২৩ জুলাই ২০১৮

জীবন থেকে নেয়া

মাহাথির মোহাম্মদ - ছবি : এএফপি

কুরআনে আরো অনেক নির্দেশ রয়েছে, যেগুলোর ভুল ব্যাখ্যা ও ভুল বোঝার কারণে মুসলমানদের প্রভূত ক্ষতি হয়েছে। এটা যথার্থ যে, মুসলমানদেরকে যেকোনো সমস্যা ও বিপদে প্রার্থনার মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে।
ধর্মগুরুগণ আপদে-বিপদে প্রার্থনা এবং আল্লাহর কাছে আবেদনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে থাকেন। কিন্তু কুরআনের সেই নির্দেশনার প্রতি জোর দেয়া হয় না, যেখানে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটান না, যতক্ষণ না তোমরা নিজেরা নিজেদের পরিবর্তনের চেষ্টা করবে।’ অর্থাৎ, আমরা নিজেরা নিজেদের সাহায্যের চেষ্টা করব, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মুসলিমদের বর্তমান শোচনীয় অবস্থার জন্য তারা নিজেরা অনেকাংশে দায়ী। কেননা, আল্লাহর নিকট প্রার্থনা ব্যতীত আর কিছুই করছেন না বা যা করছেন তা খুবই সামান্য। বিশ্বে আল্লাহ প্রায় ১৩০ কোটি মুসলমানকে সর্বাধিক ধনাঢ্য জাতির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আল্লাহ তাদের তেলের অসীম সম্পদ দান করেছেন। কিন্তু তারা কি বলতে পারেন, বর্তমান অবস্থার উত্তরণে সে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে?
সুস্পষ্টভাবে তারা নিজেদের সাহায্য করার ক্ষেত্রে কুরআনের নির্দেশ অনুসরণ করছেন না, যদিও তারা আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। অন্যকে দোষারোপ করে তাদের কোথাও পাবেন না। কারণ, মুসলমানদের রক্ষার জন্য অন্যরা এগিয়ে আসবে এমন প্রত্যাশা করতে পারেন না, যখন মুসলমানেরা বাস্তবে নিজেদের রক্ষার জন্য কিছুই করছেন না।
একটা সময় ছিল যখন ইসলাম ও ইসলামের শিক্ষা সম্পর্কে সন্দিগ্ধ হয়ে পড়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় ইসলামের কিছু শিক্ষার বিষয়কে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালাম।

ইসলাম বাহ্যিকভাবে অন্য ধর্মের তুলনায় বিশ্বাসীদের কোনো প্রশ্ন ব্যতিরেকে সব কিছু ধর্মের বিধিবিধান হিসেবে গ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করে থাকে। অন্ততপক্ষে ইসলামের বিজ্ঞজনদের শিক্ষা এরূপই। যা শেখানো হয়, তাই বিশ্বাস করো। কোনো প্রশ্ন কোরো না। কিন্তু একজন বিজ্ঞানী হিসেবে সব কিছুতেই প্রমাণ খোঁজার শিক্ষা আমাকে দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞানে যা পাচ্ছি, তা আমার ধর্মের শিক্ষাকে সব সময় বিতর্কিত করে তুলছে বলে মনে হচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে সব কিছুর যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেয়া হয়। সব কিছু যুক্তিনির্ভর বলে গ্রহণের জন্য তা সহজ হয়ে থাকে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীবাণু বা মানবশরীরের ‘ম্যালফাংশন’ দ্বারা রোগ সৃষ্টি হয়। কোনো ব্যথা উপশম করতে শরীরকে পারিপার্শ্বিক ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে হয়। জীবাণু ধ্বংস করতে হবে নতুবা রোগাক্রান্ত অংশ কেটে ফেলতে হবে। না হলে তুমি ব্যর্থ হবে এবং রোগী মারা যাবে।

