২২ নভেম্বর ২০১৮

‘দেশে মানুষের আয়ু বেড়েছে : কমছে মুসলিমদের সংখ্যা’

দেশে মানুষের আয়ু বেড়েছে - সংগৃহীত

দেশে পুরুষের সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার জন বেশি। মোট জনসংখ্যার ৮ কোটি ১৯ লাখ ১০ হাজার পুরুষ এবং ৮ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার নারী বলে পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জরীপে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবিএসের তথ্যানুযায়ী দেশে মুসলমানের সংখ্যা কমছে, বেড়েছে অন্যান্য ধর্মাম্বীর সংখ্যা।

আগারগাওস্থ ব্যুরোর কার্যালয়ে আজ বুধবার পরিকল্পনন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ও নারীর সংখ্যা প্রায় সমান। মানুষের আয়ুস্কাল ৭০.৪ বছর থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ বছরে। তবে পুরুষের আয়ু ৭০.৬ বছর এবং নারীদের ৭৩.৫ বছর।

অন্যদিকে দেশে পুরুষ প্রতিবন্ধির হার বাড়ছে। বাড়ছে তালাক প্রাপ্তের সংখ্যা।

 

শীর্ষ ৫ গড় আয়ুর দেশ
জন্ম-মৃত্যু একমাত্র সৃষ্টিকর্তার হাতে। তবুও রঙিন এ দুনিয়ায় বেশি দিন বেঁচে থাকতে চায় সবাই। চাইলেই তো আর তা সম্ভব নয়। সারাবিশ্বের মানুষের গড় আয়ু যেখানে ৭১ বছর; সেখানে হাজার বছর বেঁচে থাকতে চাওয়াতো নিছক কল্পনা ছাড়া কিছুই নয়। তারপরও স্বপ্নের এই পৃথিবীতে একদিন বেশি বেঁচে থাকার বাসনাতেও কত কিছু করে! সে বাসনা সবসময় পূরণ না হলেও কিছু কিছু দেশের মানুষের গড় আয়ু কিন্তু স্বাভাবিকের চেয়ে বেশিই।
বিবিসির ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেজ রিপোর্ট-২০১৭ এ উঠে এসেছে গড় আয়ুতে সর্বোচ্চ পাঁচ দেশের নাম-

দক্ষিণ কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়াই বিশ্বের একমাত্র দেশ যার অধিবাসীরা ৯০ বছর বেঁচে থাকার প্রত্যাশা করতে পারে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় তাদের গড় আয়ু সম্পর্কে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে। শক্তিশালী ও বর্ধনশীল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবায় প্রচুর সুযোগ, পশ্চিমাদের চেয়ে নিম্ন রক্তচাপ দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষকে এতদূর নিয়ে গেছে।

দক্ষিণ কোরিয়রা প্রক্রিয়াজাত খাবার খেয়ে থাকে যা কম কোলেস্টরল সম্পন্ন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। তাদের খাবারে প্রচুর আঁশ থাকে যা প্রচুর পুষ্টি সম্পন্ন। এসবের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ায় সামাজিক সম্পর্কও বেশ ভাল। এখানকার বাসিন্দারা সামাজিকভাবেই বিভিন্ন বিনোদনে অংশ নেয়-যা মানসিক চাপ সামলাতে সাহায্য করে। এমন নানা ইতিবাচক বিষয়ের জন্য তারা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গড় আয়ুর দেশ হতে পেরেছে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

সিঙ্গাপুর
দীর্ঘায়ুর দেশের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানেই আছে সিঙ্গাপুর। দেশটির অধিবাসীদের গড় আয়ু ৮৩ বছর এক মাস। দেশটির উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এর পেছনে অন্যতম অনুঘটক বলে মনে করা হয়। দেশটির স্বাস্থ্য সেবা এতটাই উন্নত যে একে ‘আশ্চর্যজনক স্বাস্থসেবা’ পদ্ধতিও বলা হয়ে থাকে।

দেশটিতে মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার খুবই কম যা বিশ্বে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর সর্বনিম্ন দেশগুলোর একটি। দেশটির সংস্কৃতি ও পরিবেশও গড় আয়ু বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। দেশটির মানুষের রয়েছে নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস। জিমনেশিয়ামে কিংবা পার্কে গিয়ে তারা ব্যায়াম করে যা সুস্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক। দেশটিতে অ্যালকোহল সহজলভ্য হলেও সিগারেট ও অ্যালকোহলে বসানো হয়েছে উচ্চহারে কর। মাদকমুক্ত জীবন গড় আয়ু বৃদ্ধি করেছে বলেও ধারণা তাদের।

