রংপুর সিটি করপোরেশনে ১৭৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাটাই

সরকার মাজহারুল মান্নান রংপুর অফিস

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাকালীন মেয়র মরহুম সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টুর আমলে মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন না নিয়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়া ১৭৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাটাই করা হয়েছে। গত ১৬ মে তাদেরকে ছাটাইয়ের নোটিশ দেয় কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যপারে মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেছেন, ছাটাইকৃতদের মধ্যে অনেকেই আমার নিকটাত্মীয় এবং আমার দলীয় নেতাকর্মীদের স্বজন। তবুও সিটি করপোরেশনকে নিয়মের আওতায় আনতে তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে ছাটাই করা হয়েছে। সুতরাং এই ছাটাই নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ স্বীকারের চেষ্টা করার কারো কোন সুযোগ নেই।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি বর্তমান মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নেতৃত্বে সিটি পরিষদ দায়িত্ব নেয়ার পর ৪ মার্চ কর্মরত অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত ২৯৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বন্ধ করা হয়। পরে তাদের চাকরীর বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার হোসেন আজাদকে প্রধান করে ৬ সদস্যের কমিটি করা হয়।
তদন্ত কমিটি গত রোববার মেয়রের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেই প্রতিবেদনের মতামত ও সুপারিশের প্রেক্ষিতে ১৭৭ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার হোসেন আজাদ নয়া দিগন্তকে জানান, আমরা কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেছি, তাদের নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া অবৈধ ও বিধিসম্মত ছিল না। তাই অস্থায়ীভাবে নিয়োাগ পাওয়া ১৭৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাদের অফিসে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। তাদের কাছে থাকা সব ফাইলপত্র বুঝিয়ে দিয়ে যেতেও বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা নয়া দিগন্তকে জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশের আলোকে নিয়োগ বিধিসম্মতভাবে না হওয়ায় ১৭৭ জন কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। বকেয়া বেতন পরিশোধ করে তাদের অব্যাহতিপত্র দেয়া হবে।
তিনি আরও জানান, এখানে কারো প্রতি কোন অবিচার করা হয় নি। ছাটাই হওয়া অনেক কর্মকর্তা কর্মচারী আমার নিকটাত্মীয় এবং আমার দলীয় নেতাকর্মীদের স্বজন। তবুও সিটি করপোরেশনটিকে নিয়মের মাধ্যমে বিধিসম্মতভাবে পরিচালনার জন্যই তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তাদের ছাটাই করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন পরিচালনার জন্য গত ৩ মে ১৫০ জন কর্মচারী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। অনুমতি পেলে বিধি অনুযায়ী নিয়োগ দেয়া হবে। তারা যদি সেই সময় বিধি অনুযায়ী আবেদন করে কোয়ালিফাই হয়, তাহলে তাদের নিয়োগ দেয়া হবে। তিনি বলেন, এখন দিন মজুরি ভিত্তিতে কিছু কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম করা হচ্ছে।
তবে চাকুরীচুত্য কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম লাইসন্সে কর্মকর্তা রাফিউর রহমান রাফি জানান, আমরা নিয়ম অনুযায়ী চাকুরী নিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের অন্যায়ভাবে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে। শুধু সাবেক মেয়রের আমলে আমাদের চাকরী হওয়ার কারনেই ছাটাই করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না নিয়ে ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে, কোন ধরনের নিয়োগ কমিটি গঠন না করে ২০১২ সালে প্রায় ২৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগ দেন প্রথম মেয়র আওয়ামীলীগ সমর্থিত মরহুম সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু। এদের মধ্যে বিধি সম্মত না হওয়ায় ১৭৭ জনকে ছাটাই করা হয়েছে। সূত্রমতে এসব নিয়োগ দেয়ার সময় কোনও প্রার্থীর লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষাও নেওয়া হয়নি। এসব বিষয় নিয়ে পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.