দাগনভূঞা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ অনিশ্চিত

দাগনভূঞা (ফেনী) সংবাদদাতা

পুড়ে যাচ্ছে ঘর-বাড়ী, দোকানপাট, মার্কেট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা। আগুনের লেলিহান শিখা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রয়োজন ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন ও সমন্বিত প্রয়াস। আপদকালিন সময়ে হাতের নাগালে নেই ফেনীর দাগনভূঞায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। ফেনী বা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপর নির্ভর করে যুগযুগ ধরে থাকতে হচ্ছে দাগনভূঞার জনপদবাসীকে। ১৭১ কি.মির দাগনভূঞায় ৪ লাখ পরিবারের আগুন নেভানোর নির্ভরযোগ্য কোন উৎস নেই। শুধু আদি ব্যবস্থা বালতি কলস পাতিলের উপর নির্ভর করে আগুন নিভাতে এসময়েও থাকতে হচ্ছে। পাশাপাশি সবকটি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস থাকলেও জায়গা নির্ধারনের অভাবে দাগনভূঞা উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উর্ধবতন কর্মকর্তারা বার বার চেষ্টা করেও জায়গা নির্ধারন সম্ভব হয়নি। প্রতি বছর অগ্নিকান্ডে কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আগুন লাগার পর অন্য উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ফোর্স আসতে আসতে ততক্ষনে সবকিছু ভষ্মিভূত হয়ে যায়।
আগুনে সর্বশান্ত ভুক্তভোগি উপজেলার দরবেশেরহাট বাজারের ব্যবসায়ী মনসুর আহমদ জানান, গত বছর আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কাপড়ের দোকানে রাতে বৈদ্যুত শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফেনী ও কোম্পানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে আসতে আসতে সব শেষ। পরবর্তী ভস্মিভূত দোকানের ক্ষয়ক্ষতির অবস্থা সংশ্লিস্টকে জানাতে ষাটঘাটের পানি খেতে হয়। একই কথা উপজেলার বেকের বাজার, রাজাপুর, মোমারিজপুর, রামনগর, কোরাইশমুন্সি ও বৈরাগিরহাট বাজারের আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের।
সূত্রে জানা যায়, দাগনভূঞায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জন্য ফেনী-নোয়াখালী সড়কের পার্শে রামনগর ইউনিয়নের আজিজি ফাজিলপুরে একটি জায়গা নির্ধারন করা হয়। পরবর্তীতে জায়গার মালিক টের পেয়ে হাই কোর্টে রিট করেন। আর এতেই ঝুলে যায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নির্মান কাজ। জায়গা বরাদ্ধের জন্য সরকার কর্তৃক ২২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা জেলা প্রশাসকের দপ্তরে জমা থাকলেও তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
আশপাশের অন্যান্য উপজেলা থেকে দাগনভূঞা উপজেলা উন্নত হলেও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মান না হওয়ায় সাধারণ জনগন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ওই উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস না থাকায় অগ্নিকান্ড ঘটলে ফেনী সদর ও কোম্পানীগঞ্জের ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিতে হয়। এতে করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বাড়ছে। স্থানীয় জনগন দাগনভূঞা উপজেলায় জায়গা নির্ধারন করে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মান এখন সময়ের দাবী।
জেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন উপসহকারী পরিচালক জানান, ফায়ার সার্ভিস নির্মানের জন্য নতুন জায়গা নির্ধারনের চেষ্টা চলছে। জায়গা না পেলে সরকারী খাস জমিতে নির্মানের প্রক্রিয়া করা হবে। তবে এবিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সদিচ্ছার বড়ই প্রয়োজন।
দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রতিনিয়ত অগ্নিকান্ডের ঘটনার খবর থানায় আসছে। লোকবল ও অগ্নি নির্বাপনের যন্ত্রপাতি অভাব ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন দূরে বিধায় লোকসান বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বেড়ে যাচ্ছে। দাগনভূঞা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কমবে।
উল্লেখ্য, ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া ও সোনাগাজী উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন বা স্থাপনের অপেক্ষা আছে। কেবল বাকী রইলো দাগনভূঞা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.