সর্বশক্তিমান আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার জন্য তুমি প্রার্থনা ও আবেদন করতে পারো। কিন্তু মানুষকে বাঁচাতে হলে অবশ্যই নির্ধারিত চিকিৎসা দিতে হবে। রোগী যদি বেঁচে যাওয়ার দিকে উন্নতি লাভ করতে থাকে, তবে সে বেঁচে যাবে। তুমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করো আর না-ই করো। অমুসলিমরাও বেঁচে যান। বাস্তবে মুসলমানেরা চিকিৎসার জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অমুসলিম চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে থাকেন।
আমি সন্দিগ্ধ হয়ে পড়লাম ও অস্বস্তিতে ভুগতে লাগলাম। কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাস পরিত্যাগ করতে পারছিলাম না। তথাপি যা দেখছি, তাতে ধর্ম কিংবা যে ধর্মে আমি বিশ্বাস করি, সেই ইসলাম দিয়ে এর ব্যাখ্যা দিতে পারছিলাম না। আমার ধর্মীয় শিক্ষকগণ ধর্মে এসব যুক্তি বা এর ধারণার বিষয়ে প্রচণ্ডভাবে আপত্তি জানালেন। তারা কেবল ধর্মে বিশ্বাসের কথা বললেন। তারা ‘আল্লাহর বাণী’ হিসেবে যা বললেন, তা আমাকে মেনে নিতে হবে। তাতে কোনো যুক্তি দেখানো যাবে না। সরলভাবে বিশ্বাস করার কথা বললেন।

কিন্তু আমার জিজ্ঞাসু মন শুধু বিশ্বাস করতে অস্বীকার করল। আল্লাহর বাণী অবশ্যই যৌক্তিক হবে, যুক্তিনির্ভর হবে। ধর্ম কেবল ধর্মীয় বিধিবিধান পালনের বিষয় হতে পারে না। সব কিছুর পেছনেই কারণ থাকবে। কেননা, আল্লাহ মানুষকে চিন্তা করার শক্তি দিয়েছেন। চিন্তা করা মানেই হলো, যুক্তিনির্ভর হওয়া। এটা হতেই পারে না যে, আমাদের বিশ্বাসে কোনো যুক্তি নেই। দীর্ঘ সময় ধরে জীবনের অলৌকিকতার বিষয়ে যুক্তি খোঁজার চেষ্টা করেছি। বিজ্ঞান আমাকে শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া সম্পর্কে শিক্ষা দিয়েছে, যেমনÑ আমাদের খাওয়া, নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ, শরীর থেকে বর্জ্য নিঃসরণ ইত্যাদি। কিন্তু কেন আদৌ আমরা বেঁচে থাকি, যদিও এসব খাবার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করে শেষ পর্যন্ত আমরা মারা যাই? এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে জীববিজ্ঞান, রসায়ন ও পদার্থবিদ্যা অধ্যয়নের সময় জীবনের এই অলৌকিকতা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে থাকি। অতঃপর, ধীরে ধীরে আমার নিকট স্পষ্ট হতে থাকে যে, বিজ্ঞান আসলে ‘কেন’-এর ব্যাখ্যা দিতে পারে না। এটা কেবল ‘কিভাবে’ ছিল বা ঘটে, তার ব্যাখ্যাই দিতে পারে।
আমাদের বলা হয়েছে, দেহে অক্সিজেনসমেত রক্ত সংবহনের জন্য আমরা বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করি, যা টিস্যু কোষে জারিত হয়ে কোষকে জীবিত রাখে। পরে কোষগুলো জারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বর্জ্যকে রক্তের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত করে, যা পরবর্তী পর্যায়ে কার্বনডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য বর্জ্য আকারে হৃৎপিণ্ড, যকৃত বা অন্যান্য নি¤œাঙ্গ দিয়ে বের হয়ে যায়। এভাবে জীবজন্তু, প্রাণী বা মানুষ বেঁচে আছে।

কিন্তু কেন এমন ঘটে? ওপরে যে প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে, তা ‘কিভাবে’ অক্সিজেন শরীরে বিজারিত হয়ে বর্জ্য উৎপন্ন করে তারই ব্যখ্যা দেয়, কিন্তু এ প্রক্রিয়া জীবকে ‘কেন’ জীবন দান করছে, সে সম্পর্কে কোনো জবাব দিতে পারে না।
কেন অক্সিজেন? ক্লোরিন বা অন্য কোনো গ্যাস নয় কেন? বিজ্ঞান ব্যাখ্যা দেয় যে, ক্লোরন শরীরে বিষক্রিয়া ঘটায়। বিজ্ঞান সবশেষে ব্যাখ্যা দিয়েছে, ক্লোরিন জীবন্ত প্রাণীর মৃত্যু ঘটায়। প্রতিবারই প্রশ্ন করেছি, কেন কিছু জিনিস একইরূপ আচরণ করে থাকে, তা জীবন্ত বা ‘মৃত’ যাই হোক না কেন। অবশ্যই তা কিভাবে ঘটল, সে প্রক্রিয়ার কথাই কেবল ব্যাখ্যা দেয়।
উপসংহার টানতে বাধ্য হয়েছি যে, কোনো একটি শক্তি রয়েছে, যা প্রতিটি বস্তুর আচরণকে একইভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। বিজ্ঞানীরা এটাকে বলে থাকেন ‘প্রকৃতি’। কিন্তু প্রকৃতি কী? কেন সে প্রত্যেক বস্তুর কার্যক্রমকে এভাবে নির্ধারণ করে দেয়?