জাপান
গড় আয়ুতে ওপরের দিকেই আছে জাপানের নাম। এ দেশের বাসিন্দারা গড়ে ৮৩ বছর বেঁচে থাকে। গড় আয়ু বেশি হওয়ায় অনেকে দেশটিকে ‘অমরত্বের ভূমি’ হিসেবেও উল্লেখ করে থাকে। জাপানের গড় আয়ুর রহস্য জানতে চার শতাধিক শতবর্ষীর উপর এক গবেষণা চালানো হয়। এ থেকে জাপানীদের গড় আয়ু বৃদ্ধির প্রধান নিয়ামক হিসেবে এসেছে স্থানীয় খাবারের নাম। জাপানের স্থানীয় খাবারই তাদের এতদিন বাঁচিয়ে রাখে যার মধ্যে রয়েছে- টফু নামক এক বিশেষ খাবার, মিষ্টি আলু এবং মাছ।

এ ছাড়া জাপানীদের শক্তিশালী সামাজিক কাঠামো গড় আয়ু বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। সামাজিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হওয়ায় জাপানীরা মানসিকভাবে কম চাপের মধ্যে থাকে। বয়স্করা পরিবার তথা সমাজের দেখভাল পায় বলে তারা বেঁচে থাকার উপযুক্ত পরিবেশ পায়। আর এতেই বাড়ে দেশটির গড় আয়ু।

স্পেন
গড় আয়ুতে জাপানের কাছাকাছি রয়েছে স্পেনের নাম। তাদের গড় আয়ু জাপানের চেয়ে মাত্র ৪ মাস কম অর্থাৎ ৮২ বছর ৮ মাস। স্পেনের গড় আয়ুর এ উন্নতির পেছনেও খাবারকেই কৃতিত্ব দেওয়া হয়। ভূমধ্য অঞ্চলের খাবার, অলিভ অয়েল যা হার্টকে সুস্থ্য রাখে, শাকসবজি এবং ওয়াইন বেশিদিন বাঁচিয়ে রাখে বলে বিশ্বাস তাদের। অনেকেই স্প্যানিশদের সুশৃঙ্খল জীবনযাপনকেও গড় আয়ু বৃদ্ধির জন্য সহায়ক বলে মনে করেন।

সুইজারল্যান্ড
ইউরোপের অন্যতম ধনী এ দেশের গড় আয়ু ৮১ বছর। খুবই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, ব্যক্তি নিরাপত্তা, সুস্থ থাকার অনুভূতি দেশটির মানুষকে বেশি দিন বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে। বিশ্বের অন্যতম দুগ্ধ উৎপাদনকারী এ দেশের গড় আয়ু বৃদ্ধিতে পনির ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবারের ভূমিকার কথাও বলেন অনেকে।

 

সর্বোচ্চ গড় আয়ুর দেশ জাপান, সর্বনিম্ন সিয়েরা লিওন
বিশ্বব্যাপী মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৫ বছরের (২০০০-২০১৫) মধ্যে গত পাঁচ বছরে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে গড় আয়ু বৃদ্ধির হার। ১৯৬০ সালের পর এত দ্রুত গড় আয়ু বৃদ্ধির রেকর্ড নেই।

