১৯ জুলাই ২০১৮

ভিডিও ভাইরাল : অসুস্থ্য মাদ্রাসা শিক্ষককে ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতন

মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ হুজাইফাকে শাহবাগে মারধোর করা হচ্ছে - সংগৃহীত

কোটা বিরোধী আন্দোলনকারী ভেবে অসুস্থ্য এক মাদ্রাসা শিক্ষককে ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতনের ভিডিও ভা্ইরাল হয়েছে। গত তিনদিন আগে ঘটে এ ঘটনা। হামলার শিকার ব্যক্তি একজন মাদ্রাসা শিক্ষক। তারা নাম মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ হুজাইফা। তিনি কামরাঙ্গিরচর জামিয়া মাহমুদিয়া মাদ্রাসার মুফতি ও মুহাদ্দিস।
ঘটনার দিন তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাবার পথে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন। আন্দোলনকারী ভেবে ছাত্রলীগ তার উপর হামলা করে। শুরু হয় নির্যাতন। ভিডিওতে দেখা যায়, অনেক আকুতি মিনতির পরও তার উপর নির্যাতন চলছে। পুলিশের সামনেই ঘটে এ ঘটনা।

এ নিয়ে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে মানুষের ক্ষোভের শেষ নেই। তাদেরই একজন মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজি। ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে দেয়া তার স্টাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

‘জাহেলিয়াতের ঘোর অমানিশায় দেশ’
কয়েকদিন ধরে অসুস্থ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ হুজাইফা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (পি জি) হাসপাতালে গিয়েছিলেন চিকিৎসা নিতে। আনুমানিক বিকাল ৪টা। শাহবাগ হয়ে ফিরছেন কামরাঙ্গিরচর আপন খেদমতস্থলে। বি বাড়িয়ার এক মাদ্রাসা থেকে ফারেগ হওয়া এই মাওলানা বসুন্ধরা মাদ্রাসা থেকে ইফতা সম্পন্ন করে এ বৎসরই মুফতি ও মুহাদ্দিস হিসাবে যোগ দিয়েছেন কামরাঙ্গিরচর জামিয়া মাহমুদিয়ায়।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি তে দেখা যায় অসুস্থ হুজাইফা কয়েকজনের আক্রমণের শিকার হয়ে চিৎকার করে বলছেন- ‘আমি কিছুই করিনি, আমি কিছুই করিনি, আপনারাতো আমার কথা শুনবেন’। ‘কিন্তু কে শুনে কার কথা? পুলিশের সামনেই তাকে আঘাতের পর আঘাত চলতে থাকে। অতপর হস্তান্তর করে পুলিশে। হয়তো এ নিয়ে অনেকেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিবে, জানাবে নিন্দাবাদ’।

‘তাতে কী হবে? কেউ কি ভেবে দেখছে? দেশে আইন আছে, আছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কোর্ট-কাচারী, উঁচা কোর্ট, বহুত উঁচা কোর্ট সবই আছে। তারপরেও একজন নিরীহ মানুষ দিনের আলোতে প্রকাশ্যে সঙ্ঘবদ্ধ সন্ত্রাসীচক্রের হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অথচ তার কোন প্রতিকার হচ্ছে না। বিচার হচ্ছে না।
ব্যক্তিগতভাবে আজ হয়তো কেউ ভালো আছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কাল কতটা ভয়াবহ বিপদ নেমে আসবে তা আক্রান্ত হওয়ার পরেই বুঝে আসবে। তখন অবশ্য কপাল থাবড়ানো ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না।
ভেবে দেখ! আজ সে, কাল আমি, পরশু তুমি আক্রান্ত হবে। আমার মত তোমার চিৎকারও একদিন ষোল কোটি মানুষ নির্বাক হয়ে শুনবে। এভাবেই হারিয়ে যাবে দেশ জাহেলিয়াতের ঘোর অমানিশায় যদি তোমরা জেগে না উঠ’।

 

সময় মতোই জনবিষ্ফোরণ ঘটবে : বিএনপি
সরকারের বিরুদ্ধে সময় মতোই ‘জনবিস্ফোরণ’ ঘটবে বলে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ড্যাবের চিকিৎসক সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। সমাবেশে তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনে সরকার যে জয় ছিনিয়ে নিচ্ছে তা দলের লোকদের সহায়তায় নয় প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় তারা এসব করছে। জনগণ মিডিয়ার মাধ্যমে এসব দেখছে ও তাদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম নিচ্ছে। এই ক্ষোভ এক সময় জন বিষ্ফোরণের সৃষ্টি করবে।

ড্যাব’র সিনিয়র সদস্য অধ্যাপক ডা. সিরাজউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডাঃ আবদুল মান্নান মিয়া, অধ্যাপক ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক ডাঃ আবদুল কুদ্দুস, ডাঃ বজলুল গণি ভূঁঞা, অধ্যাপক ডাঃ মোস্তাক রহিম স্বপন, অধ্যাপক ডাঃ আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক ডাঃ শাহাবউদ্দিন, অধ্যাপক ডাঃ সামছুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডাঃ এ এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, অধ্যাপক ডাঃ আব্দুর রশিদ, অধ্যাপক ডাঃ আলিমুজ্জামান, ডাঃ সাইফুল ইসলাম সেলিম, ডাঃ আজহারুল ইসলাম, ডাঃ এ বি এম ছফিউল্লাহ, ডাঃ মোঃ রেহান উদ্দিন খান, ডাঃ সাইফ উদ্দিন নেছার আহমেদ তুষান, ডাঃ আদনান হাসান মাসুদ, ডাঃ এম এ কামাল, ডাঃ গোলাম মোস্তাফা, ডাঃ মোফাখখারুল ইসলাম রানা, ডাঃ এ এস এম আতিকুল ইসলাম, ডাঃ হাসনুল আলম শামীম, ডাঃ রুস্তম আলী মধু, ডাঃ শরীফ সাহাবুর রহমান তুষার, ডাঃ ফারুক হোসেন, ডাঃ রেজাউল করিম নিপ্পন, ডাঃ শামসুজ্জামানসহ প্রমুখ।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার কাজ করছি আমরা। এ লক্ষ্যে যা প্রয়োজন তাই করা হবে। জনগণ যথা সময়ে তা জানতে পারবেন। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি সরকারী দলের নেতাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘তারা বলছেন নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে ফাইনাল খেলা। আমরাও সেই ফাইনাল খেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। সেই খেলায় প্রস্তুতি নিতে চিকিৎসকসহ সকল পেশাজীবীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা যখনই কোনো আন্দোলন শুরু করি আমাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে আওয়ামী লীগ দাঁড়ায় না। আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায় র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি। অর্থাৎ এই সরকার আর জনগণের সরকার নেই, প্রশাসন ও পুলিশের সরকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকার পতনের লক্ষ্যে আমাদের প্রতি আস্থা রেখে সকল সিদ্ধান্তে পেশাজীবীসহ সকলেই এগিয়ে আসবেন। এবার বিজয়ের সময়। এ বিজয়ে সকলকে থাকতে হবে এবং প্রস্তুতি নিতে হবে।

চিকিৎসক সমাবেশে সোবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র চিকিৎসা নিয়ে সরকারের অনৈতিক আচারণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয় এবং তাঁকে পছন্দমত হাসপাতালে চিকিৎসা ও তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়।


আরো সংবাদ