১৯ জুলাই ২০১৮

কেন বাড়ছে নারী-প্রধান পরিবারের সংখ্যা?

জনসংখ্যা
এই গার্মেন্টস কর্মীর মতো অনেকেই এখন পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। - ছবি : বিবিসি

বাংলাদেশের পরিবারগুলো প্রধানত পুরুষ-প্রধান হলেও যেসব পরিবারে কর্ত্রী হিসেবে নারী রয়েছেন তাদের সংখ্যা ইদানীং বাড়ছে বলে সরকারি তথ্যে জানা যাচ্ছে।

আর এসব নারীর বেশিরভাগই হয় বিধবা, নয়তো তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ অনুযায়ী, প্রতি ১০০টি পরিবারের মধ্যে ১৪টি পরিবারের প্রধান এখন নারী।

দু’হাজার তের সাল থেকে এই হার বাড়ছে বলে পরিসংখ্যানে জানা যাচ্ছে।

দশ বছর আগে নারী-প্রধান পরিবারের হার ছিল ১০.৩%।

জরিপের ফলাফল থেকে আরও জানা যাচ্ছে যে অল্প বয়সী মেয়েরাই এখন পরিবারের হাল ধরছেন।

বয়স ১৫ বছরের কম এমন নারী এখন ২১.৬% পরিবারের কর্ত্রী।

অন্যদিকে, ১৫ থেকে ৬০-এর মধ্যে বয়স এমন নারী এখন ১৩.৪% পরিবারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৮৪.৮% পরিবারের প্রধান যে নারী তিনি হয় বিধবা, নয়তো স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ হয়েছে।

অন্যদিকে, শতকরা ১৪ ভাগ পরিবারের প্রধান অবিবাহিত নারী।

যেসব নারী পরিবারের হাল ধরেছেন তাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রাম বিভাগে (২১.৫%)। তারপরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ।

কিন্তু এই দুটি বিভাগে কেন নারী-প্রধান পরিবারের সংখ্যা বেশি, সে সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা করা হয়নি।

অন্যদিকে, এই ধরনের পরিবারের সংখ্যা সবচেয়ে কম রংপুর বিভাগে।

অর্থাৎ সেখানে পুরুষরাই পরিবারের হাল ধরেছেন বেশি।

আরো পড়ুন :

‘দেশে মানুষের আয়ু বেড়েছে : কমছে মুসলিমদের সংখ্যা’
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ২৭ জুন ২০১৮
দেশে পুরুষের সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার জন বেশি। মোট জনসংখ্যার ৮ কোটি ১৯ লাখ ১০ হাজার পুরুষ এবং ৮ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার নারী বলে পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জরীপে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবিএসের তথ্যানুযায়ী দেশে মুসলমানের সংখ্যা কমছে, বেড়েছে অন্যান্য ধর্মাম্বীর সংখ্যা।

আগারগাওস্থ ব্যুরোর কার্যালয়ে আজ বুধবার পরিকল্পনান্ত্রীর উপস্থিতিতে এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ও নারীর সংখ্যা প্রায় সমান। মানুষের আয়ুস্কাল ৭০.৪ বছর থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ বছরে। তবে পুরুষের আয়ু ৭০.৬ বছর এবং নারীদের ৭৩.৫ বছর।

অন্যদিকে দেশে পুরুষ প্রতিবন্ধির হার বাড়ছে। বাড়ছে তালাকপ্রাপ্তের সংখ্যা।

শীর্ষ ৫ গড় আয়ুর দেশ
জন্ম-মৃত্যু একমাত্র সৃষ্টিকর্তার হাতে। তবুও রঙিন এ দুনিয়ায় বেশি দিন বেঁচে থাকতে চায় সবাই। চাইলেই তো আর তা সম্ভব নয়। সারাবিশ্বের মানুষের গড় আয়ু যেখানে ৭১ বছর; সেখানে হাজার বছর বেঁচে থাকতে চাওয়াতো নিছক কল্পনা ছাড়া কিছুই নয়। তারপরও স্বপ্নের এই পৃথিবীতে একদিন বেশি বেঁচে থাকার বাসনাতেও কত কিছু করে! সে বাসনা সবসময় পূরণ না হলেও কিছু কিছু দেশের মানুষের গড় আয়ু কিন্তু স্বাভাবিকের চেয়ে বেশিই।

বিবিসির ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেজ রিপোর্ট-২০১৭ এ উঠে এসেছে গড় আয়ুতে সর্বোচ্চ পাঁচ দেশের নাম-

দক্ষিণ কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়াই বিশ্বের একমাত্র দেশ যার অধিবাসীরা ৯০ বছর বেঁচে থাকার প্রত্যাশা করতে পারে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় তাদের গড় আয়ু সম্পর্কে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে। শক্তিশালী ও বর্ধনশীল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবায় প্রচুর সুযোগ, পশ্চিমাদের চেয়ে নিম্ন রক্তচাপ দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষকে এতদূর নিয়ে গেছে।

