চীনের অত্যাধুনিক সামরিক বিমান ওয়াই-টুয়েন্টি
চীনের অত্যাধুনিক সামরিক বিমান ওয়াই-টুয়েন্টি

চীনের অত্যাধুনিক সামরিক বিমান ওয়াই-টুয়েন্টি

নয়া দিগন্ত অনলাইন

আধুনিক বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে চীন অত্যাধুনিক সামরিক বিমান তৈরি করছে চীন। সম্প্রতি স্যাটেলাইট ইমেজে ধরা পড়ল চীনের ওই প্রকল্প। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে ওয়াই-টুয়েন্টি নামের ওই বিমান সংখ্যায় বাড়ছে। চীনের প্রোডাকশন হাব ইয়ানলিয়াং-এ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে সেইসব যুদ্ধবিমান।

ছয়টি বিমান দেখা যাচ্ছে ছবিতে। দেশে তৈরি সেই বিমানের কোডনেম দেয়া হয়েছে ‘কিনপেং’। এটি আসলে চীনের এক পৌরাণিক পাখি, যা নাকি কয়েক হাজার কিলোমিটার উড়ে যেতে পারতো।

চীনের সরকারি সংস্থা ‘অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অফ চায়না’ ওই বিমানগুলি তৈরি করছে। এসব বিমানের সঙ্গে রাশিয়ার এল- সেভেন সিক্স বিমানের বেশ মিল রেয়ছে। রাশিয়ার এই বিমান ভারতের কাছেও রয়েছে।

আবার চীনের এই বিমানের সাথে মার্কিন এয়ারফোর্সের সি-১৭ গ্লোবমাস্টারেরও অনেক মিল রয়েছে, বিশেষত পিছনের দিকের অংশে। আমেরিকার এই বিমানও রয়েছে ভারতের হাতে।

চীন মূলত সেনা ও অস্ত্র বহণের জন্য তৈরি করছে এগুলি। এতে চীনের ইলেকট্রিক ওয়ারফেয়ার বা রিফুয়েলিং ইকুইপমেন্ট বহন করা হবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

প্রতিকূল আবহাওয়াতে যাতে দ্রুত অস্ত্র পৌঁছে দেয়া যায়, তার জন্যই তৈরি এই বিমান। ২০১৩ সালে প্রথম এই বিমান উড়িয়েছিল চীন। স্যাটেলাইট ইমেজে সেই ছবিও ধরা পড়ে যায়।

আগামী দিনে চীন এর মধ্যে কয়েকটিকে মিড-এয়ার রিফুয়েলার হিসেবে ব্যবহার করবে। কয়েকটি ট্রায়াল ভার্সন বিভিন্ন প্রদর্শনীতে দেখা গেলেও, এখনো পর্যন্ত আকাশে ওড়াতে দেখা যায়নি এই বিমানগুলি।

 

চীন সাগরে যুদ্ধের দামামা, কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয় যুক্তরাষ্ট্র-চীন

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সামরিক শক্তিকে আরো জোরদার করার ব্যাপারে বেইজিংকে সতর্ক করে দিয়েছে হোয়াইট হাউজ। কিন্তু ওয়াশিংটনের হুমকিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দক্ষিণ চীন সাগরে আধিপত্যকে আরো মজবুত করেই চলছে চীন। বিতর্কিত এই অঞ্চলে তিনটি আউটপোস্টে অ্যান্টি সিপ মিসাইল ও সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম বসায়েছে চীন।

দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত স্পার্টলি দ্বীপে প্রথম মিসাইল সিস্টেমটি বসানো হয়েছে। এই স্পার্টলি দ্বীপকে নিজেদের সম্পত্তি বলে দাবি কর থাকে চীন। তবে ভিয়েতনাম ও তাইওয়ানের পক্ষ থেকেও এই দ্বীপকে নিজেদের সম্পত্তি বলে দাবি করা হয়।

নিরাপত্তার কারণে নিজেদের জমিতে সবকিছু করার অধিকার রয়েছে বলে জানিয়েছে চীনা প্রশাসন। গত ৩০ দিনে দক্ষিণ চীন সাগরের ফেরি ক্রশ রিফ, সুবি রিফ ও মিসচিফ রিফে চক্কর কেটেছে মিসাইলগুলি।