আমি শেষ কথা হিসেবে বললাম, বিজ্ঞানীরা প্রকৃতির এই শক্তি থাকার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কেননা, প্রকৃতিতে যে একটি শক্তি বিদ্যমান, তার ব্যাখ্যা তারা দিতে পারছিলেন না। তারা ব্যাখ্যা দিতে পারছিলেন না যে, এই শক্তি বিশ্বে যা কিছু ঘটছে, তার সবই নিয়ন্ত্রণ করছে। এই শক্তি এমনকি বিজ্ঞানের বিধিগুলোকে এবং যে পদ্ধতিতে তারা প্রতিটি ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া পরিচালনা করছে; তাও নির্ধারণ করে দিয়েছে।
আমি উপসংহার টানলাম, এই ‘প্রকৃতি’ হলো অবশ্যই সেই বিধাতা বা আল্লাহ, সর্বশক্তিমান, সেই শক্তি, যা সব কিছুই নির্ধারণ করে দিচ্ছে এবং যা পৃথিবী ও এর বাইরের সমস্ত বস্তুর আচরণ নিয়ন্ত্রণ করছে।
আমাদের যা বিশ্বাস করতে শেখানো হয়েছে, তা থেকে এ শক্তি আরো অনেক বড়। এখন আমরা জানতে পারছি যে, অগণিত তারকারাজি ও নক্ষত্রপুঞ্জ নিয়ে এ বিশ্বজগৎ অনেক অনেক বিশাল। আমাদের আগে যে ধারণা দেয়া হয়েছিল, তার থেকে অনেক অনেক বেশি। মহাশূন্যের বিশালতা এত বেশি যে, একটি মাত্র নক্ষত্রপুঞ্জের মধ্য দিয়ে ভ্রমণেও বহু আলোকবর্ষ সময়ের প্রয়োজন হয়।

অপরপক্ষে, এ পৃথিবীর প্রতিটি বস্তুই ইলেকট্রন, প্রোটন ও অন্যান্য কণা দ্বারা গঠিত, যা এত ছোট ও ক্ষুদ্র যে, সেসব খালি চোখে দেখা যায় না। এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাগুলো বস্তুর গুণাগুণ ও আচরণ নির্ধারণ করে থাকে। অণু পর্যায়ে তারা এমন হালকাভাবে গ্যাস হিসেবে সজ্জিত থাকে যে, বস্তু তাদের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। কিন্তু কঠিন বস্তু রূপে এমন নিবিড়ভাবে বিন্যস্ত থাকে যে, তারা বাহ্যিক আকার পরিবর্তনের প্রবল প্রচেষ্টাকে বাধা দেয়। এটা এমন এক শক্তি, যা অপরিমেয় এ বিশ্বজগৎ ও এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরমাণু, ইলেকট্রন, প্রোটন এবং অন্যান্য সাব-অ্যাটোমিক কণাগুলো সৃষ্টি করে। এ এমন এক শক্তি, যা সমস্ত বস্তুর গুণাগুণ ও আচরণ নির্ধারণ করে দেয়; এমন এক শক্তি যা জীবন সৃষ্টি করে এবং রাসায়নিক, দৈহিক ও জৈবিক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এমন এক শক্তি, যা বিশ্বের ক্ষুদ্রতম থেকে বৃহত্তম সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করে; যা অবশ্যই মানববোধের অতীত। সেই শক্তির নাম অবশ্যই সৃষ্টিকর্তা, আল্লাহ। আমরা যদি সেই স্র্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস না করি, তবে বিশ্বজগতে যা কিছুই ঘটছে, তা কেন ঘটছে, তার ব্যাখ্যা দিতে পারব না। আমরা কেবল হারিয়ে যাবো, বুঝতে পারব নাÑ বস্তু যেভাবে আছে, কেন তারা সেভাবে আছে। এটা আবিষ্কার করে স্বস্তিবোধ করতে লাগলাম। বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতার বিষয় বুঝতে পারলাম। বিজ্ঞান কেবল বস্তু কিভাবে কাজ করে, তার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারে এবং বিজ্ঞানের জ্ঞান বাস্তব নানা কাজে লাগে। কিন্তু তা বিজ্ঞান যে পর্যন্ত যেতে পারে, সে পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। যখনই বিজ্ঞানকে প্রশ্ন করা হবে, কেন বস্তু এভাবে কাজ বা আচরণ করে, তখন তার কাছ থেকে আর কোনো জবাব পাওয়া যায় না।
স্টেমসেল ইত্যাদি ব্যবহার করে আমাদের বিজ্ঞানীরা এখন ক্লোনিং পদ্ধতির মাধ্যমে জীবন ‘সৃষ্টি’ করছেন। তারা সফল হয়েছেন এবং তারা বলতে পারেন, কিভাবে তারা তা করেছেন। কিন্তু যখন প্রশ্ন করা হবে কেন ‘ক্লোন’ করা সম্ভব হয়, নতুন জীবন সৃষ্টি করা সম্ভব? তখন তারা নিরুত্তর।

