ওলামা মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে বিএনপির ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর  :  নয়া দিগন্ত
ওলামা মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে বিএনপির ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর : নয়া দিগন্ত

প্রথম রোজায় এতিম ও ওলামা মাশায়েখদের সাথে বিএনপির ইফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

রমজানের প্রথম দিনে এতিম শিক্ষার্থী ও ওলামা-মাশায়েখদের সাথে ইফতার করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। প্রতি বছর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে এতিম শিক্ষার্থীদের পাশে বসিয়ে রমজানের প্রথম ইফতার করতেন বেগম খালেদা জিয়া। এবার কারাগারে বন্দী থাকায় এই ইফতার অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলেও মঞ্চে এতিমদের পাশে বেগম খালেদা জিয়ার আসন শূন্য রাখা হয়।
খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে এতিম শিক্ষার্থীসহ ওলামা-মাশায়েখদের স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, আজকে ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আমরা এই ইফতার মাহফিলের অনুষ্ঠান করছি। প্রতি বছরে পয়লা রমজানে এ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, দু’বারের বিরোধীদলীয় নেতা যিনি ১৬ কোটি মানুষের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বে প্রতীক সেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ আমাদের মাঝে নেই। এ সময়ে তিনি কারাগারে।
তিনি বলেন, প্রতি বছর তিনি (খালেদা জিয়া) এখানে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে ইফতার করেন। আজ তিনি কারাগারের অন্ধকারে নির্জনে প্রথম রমজানের ইফতার করছেন। এটি আমাদের সবার জন্য মর্মান্তিক। আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া চাইব, আল্লাহ যেন তাকে অতিদ্রুত মুক্তি দিয়ে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এক কঠিন সময় পার করছি, যে সময়টা দেশের জন্য, জাতির জন্য ক্রান্তিকাল। আমাদেরকে সাহসের সঙ্গে, ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করে গণতন্ত্রকে ছিনিয়ে আনতে হবে, দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। যে জগদ্দল পাথর ও ফ্যাসিবাদী একনায়ক আমাদের বুকের ওপর চেপে বসেছে, তার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগ্রাম করতে হবে। এ সময় লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।
ইফতারে দলের মহাসচিব ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
ওলামা-মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে বিএনপি এই ইফতার পার্টির আয়োজন করে। এতে ফার্মগেটের মদিনাতুল উলুম বালক-বালিকা কামিল মাদরাসা, শান্তিনগর মাদরাসা ও গোপীবাগ মাদরাসার দেড় শতাধিক এতিম ছাত্রছাত্রী অংশ নেয়।
ওলামা-মাশায়েখদের মধে ইফতারে ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান মাওলানা সাইয়িদ কামাল উদ্দিন জাফরী, রাজধানীর সোবহানবাগ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শাহ ওয়ালী উল্লাহ, মসজিদ মিশনের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, মিরপুর জামেয়া এমদাদিয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আবু তাহের জেহাদী, কামরাঙ্গীরচর মাদরাসা-ই নুরীয়ার মোহাদ্দিস মুফতি মাওলানা ফখরুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী উলামা দলের সভাপতি হাফেজ আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহ মো: নেসারুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সেলিম রেজা।
ইফতার শুরুর আগে কারাগারে অসুস্থ খালেদা জিয়ার মুক্তি ও লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য এবং দেশের অগ্রগতি ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়।
এ দিকে বেলা ৩টার দিকে খালেদা জিয়ার জন্য তৈরি করা ইফতার নিয়ে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের নেতৃত্বে নেতৃবৃন্দ কারাগারের ফটকে গেলে ইফতার সামগ্রী গ্রহণ না করে মহিলা পুলিশ দিয়ে তাদেরকে সরিয়ে দেয়া হয়। কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো ইফতার সামগ্রী গ্রহণ করার সুযোগ নেই বলে কারা কর্মকর্তারা মহিলা নেত্রীদের জানিয়ে দেন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.