মওসুমি চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে রাজধানীর ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ

আমিনুল ইসলাম

রমজানের শুরুতেই মওসুমি চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন রাজধানীর ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। রমজান ও ঈদের সাথে সম্পর্ক রয়েছে এমন ব্যবসায়ীরা চাঁদা না দিয়ে কাজ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারি দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নাম ব্যবহার করে তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। বিশেষ করে রমজানের শুরুতেই চাঁদাবাজদের হাতে পণবন্দী হয়ে পড়েছেন টেইলারিং ও কাপড় ব্যবসায়ীরা। এ ক্ষেত্রে ফুটপাথ বা বড় দোকান সবখানেই চাঁদা গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ব্যবসায়ী। আবার কোনো কোনো ব্যবসায়ী চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করলেও ভয়ে মুখ খুলছেন না।
টেইলারিং ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদুল ফিতরে তাদের কাজ সব থেকে বেশি হয়ে থাকে। এই ঈদে বহু মানুষ কাপড় কিনে তা বিভিন্ন ডিজাইনে তৈরি করতে টেইলার্সে দিয়ে থাকেন। প্রচুর কাজ চলে আসায় বেশির ভাগ টেইলার্স রমজানের শুরুতে অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দেয়। এই সময় টেইলার্সের শ্রমিকদের কাজের শেষ থাকে না। দিন-রাত তারা কাপড় কাটা ও সেলাইয়ে ব্যস্ত থাকেন। একই অবস্থা দেখা যায় কাপড়ের দোকানগুলোতে। আর ঠিক এই সময়ে মওসুমি চাঁদাবাজরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সম্প্রতি চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন রাজধানীর গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের টেইলারিং ব্যবসায়ীরা। কথিত শ্রমিক নেতা দাবি করেন তাদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী নেতারা থানায় জিডি করলেও তার কোনো সুরহা পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টো চাঁদাবাজরা ওই সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। তাদের ভয়ে অনেক শ্রমিক কাজে যোগ দিতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, গুলিস্তানে কয়েকজন কথিত শ্রমিক নেতা ওই এলাকার টেইলারিং ব্যবসায়ীদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা তাদের দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে তারা। মালিকদের হুমকি দেয়ার পাশাপাশি সেলাই ও দর্জি শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ থেকে বিরত রাখছে। নামধারী নেতারা ব্যবসায়ীদের পরিষ্কার জানিয়ে দেন, তাদের দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ ও সমঝোতা হলেই শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবে।
এ ঘটনার পর বাংলাদেশ ড্রেস মেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ মো: আইয়ুব আলী, সেলিম রেজা, রুবেল, আলমাছ, লিয়াকত ও আলতাব নামে ৬ জনের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (৫০৮, তারিখ ৮/৫/১৮) করেন। হারুন অর রশিদ জানান, চাঁদাবাজদের অত্যাচারে তারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। প্রতি বছর রমজানের আগ মুহূর্তে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের পণবন্দী করে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করাটা তাদের নিয়মে পরিণত হয়েছে। কোনো কারণে ব্যবসায়ীরা তাদের টাকা দিতে অস্বীকার করলে দর্জি শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ থেকে বিরত রাখে। এবারও একই অবস্থা শুরু হয়েছে। একই অবস্থার শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন কাপড় ব্যবসায়ীরা। তবে এদের বেশির ভাগই ভয়ে মুখ খুলতে চান না।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.