আল্লাহ বা বিধাতা কর্তৃক জীবন্ত বস্তুর আচরণ যেভাবে নির্ধারিত হয়েছে, তারা কেবল সেটাই প্রদর্শন করেছেন, এর চেয়ে বেশি কিছুই নয়। মোটের ওপর আমরা প্রত্যেকেই জীবন সৃষ্টি করতে পারি। জন্মের অলৌকিকতার মধ্য দিয়ে আমরা তা করতে পারি। শুক্রাণু কিভাবে ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে, তা আমরা ব্যাখ্যা করতে পারি, কিন্তু কেন করে তা আমরা ব্যাখ্যা করতে পারি না? কেন মানুষ ডিম পাড়তে পারে না। এই প্রক্রিয়া একইভাবে জীবন সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু আমাদের একজন মহিলার গর্ভে তা ধারণ করা হয়। আল্লাহ যদি মানুষকে ডিম পাড়ার মাধ্যমে সৃষ্টি করতে চাইতেন, তখন আমরা কী বলতাম? আমরা ব্যাখ্যা করব- কিভাবে ডিম পাড়া হয়, নিষিক্ত করা ও তা দিয়ে ডিম ফুটানো হয়। কিন্তু আমরা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হতাম না কেন মহিলার গর্ভে সন্তান ধারণ করা হয় না, এখন যেমন হয়। যা আমরা বলতে পারি, তা হলো এটা বিধাতার ইচ্ছা।
প্রথমত ধীরে ধীরে, কিন্তু যখনই আমি বিজ্ঞানের ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে দ্রুত জ্ঞান সঞ্চয় করলাম, তখন আমার বিশ্বাস ফিরে পেলাম।

আগের চেয়ে আমার বিশ্বাস আরো মজবুত হলো। কারণ, এখন যা জানতে পেরেছি, তা প্রাথমিক যুগের আরব মুসলমানেরা জানতেন না। তারা যা ভাবতেন, তার চেয়ে অনেক বিশাল আল্লাহর শক্তি। লাখ লাখ বছরে এ শক্তি আরো বিস্তৃত হয়েছে, যা অকল্পনীয়ভাবে বিপুল এ বিশ্বজগৎ পরিচালিত করছে। বিজ্ঞান সৃষ্টিকর্তার শক্তিকে অস্বীকার করতে পারছে না। বিজ্ঞান বিশ্বাসকে নির্বাসিত করতে পারছে না। সুতরাং বিজ্ঞানচর্চায় কোনো ভয় নেই। বিজ্ঞানের সাধনা বিশ্বাসের অমর্যাদা করছে না, বরং বিশ্বাসকে তা আরো মজবুত করবে। সুতরাং মুসলমানেরা কেন বিজ্ঞানচর্চা করবে না, তার কোনো যুক্তি নেই।

আমি বিষয়টিকে খুব গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মনে করি। কেননা, মুসলমানদের পশ্চাৎপদতার অন্যতম কারণ হলো, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তাদের অজ্ঞতা। কিন্তু বিজ্ঞান ‘কিভাবে’ কাজ করে, তার চর্চা ছাড়া আমরা আল্লাহর সৃষ্টিকে আমাদের কল্যাণে ব্যবহার করতে পারব না।হ
লেখক : মালয়েশিয়ার দীর্ঘকালীন প্রধানমন্ত্রী, যিনি আবার নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ৯২ বছর বয়সে সম্প্রতি সে দায়িত্ব পুনরায় গ্রহণ করেছেন। তার জীবনভিত্তিক লেখা থেকে নেয়া নিবন্ধ 

অনুবাদ : এম এন আমীন


আরো সংবাদ