দক্ষিণ কোরিয়রা প্রক্রিয়াজাত খাবার খেয়ে থাকে যা কম কোলেস্টরল সম্পন্ন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। তাদের খাবারে প্রচুর আঁশ থাকে যা প্রচুর পুষ্টি সম্পন্ন। এসবের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ায় সামাজিক সম্পর্কও বেশ ভাল। এখানকার বাসিন্দারা সামাজিকভাবেই বিভিন্ন বিনোদনে অংশ নেয়-যা মানসিক চাপ সামলাতে সাহায্য করে। এমন নানা ইতিবাচক বিষয়ের জন্য তারা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গড় আয়ুর দেশ হতে পেরেছে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

সিঙ্গাপুর
দীর্ঘায়ুর দেশের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানেই আছে সিঙ্গাপুর। দেশটির অধিবাসীদের গড় আয়ু ৮৩ বছর এক মাস। দেশটির উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এর পেছনে অন্যতম অনুঘটক বলে মনে করা হয়। দেশটির স্বাস্থ্য সেবা এতটাই উন্নত যে একে ‘আশ্চর্যজনক স্বাস্থসেবা’ পদ্ধতিও বলা হয়ে থাকে।

দেশটিতে মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার খুবই কম যা বিশ্বে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর সর্বনিম্ন দেশগুলোর একটি। দেশটির সংস্কৃতি ও পরিবেশও গড় আয়ু বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। দেশটির মানুষের রয়েছে নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস। জিমনেশিয়ামে কিংবা পার্কে গিয়ে তারা ব্যায়াম করে যা সুস্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক। দেশটিতে অ্যালকোহল সহজলভ্য হলেও সিগারেট ও অ্যালকোহলে বসানো হয়েছে উচ্চহারে কর। মাদকমুক্ত জীবন গড় আয়ু বৃদ্ধি করেছে বলেও ধারণা তাদের।

জাপান
গড় আয়ুতে ওপরের দিকেই আছে জাপানের নাম। এ দেশের বাসিন্দারা গড়ে ৮৩ বছর বেঁচে থাকে। গড় আয়ু বেশি হওয়ায় অনেকে দেশটিকে ‘অমরত্বের ভূমি’ হিসেবেও উল্লেখ করে থাকে। জাপানের গড় আয়ুর রহস্য জানতে চার শতাধিক শতবর্ষীর উপর এক গবেষণা চালানো হয়। এ থেকে জাপানীদের গড় আয়ু বৃদ্ধির প্রধান নিয়ামক হিসেবে এসেছে স্থানীয় খাবারের নাম। জাপানের স্থানীয় খাবারই তাদের এতদিন বাঁচিয়ে রাখে যার মধ্যে রয়েছে- টফু নামক এক বিশেষ খাবার, মিষ্টি আলু এবং মাছ।

এ ছাড়া জাপানীদের শক্তিশালী সামাজিক কাঠামো গড় আয়ু বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। সামাজিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হওয়ায় জাপানীরা মানসিকভাবে কম চাপের মধ্যে থাকে। বয়স্করা পরিবার তথা সমাজের দেখভাল পায় বলে তারা বেঁচে থাকার উপযুক্ত পরিবেশ পায়। আর এতেই বাড়ে দেশটির গড় আয়ু।

স্পেন
গড় আয়ুতে জাপানের কাছাকাছি রয়েছে স্পেনের নাম। তাদের গড় আয়ু জাপানের চেয়ে মাত্র ৪ মাস কম অর্থাৎ ৮২ বছর ৮ মাস। স্পেনের গড় আয়ুর এ উন্নতির পেছনেও খাবারকেই কৃতিত্ব দেওয়া হয়। ভূমধ্য অঞ্চলের খাবার, অলিভ অয়েল যা হার্টকে সুস্থ্য রাখে, শাকসবজি এবং ওয়াইন বেশিদিন বাঁচিয়ে রাখে বলে বিশ্বাস তাদের। অনেকেই স্প্যানিশদের সুশৃঙ্খল জীবনযাপনকেও গড় আয়ু বৃদ্ধির জন্য সহায়ক বলে মনে করেন।

সুইজারল্যান্ড
ইউরোপের অন্যতম ধনী এ দেশের গড় আয়ু ৮১ বছর। খুবই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, ব্যক্তি নিরাপত্তা, সুস্থ থাকার অনুভূতি দেশটির মানুষকে বেশি দিন বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে। বিশ্বের অন্যতম দুগ্ধ উৎপাদনকারী এ দেশের গড় আয়ু বৃদ্ধিতে পনির ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবারের ভূমিকার কথাও বলেন অনেকে।


আরো সংবাদ