চীনের এই পদক্ষেপের ব্যাপারে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান যাত্রাপথে নজরদারি চালানোর ব্যবস্থা করেছে চীন অর্থাৎ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করা সমস্ত দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলির উপরে নজর রাখতে পারবে। যা অবশ্যই অন্যান্য দেশগুলির কাছে হুমকির বিষয়।

এই অঞ্চলে চীন বসিয়েছে, ওয়াইজে-১২বি অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল এবং এইচকিউ-৮বি লঙ্গ রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল।

দক্ষিণ চীন সাগর ও পূর্ব চীন সাগরে শক্তিশালী চীনা নৌ অবস্থান রয়েছে। চলছে মেরিন কর্পস গঠনের প্রক্রিয়া। ২০২০ সালের মধ্যেই দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পেতে চলেছে চীনা বাহিনী। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রকে সামনে রেখে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় চীনা সামরিক বাহিনীকে ঢেলে সাজাচ্ছে বেইজিং। পূর্ব চীন সাগরে রয়েছে চীনের বিমানবাহী রণতরী ‘লিয়াওনিং’।

এ ছাড়া দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ অংশে চীন অনেক দিন ধরেই একগুচ্ছ কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ করছে, কৃত্রিম দ্বীপগুলোতে সামরিক স্থাপনা নির্মাণ ও সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে, ক্ষেপণাস্ত্রও মোতায়েন করেছে এবং এ এলাকায় আকাশে উড্ডয়ন নিষিদ্ধ এলাকা প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে সাগরের ওই অঞ্চলকে আরো অনেক দেশ নিজেদের বলে দাবি করছে; ফলে প্রতিবেশী দেশগুলো ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীনের উত্তেজনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। চীনের বক্তব্য হচ্ছে- দক্ষিণ চীন সাগরে চীনেরই সীমানা এবং সেখানে স্বাভাবিক তৎপরতা চালানোর অধিকার তাদের আছে, তারা বিমান প্রতিরক্ষা জোন গড়ে তুলবেই।

ওবামা প্রশাসনও অতীতে দক্ষিণ চীন সাগরে কৃত্রিম হ্রদ নির্মাণের বিরুদ্ধে চীনকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে। ওই অঞ্চলের সমুদ্রপথ ব্যবহারের অধিকার যে তাদের রয়েছে, সেটি প্রমাণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সেখানে যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ডিউয়ি পাঠিয়েছিল এবং দ্বীপ মিসচিফ রিফের জাহাজটি ১২ মাইলের ভেতর দিয়ে ঘুরেও গেছে। দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন রণতরি যাওয়ায় উত্তেজনা বেড়েছে এবং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, চীন কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ দরিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার বড় ধরনের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। আর এই ঘাঁটি থেকেই আমেরিকার বিমান ও নৌবাহিনী এ অঞ্চলে তৎপরতায় বহু দিন থেকে লিপ্ত। তবে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে কোনো ছাড় না দেয়ার অবস্থায়ই পৌঁছেছে চীন।

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের অধিকৃত স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জে নতুন অনেক অবকাঠামো নির্মাণ করেছে চীন। ছোট দ্বীপটিতে একটি শহরসহ অপারেটিং বেস স্থাপন করা হচ্ছে। চীন বরাবরই দাবি করে আসছে, দ্বীপগুলো তাদের প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজন এবং এসবের কাছে কোনো বিমান বা নৌকা এলেই প্রতিক্রিয়া দেখায় সে দেশ। স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জে রানওয়ে, হ্যাঙ্গার এমনকি সার্ফেস টু এয়ার মিসাইলও রয়েছে। এই সাগরে ফিলিপাইনের অধিকৃত ৩৭ হেক্টরের থিটু দ্বীপ। এই কোরাল দ্বীপটি ফিলিপাইনের দখলে থাকা আটটি রিফ, শোল ও দ্বীপের মধ্যে সবচেয়ে বড়। দক্ষিণ চীন সাগরের আশপাশের দেশগুলো নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শনে বাড়াচ্ছে নৌবাহিনীর শক্তি।

তবে চীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে চায়, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তেলভর্তি ও মালবাহী জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণে থাকতে চায়, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশী সামরিক শক্তির উপস্থিতি ঠেকাতে চায় এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি পেতে চায়। ফলে চীন বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নয় বা প্রস্তুত নয়। এ অবস্থায় দক্ষিণ চীন সাগর শব্দটাই হয়ে উঠেছে যেন দ্বীপ মালিকানা বিরোধের প্রতীক।

সিএনএন ও সিএনবিসি

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.