তবে গড় আয়ু বৃদ্ধি পেলেও দেশভেদে গড় আয়ুর হার তথা স্বাস্থ্যসেবার বৈষ্যম্য এখনও রয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড হেলথ স্ট্যাটিসটিকস : মনিটরিং হেলথ ফর দ্য এসডিজিস’ এ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গড় আয়ুর দিক থেকে জাপানি মহিলাদের গড় আয়ু ৮৬দশমিক ৬ অর্থাৎ প্রায় ৮৭ বছর ও সুইজারল্যান্ডে পুরুষদের ৮১ দশমিক ৩ বছর পাচ্ছেন। সবচেয়ে কম গড় আয়ু দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওনে, মহিলাদের ৫০ দশমিক ৮ ও পুরুষদের ৪৯ দশমিক ৩ বছর।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশে গড় আয়ু ৭১ দশমিক ৮ বছর (মহিলা ৭৩ দশমিক ১ ও পুরুষ ৭০ দশমিক ৬ বছর)। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ৯০ দশকে আফ্রিকাতে এইচআইভি এইডস এর কারণে যেখানে গড় আয়ু নাটকীয়ভাবে কমতে শুরু করেছিল বর্তমানে সেখানে গড়ে প্রায় ১০ বছর বৃদ্ধি পেয়ে ৬০ বছর হয়েছে।
এইচআইভি এইডস প্রতিরোধ, ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ ও শিশু মৃত্যুরোধে সাফল্যের কারণে গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, ২০১৫ সালে জম্ম নেয়া শিশুদের (ছেলে-মেয়ে) একত্রে গড় আয়ু ৭১ দশমিক ৪ বছর (ছেলেদের ৬৯ দশমিক ১ ও মেয়েদের ৭১ দশমিক ৪ বছর)। এছাড়া, বিশ্বের উচ্চ আয়ের ২৯টি দেশে গড় আয়ু ৮০ বছরের বেশি। অপরদিকে, সাব সাহারা আফ্রিকা অঞ্চলে জম্ম নেয়া শিশুর ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৬০ বছরের কম।
২০১৫ সালে জাতিসংঘের সভায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে ওয়ার্ল্ড হেলথ স্ট্যাটিসটিকস প্রকাশিত হয়। সঠিক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে স্বাস্থ্য পরিস্তিতির উন্নয়ন ঘটিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার টার্গেট পূরণের কাজ এগিয়ে চলেছে।


মানুষের সর্বোচ্চ আয়ুর সীমারেখা কত
পৃথিবীতে বোধহয় এই একটা বিষয়ে কোনও দ্বিমত নেই যে, মানুষ মরণশীল। তবে মানব সভ্যতার উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে মানুষের গড় আয়ু। কিন্তু মানুষের জীবদ্দশার একটা সীমারেখা রয়েছে।

বিজ্ঞানীদের দাবি, মানুষের সর্বোচ্চ আয়ুর সীমারেখা আবিষ্কার করতে পেরেছেন। নেদারল্যান্ডসে পরিচালিত নতুন একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে, একজন নারীর সর্বোচ্চ আয়ু হতে পারে ১১৫.৭ বছর। পুরুষের ক্ষেত্রে তা সামান্য কম, ১১৪.১ বছর।

গত ৩০ বছরে নেদারল্যান্ডসে মারা গেছে এমন ৭৫ হাজার মানুষের তথ্য সংগ্রহ করে তিলবার্গ এবং রটারডামের ইরাসমাস ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।

ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই মানুষের আয়ু ক্রমাগত বেড়ে চলছে। অনেক রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থায় উন্নতির কারণেই মানুষের আয়ু বেড়েছে। তবে আয়ু বেড়ে চলার এ ধারা কি অনন্তকাল ধরে চলবে? উত্তরে বিজ্ঞানীরা বলছেন, না।

মেডিকেল এক্সপ্রেসকে গবেষণার অন্যতম একজন বিজ্ঞানী অধ্যাপক জন ইনমাহ বলেন, অবশ্যই মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সেন্টেনেরিয়ানদের আয়ু খুব বেশি বাড়ছে না। বিশেষ করে সুপার-সেন্টেরিয়ানদের অর্থাৎ ১০৫ থেকে ১১০ বছর ব্যক্তিদের আয়ু খুব বেশি আর বাড়ছে না। ১১৫ বছর অতিক্রম করতে দেখা যাচ্ছে না।

এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরাও তাদের এক গবেষণায় জানিয়েছিলেন যে, মানুষের সর্বোচ্চ আয়ু হতে পারে ১১৫ বছর।

পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বয়সি মানুষ ছিলেন ফরাসি নারী জেন লুইস কেলমেন্ট, ১৮৭৫ সালে জন্মগ্রহণ করা এই নারী ১৯৯৭ সালে ১২২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার এই রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারবেন কিনা, তা অজানা। তবে অধ্যাপক জন ইনমাহ বলেন, তার গবেষণাপত্রটি আগামী মাসে প্রকাশিত হবে, যেখানে দীর্ঘ জীবনযাপনের রহস্য প্রকাশিত হতে পারে।


আরো সংবাদ