২১ আগস্ট ২০১৮

মনুর বাঁধে ভাঙ্গন : কুলাউড়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

কুলাউড়ায় বন্যার পানিতে বাড়ীঘর ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য - নয়া দিগন্ত

অতিবৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে মনু নদীর ১০ টি স্থানে বাধ ভেঙ্গে বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছেন কুলাউড়ার ৪ টি ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। বিশেষ করে মনুর প্রতিরক্ষা বাধের শরীফপুর ইউনিয়নের অংশে ৬ টি স্থানে বড় বড় ভাংগনের ফলে এ ইউনিয়নের ২৫ টি গ্রাম অর্থাৎ শতভাগ গ্রামই বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। অন্ত:ত পক্ষে ৫ শতাধিক মানুষের বাড়ি ঘর বন্যায় প্লাবিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: জুনাব আলী।
অপরদিকে হাজীপুর,টিলাগাও ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নে বন্যায় রাস্তা ঘাট ডুবে গেছে। আউশ ক্ষেতসহ মানুষের বাড়িতে পানি চরম দূর্ভোগে ফেলেছে এতদ্বঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষকে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে শমসেরনগর -কুলাউড়া ও ভারতের কৈলাশহরের সাথে বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এদিকে মনুর ভাংগনের খবর পেয়ে স্থানীয় এমপি মো:আব্দুল মতিন ও উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম,ইউএনও চৌধুরী গোলাম রাব্বি ভাংগন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন সুত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে মনু নদীর শরীফপুর ইউনিয়নে প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রথমে ভাংগন শুরু হয়। পরে গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত ৬টি স্থানে ভাংগন দেখা দিয়েছে। সীমান্তের ওপার (ভারত) থেকে আসা ঢলে আকস্মিকভাবে বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করায় শরীফপুর ইউনিয়নের ২৫/৩০টি গ্রামের হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। শরীফপুরের বটতলা থেকে চাঁনপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক ৩ ফুট পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় শরীফপুরের সাথে কুলাউড়া উপজেলা সদরের এবং বাংলাদেশ-ভারত সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সোমবার ও মঙ্গলবারের টানা বৃষ্টিতে সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানিতে মঙ্গলবার দুপুর থেকে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। মঙ্গলবার বিকালে শরীফপুর ইউনিয়ন কার্যালয় সংলগ্ন চাতলা সেতু এলাকায় পানি বিপদ সীমার ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: জুনাব আলী জানান, মঙ্গলবার শবে কদরের রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমলা বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন মনু প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন শুরু হলে গ্রামবাসী ও বিজিবি সদস্যরা মিলে শতাধিক বস্তা বালু দিয়ে এ স্থান রক্ষা করেন। তবে রাত আড়াইটায় বাঘজুর ও তেলিবিল গ্রাম এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে দ্রæত গতিতে ঢলের পানি গ্রামে প্রবেশ করে। এ পানি বসতঘরসহ ফসলি জমি তলিয়ে যায়। ফলে বাঘজুর, তেলিবিল, চাঁনপুর, খাম্বারঘাট, শরীফপুর, বটতলা, সঞ্জরপুরসহ পুরো ইউনিয়নের সবকটি গ্রাম অর্থাৎ ২৫/৩০ টি গ্রামের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েন। ইউপি চেয়ারম্যান মো: জুনাব আলী আরও জানান, এ অবস্থায় পানিবন্ধী মানুষজন সঠিকভাবে শবেকদরের ইবাদত করতে পারেনি। এমনকি তারা ঈদুল ফিতরও সঠিকভাবে পালণ করতে পারবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।একই সময় চাতলা সেতুর উত্তর দিকে কয়েক মাস আগে নির্মিত প্রতিরক্ষা বাঁধও ভেঙ্গে ঢলের পানি দ্রæত গতিতে গ্রামে প্রবেশ করে। ফলে নছিরগঞ্জ, ইটারঘাট, মনোহরপুর, নিশ্চিন্তপুর, মাদানগর গ্রামের ১ হাজার মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েন।
ঢলের পানিতে শমশেরনগর-চাতলাপুর চেকপোষ্ট সড়কের বটতলা থেকে চেকপোষ্ট পর্যন্ত ২ কি:মি: সড়ক ৩ফুট পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত হলে মঙ্গলবার রাত থেকে বাংলাদেশের সাথে ভারতের উত্তর ত্রিপুরার কৈলাসহরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
পৃথিমপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নবাব আলী বাকর খান জানান, মনুর পানিতে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের ৭/৮ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে ছৈদলবাজার,ধলিয়া,গজভাগ,আলীনগর গ্রাম গুলিতে ২/৩ ফুট পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কয়েকটি বাঁধ ও ঝকিপূর্ন অবস্থায় আছে।
হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্ছু জানান, হাজীপুর ইউনিয়নের ১৫/১৬ টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে লোকজনের।
এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী শরীফপুরে মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ১০ টি স্থানের ভাঙ্গনের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মনুর চাতলা সেতু এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৮০ সেন্টিমিটার এবয় মনু রেল সেতু এলাকায় ২০০ সেন্টিমিটার বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। আবহাওয়ার অবস্থা দৃষ্টে নির্বাহী প্রকৌশলী মনে করেন অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে।


আরো সংবাদ