া চা বাগানের নারী শ্রমিক লক্ষ্মী রবিদাস, সোনিয়া রবিদাস, পান কুমারি রবিদাস বলেন, ‘আমরার ঘরগুলো একবার সিরিয়েল (সিরিয়াস) হই গেছে। বৃষ্টির পানি পড়ে, রানবার, ঘুমাইবার জায়গা নেই। সারাঘরে মেঘ পড়ে, বাসন লাগিয়ে পানি আটকাচ্ছি।’

কানাইয়া রবিদাস, দেওরাজ রবিদাস, শান্তি রবিদাস বলেন, পাকিস্তান আমলের তৈরি এই ঘরগুলি দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। ঘরগুলো এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যেকোন মুহুূর্তে কাঠ ও দেয়াল ভেঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা ঘরের জন্য খুব কষ্ট করছি।

চা বাগানের শ্রমিকরা বলেন, শ্রমিক পরিবারের ঘর মেরামত করে দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে ম্যানেজমেন্টের। প্রতি বছর আবেদন নিবেদন করা হচ্ছে। কিন্তু ঘর মেরামত করে দিতে এখনও তাদের কাছ থেকে কোন সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে না। চা শ্রমিকদের অধিকাংশ পরিবার ছোট্র একটি টিন চালা ঘরে দুঃখ কষ্টে জীবন কাটছে। লেবার লাইনে ছোট ছোট ঝুপড়ি ঘরগুলোতে ৮/১০ জন মানুষের বসবাস, রান্নাবান্না কখনো কখনো গবাধি পশু নিয়েও থাকতে হয়। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে ভিজতে হয়। কাপড়-চোপড় ভিজে বিনষ্ট হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে দেওছড়া চা বাগানের দায়িত্বপ্রাপ্ত টিলা ক্লার্ক দিলীপ নাইডুর অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি এবং মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, দেওছড়া চা বাগানে শ্রমিক পরিবারের ঝুঁকিপূর্ণ ঘর সমুহ মেরামত চলছে। সেখানে কাজ চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে মেরামত করা হচ্ছে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.