নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘কোটি জনতার ‘মা’ পর্ব-১’ সিডি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘কোটি জনতার ‘মা’ পর্ব-১’ সিডি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বাদ দিতে সরকার জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলা উচ্চ আদালতে দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সকালে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হলে, দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হলে আমাদেরকে জাতীয় ঐক্য তৈরি করতে হবে। যে পাথর আমাদের বুকের ওপর বসে আছে, সেই পাথরকে জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে সরাতে হবে।


মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন সব ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে এই সরকার। হাইকোর্ট জামিন দেয়ার পরে সুপ্রিম কোর্টে স্থগিত করা হয় এই ৫ বছরের সাজার ইতিহাসে এর নজির নেই। কিন্তু তারা করেছেন। মাত্র ৩-৪ মাসের মধ্যে এই আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেয়া- এটারও নজির নেই। অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই মামলাটিকে একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা কাজ করছে। দুর্ভাগ্য হচ্ছে, এই নির্দেশ-আদেশগুলো আসছে উচ্চ আদালত থেকে যা সর্বশেষ স্থান। অন্যায়-অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে মানুষের যাওয়ার একমাত্র জায়গা ছিল বিচার বিভাগ। দুর্ভাগ্য আমাদের আজকে সেই বিচার বিভাগকেও সরকার তাদের কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।


নয়াপল্টনে মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে মওলানা ভাসানী মিলনায়তনে কারাবন্দী খালেদা জিয়াকে নিয়ে দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের লেখা ‘কোটি জনতার মা’ এর গানের সিডির মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান হয়। মহাসচিব মোড়ক উন্মোচনের পর গানটি শুনানো হয় দর্শক-শ্রোতাদের। মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের সভাপতিত্বে ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আখতারুজ্জামান বাচ্চুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক মনির খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, কণ্ঠশিল্পী নাসির প্রমুখ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন ভুঁইয়া শিশির, মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি মীর হোসেন মীরু, জাসাসের সহসভাপতি আহসান উল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


মির্জা ফখরুল বলেন, আইনি লড়াই করে সর্বোচ্চ আদালত থেকে আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে এলাম। তারপরও তিনি মুক্তি পাননি। কারণটা হচ্ছে, অবৈধ অনৈতিক সরকার তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ ভাবে দেশনেত্রীকে। তারা মনে করে, দেশনেত্রী যদি বাইরে থাকেন তাহলে জনগণের যে বাঁধ ভাঙা ঢল, সেই ঢলকে তারা প্রতিরোধ করতে পারবে না। আগামী নির্বাচনে দেশনেত্রী যদি অংশ নেন তাহলে সেই নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি কেউ ঠেকাতে পারবে না। এ জন্য তারা সুপরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত করে, মিথ্যা সাজানো মামলা দিয়ে নির্বাচনের আগেই এই মামলার কার্যক্রম শেষ করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।


খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার সুপরিকল্পিতভাবে পুলিশের নির্যাতন, গ্রেফতার ও দমনপীড়নের মধ্য দিয়ে সেখানে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনের দিন জনগণকে ভোটকেন্দ্রে যেতে না দিয়ে তারা ভোট ডাকাতি করেছে। পত্র-পত্রিকায় সবকিছু এসেছে, ইলেকট্রনিক চ্যানেলে এসেছে। এমনকি মার্কিন রাষ্ট্রদূত পর্যন্ত বলেছেন যে, খুলনার নির্বাচনে যে অনিয়ম হয়েছে তার তদন্ত হওয়া উচিত। এই নির্বাচন কমিশন তদন্ত করবে না। এই কমিশন পুরোপুরিভাবে সরকারের বশংবদ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সারা পৃথিবী জানে বাংলাদেশে কোনো গণতন্ত্র নেই, গণতন্ত্রের কোনো স্পেস নেই।


এ অবস্থা থেকে উত্তরণে মহানগর দক্ষিণকে সংগঠিত হয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হলে, দেশনেত্রীকে মুক্তি করতে হলে আমাদেরকে জাতীয় ঐক্য তৈরি করতে হবে। জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে আমাদের বুকের ওপর বসে থাকা দানবকে সরাতে হবে। আমি অনুরোধ জানাব, মহানগর দক্ষিণ আপনারা সংগঠিত হোন যখনই প্রয়োজন হবে আপনারা যেন রাস্তায় নামতে পারেন। সেই সাথে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো কোনো নির্বাচন দেশে হতে দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।


বিএনপি মহাসচিব বলেন, যদি বিরোধী দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে যদি নির্বাচন না হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে যদি মুক্তি দেয়া না হয়, যদি সংসদ ভেঙে দেয়া না হয়, যদি সেনাবাহিনী মোতায়েন না হয় তাহলে আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.