ঐ তি হ্য

বাথান

আজ তোমরা জানবে বাথান সম্পর্কে । ‘বাথান’ শব্দের অর্থ গবাদি পশুর আবাসস্থল। বর্তমানে নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলে, পাবনা-সিরাজগঞ্জের নতুন জেগে ওঠা চরে, সিলেট-সুনামগঞ্জের হাওরের তীরে, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি এলাকায় কিছু বাথান চোখে পড়ে। লিখেছেন মৃত্যুঞ্জয় রায়
আমাদের যুগে গো-পালনের জন্য আধুনিক খামারব্যবস্থা গড়ে উঠলেও প্রাচীনকালে তা ছিল না। তাই সেই যুগে বেশিসংখ্যক গবাদি পশু লালন-পালনের জন্য তৃণভূমি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল গো-পালনের বিশেষ ব্যবস্থা। কৃষিভিত্তিক গ্রামাঞ্চলে গবাদি পশু প্রতিপালন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্মিত বিশেষ ধরনের আবাসস্থলকে বলা হতো বাথান। যারা বাথানের কাজ করত, তাদের বলা হয় বাথানি। বাথানে যেসব ঘর নির্মাণ করা হয়, সেগুলোকে বলা হয় বাথানবাড়ি। ‘বাথান’ শব্দের অর্থ গবাদি পশুর আবাসস্থল। প্রচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্যে গোয়ালা বা গোপ গোষ্ঠীর সাথে দেবদেবীদের সম্পর্ক গড়ে তোলার অনেক উল্লেখ আছে। কিংবদন্তি অনুসারে দেবী মনসা ছদ্মবেশে বাথানে অবরোহণ করেন ও এক গোয়ালার কাছে আশ্রয় চান।
রাখাল ও বাথানিরা গ্রামে বাথানিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। এ সম্প্রদায়ের লোকেরা পশুচারণ ও গো-পালন পেশায় নিয়োজিত। তারা গবাদি পশু রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা করে গবাদি পশুর মালিকদের কাছ থেকে পারিশ্রমিক বাবদ বিভিন্ন দ্রব্য গ্রহণ করেন। প্রাচীনকালে শস্য ও পশুসম্পদ বিনিময় ছিল রাখাল ও মালিকপক্ষের বিনিময় মাধ্যম। সে প্রথা আজো আছে। প্রাচীনকালে এ দেশের প্রায় সর্বত্রই বাথান ছিল। কোনো গবাদি পশুর মালিক পশুপালনে অসমর্থ হলে বাথানিদের কাছে
হস্তান্তর করে। বাথানিরা এভাবে অনেক মালিকের কাছ থেকে গবাদি পশু সংগ্রহ করে গবাদিপশুর পাল বানায়। গবাদি পশুর সেসব পাল নিয়ে তারা চলে যায় লোকালয় থেকে দূরে ফাঁকা বিস্তীর্ণ কোনো তৃণভূমিবেষ্টিত স্থানে। সেখানে গবাদি পশু রাখা এবং নিজেরা থাকার জন্য ঘর বানায়। সারা দিন গো-পাল নিয়ে তৃণভূমিতে ঘাস খাওয়ায়। গরু চরানোর পর সন্ধ্যায় ফিরে আসে বাথানবাড়িতে। এভাবে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস তারা সেখানে জীবন কাটায় ও বছরের নির্র্দিষ্ট একটা সময়ে ফিরে আসে। বাথানবাসের সময় গো-পালে গরুর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, ছোট গরু বড় হয়। ওটুকুই তাদের লাভ এবং সারা বছরের আয়। তা ছাড়া বাথানে গরুর যে দুধ হয় তা বিক্রি করেও আয় হয়। উনিশ শতকের প্রথম দিকে জনসংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় পতিত জমি কমে আসে। ফলে বাথানও কমে যায়। বর্তমানে নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলে, পাবনা-সিরাজগঞ্জে নতুন জেগে ওঠা চরে, সিলেট-সুনামগঞ্জের হাওরের তীরে, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি এলাকায় কিছু বাথান চোখে পড়ে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.