১৪ আগস্ট ২০১৮

ঝড়ে সব স্বপ্ন তছনছ

ঝড়ে সব স্বপ্ন তছনছ - ছবি : সংগৃহীত

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় ঝড়ে অর্ধশতাধিক বসতঘর ও গাছপালা বিধ্বস্ত হয়েছে। ঈদের পূর্ব মূহুর্তে এমন ঝড়ে ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড হওয়া পরিবারগুলোর সব স্বপ্ন তছনছ হয়ে গেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবার গুলো ঝড় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরের উৎসবতো দূরের কথা, গভীর রাতে বৃষ্টিতে অসহয় হয়ে দিক-বিদিক ছুটাছুটি করছে। খোলা আকাশের নিচে বসবাস করে অসুস্থ হয়ে পরছে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের শিশুরা। উপজেলা প্রশাসন থেকে খাদ্য সামগ্রী দিলেও মাথা গোজার ঠাইটুকু নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন পরিবার গুলো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত ১১ জুন রাতের আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের চতলাখালী, তিল্লা ও নয়াভাঙ্গুনী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারের সদস্যরা দিনের বেলায় নিজেদের বিলীন হয়ে যাওয়া ভিটা বাড়িতে পলিথিন, তেরপাল অথবা ঘূর্ণিঝরে বিলীন হওয়া খরকুটার মাধ্যমে ছাউনী দেওয়া ঘরে অবস্থান করলেও বৃষ্টির পানি অথবা অজানা বিপদের আশংকা নিয়েও অতি কষ্টে রাত পার করছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য মতে, সোমবার রাতের ৫০ সেকেন্ডের ঘূর্ণিঝরের তান্ডবে রাঙ্গাবালী উপজেলায় ১৩টি পরিবার স¤পূর্ণ বিধ্বস্ত এবং ৪২ পরিবার আংশিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। বর্তমান রমজান মাসে টানা বৃষ্টির পানির কারণে অনেক পরিবারে ঠিকমত ইফতার অথবা সেহরী খাবার সুযোগটুকুও হয় না বলে জানান ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের চতলাখালী, তিল্লা ও নয়াভাঙ্গুনী গ্রামের ঘূর্ণিঝর আক্রান্ত পরিবার গুলো।
তারা এখনো পর্যন্ত স্থায়ী কোন ঘর বাড়ি নির্মাণ করতে না পারায় ঝড় বৃষ্টিতে নানা ভোগান্তির মাধ্যমে দিনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। বুধবার সরেজমিনে ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের চতলাখালী, তিল্লা ও নয়াভাঙ্গুনী এলাকা পরিদর্শন করে এমনটাই দেখাগেছে।

স্থানীয় জনগণের সাথে ঈদের আনন্দ এবং রমজান স¤পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, ঘরহীন যেখানে নিয়মিত বৃষ্টির কারণে বাড়িতে অবস্থান করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে সেখানে কিভাবে ঈদের আনন্দ করি আমরা।

কথা হয় রফিকুল ইসলাম (৩৫) ও তার স্ত্রী সুমি বেগম (২৭) এর সাথে। তারা বলেন, “ঝড়ে আমাগো ঘর উড়াইয়া নেছে। এ্যাহন মাইয়া-পোলা লইয়া খোলা আকাশের নিচে দিন-রাইত পার করি। আয়-রোজগার নাই। ঘর কি দিয়া ঠিক করমু। তাই পলিথিন দিয়া জোড়া-তালি দেই। দ্যাওইর (বৃষ্টির) পানিতে কাতা-বালিশ হগোলা ভিজ্জা গ্যাছে। রাইতে কি কইরা ঘুমামু? কয়দিন বাদে ঈদ। পোলা-মাইয়ারে কিছু কিন্না দিমু হ্যারো কোন রাস্তা দেহিনা”।

গৃহিনী ডালিমা বেগম (৩০)। তিনি বলেন ঘূর্ণিঝরে বাড়িঘর নিয়ে জাওয়ার পর অনেক কষ্টে পলিথিন ঘেরা বেড়া দিয়ে কোন রকমে জীবনজাপন করছি। প্রতিদিন বৃষ্টির পানির কারণে খাবার গ্রহন করাটাই দায় হয়ে যাচ্ছে। আমাদের বাড়িতে ঈদের জামা কাপড় কিভাবে নেব? টাকা পয়সাওতো নাই এই অবস্থায়। আমাদের কাছে ঈদের একদিনের আনন্দের চেয়ে জীবনে বেঁচে থাকা অনেক বেশি ভাল।

কথা হয় একই এলাকার গৃহহারা ফেরদাউস মিয়ার (৩৮) সাথে। তিনি বলেন, দিনের বেলা এখানে পলিথিন দিয়ে ঘেরা বেড়া দেওয়া বাড়িতে অবস্থান করলেও রাতের বেলায় আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে থাকতে হয়। এখনো পর্যন্ত ঘরটি ঠিক করতে পারিনি। ঈদের দিনে নতুন কাপড় এবং ঈদের নানা আয়োজনের ইচ্ছা থাকলেও কিভাবে এসব ইচ্ছা পূরণ করবো জানি না।

ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম আব্দুল মান্নান জানান, ৫০ সেকেন্ডের টর্নেডোর তান্ডবে ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের ৩ গ্রাম লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ঈদের আনন্দ এই ইউনিয়নে নেই। দুঃখ আর হতাশার মধ্যেই চলছে এখানকার ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারের জীবন।
রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তপন কুমার ঘোষ জানান, ক্ষতিগ্রস্থ্য এলাকা পরিদর্শন করে তালিকা করা হয়েছে। এবং তাদের মধ্যে- নগদ দুই হাজার টাকা, ৩০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি সেমাই, ১ কেজি চিনি, দু’ শ' পঞ্চাশ গ্রাম গুরা দুধ, ২টি শাড়ি, ২টি লুঙ্গি ঈদ সামগ্রী হিসেবে ১৩টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারের তালিকা করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পাঠানো হয়েছে।


আরো সংবাদ