২০ জুলাই ২০১৮

ছাপার ভুলে ৫% ভ্যাট!

ছাপার ভুলে ৫% ভ্যাট! - সংগৃহীত

অনলাইনে কেনাকাটায় (ই-কমার্স/এফ-কমার্স) পাঁচ শতাংশ ভ্যাট (মূসক) রাখার প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। কারণ এটা অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা বইয়ে ছাপার ভুল ছিল। শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এ তথ্য জানান।

এ আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অনলাইনে পণ্য ও সেবা ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর পাঁচ শতাংশ ভ্যাট রাখার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

অর্থমন্ত্রী বক্তৃতায় বলেন, ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে পণ্য বা সেবার ক্রয়-বিক্রয়ের পরিসর বাড়াতে ‘ভার্চুয়াল বিজনেস’ নামে একটি নতুন সেবার সংজ্ঞা সংযোজন করা হয়েছে। এর ফলে অনলাইনভিত্তিক যেকোনো পণ্য বা সেবা ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তরকে এ সেবার আওতাভুক্ত করা সম্ভব হবে। তাই ভার্চুয়াল বিজনেস সেবার উপর পাঁচ শতাংশ হারে মূসক আরোপের প্রস্তাব করছি।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অনলাইনে পণ্য সামগ্রী কেনাকাটায় কোনো ভ্যাট রাখা হয়নি। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার বইয়ে ভুল করে ছাপানো হয়েছিল। এটা সংশোধন করা হবে।

আরো পড়ুন: আমার সব বাজেট নির্বাচনী বাজেট : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘আমার সব বাজেটই নির্বাচনী বাজেট’। তাঁর দাবী মানুষ পছন্দ করবে এমন বাজেটই তিনি দেন। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এবারের বাজেটে আমি বলেছিলাম যে নতুন ‘করটর’ দেয়া হবে না। মোটামুটিভাবে সেই কথা রাখতে সক্ষম হয়েছি।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমার সব বাজেট নির্বাচনী বাজেট। তা তো হবেই। আমি একটি দলের সদস্য এবং একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আমার বাজেট তো এমন হবেই যেটা মানুষ পছন্দ করবে। এবং পছন্দটা করবে একদিনের জন্য না, জাস্ট ইলেকশনের বছরের জন্য না, প্রত্যেক বছর ধরে পছন্দ করবে।’

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এবং আমার মনে হয় যেসব আলোচনা দেখেছি সংবাদ মাধ্যমে তাতে আমার তেমন কিছু বলার নেই। তবে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের বক্তব্যের ব্যাপারে আমার দারুণ আপত্তি আছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আগে আমি বিশ্বভিক্ষুক ছিলাম। দেশের জনগণ, সাংবাদিক এবং অন্য দেশের অর্থমন্ত্রীরা বিভিন্ন প্রোগামে আমাদের তিরষ্কার করতো বিশ্বভিক্ষুক বলে। আমরা সেটা থেকে বের হয়ে এসেছি। নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরি করছি। দেশের যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা সকল সেক্টরে উন্নয়ন হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, একটা সময় ছিলো বাজেটের বিশাল একটা অংক বাস্তবায়নের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো বিদেশি সাহায্যের আশায়। সাহায্য পাওয়া না গেলে বাজেট বাস্তবায়ন হতো না। এখন আমরা বাজেট বাস্তবায়নে বিদেশি সাহায্যের আশায় থাকতে হয় না।

 


আরো সংবাদ