২০ জুলাই ২০১৮

অধ্যক্ষসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ

ধর্ষণ,ভারত
অভিযোগকারিণী - ছবি: নয়া দিগন্ত

বাবা জেল খাটছিলেন। আর সেই সুযোগ নিয়ে গত সাত মাস ধরে এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল তারই স্কুলের অধ্যক্ষ, দুই শিক্ষকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে। শুধু অধ্যক্ষ এবং শিক্ষকই নন, এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে ওই ছাত্রীরই ১৫ জন সহপাঠীর বিরুদ্ধে।

ভারতের বিহারের ছাপরার একটি স্কুলের ঘটনা।

বছর তেরোর ওই ছাত্রী এই ঘটনায় জড়িত মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। তার অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যক্ষ ও দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে দুই ছাত্রকেও। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।


ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭-র ডিসেম্বরে। ছাত্রীর অভিযোগ, সে মাসেই তাকে প্রথম ধর্ষণ করে তারই সহপাঠী এক ছাত্র। এর পর শুরু হয় ব্ল্যাকমেলের পালা। পাশাপাশি চলতে থাকে হুমকিও। এর পর ওই ছাত্রের সঙ্গে যোগ দেয় আরও ৪-৫ জন ছাত্র। তার পর স্কুলের অধ্যক্ষ এবং দুই শিক্ষক। এই ভাবে বাড়তে বাড়তে সংখ্যাটা এক সময় ১৮-য় গিয়ে দাঁড়ায়।

অভিযুক্তরা ধর্ষণের পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি ও ব্ল্যাকমেল করতে থাকে। বাবা জেল খাটার কারণে ঘটনাটা কাউকে জানানোর সাহস পায়নি বলে পুলিশকে জানিয়েছে ওই ছাত্রী। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই বাবাকে পুরো ঘটনাটি জানায় সে। এর পরই মেয়েকে নিয়ে ওই ব্যক্তি পুলিশের দ্বারস্থ হন। ছাপরার পারসাগড়ে একমা থানায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করে ওই ছাত্রী।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গ্রেফতার করা হয় স্কুলের অধ্যক্ষ এবং দুই শিক্ষককে। আটক করা হয় দুই ছাত্রকে। মহিলা থানায় ছাত্রীটির গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তদন্তের জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড করা হয়েছে। -আনন্দবাজার

 

আরো পড়ুন: ভারত নারীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ

রয়টার্স ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

বিশ্বে নারীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ ভারত। নারীদের উপর যৌন নির্যাতন চালানো, বাধ্যতামূলক দাস হিসেবে ব্যবহার করাসহ বিভিন্ন কারণে নারীদের জন্য ভয়ঙ্কর ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় ভারতের অবস্থান এখন সবার উপরে। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

‘থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের ৫৫০ জন বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরিচালিত এই জরিপে দেখা যায়, যৌন নিপীড়ন, মানবপাচার, বাধ্যতামূলক শ্রম, জোর করে বিয়ে দেয়া, যৌন দাসত্ব, অ্যাসিড নিক্ষেপ, বাল্যবিয়ে, শারীরিক অপব্যবহার, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, জনন সম্বন্ধীয় কারণে অঙ্গহানিসহ আরও অনেক কারণে বিশ্বে ভারত নারীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশে পরিণত হয়েছে।

জরিপে ভারতের পরই বিপজ্জনক দেশের তালিকায় যুদ্ধবিদ্ধস্ত আফগানিস্তান, সিরিয়া, সোমালিয়া ও সৌদি আরবের নাম রয়েছে। এরপরই পাকিস্তান রয়েছে ষষ্ঠ অবস্থানে। আর একমাত্র পশ্চিমা দেশ হিসেবে প্রথম দশটি দেশের তালিকার দশমস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশ নিয়ে ২০১১ সালেও এই প্রতিষ্ঠান জরিপ পরিচালনা করে। সেই তালিকায় প্রথম পাঁচটি দেশ ছিল আফগানিস্তান, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, পাকিস্তান, ভারত এবং সোমালিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, নয়াদিল্লীতে চলন্ত গাড়িতে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার পর সৃষ্ট জনরোষে নারীদের সুরক্ষার বিষয়টি জাতীয় অগ্রাধিকার প্রদানের ঘোষণা দেয়ার পর পাঁচ বছরের বেশি পার হলেও এ বিষয়ে খুব বেশি কাজ না করায় ভারত পূর্বের চতুর্থ অবস্থান থেকে প্রথম অবস্থানে চলে এসেছে।

কর্ণাটক রাজ্য সরকারের একজন কর্মকর্তা মনজুনাথ গঙ্গাধরা বলেন, ‘নারীর নিরাপত্তার বিষয়টি ভারত চরম অবহেলা করছে এবং নারীদের অসম্মান করছে। ধর্ষণ, বৈবাহিক ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং হয়রানিসহ মেয়ে শিশু হত্যা চলছেই। ভারত বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ এবং মহাকাশ ও প্রযুক্তি খাতে নেতৃত্বদানকারী দেশ হলেও কেবল নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় আমাদের লজ্জা পেতে হচ্ছে।’

দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৭ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভারতে নারী নির্যাতন আগের তুলনায় ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি এখনও দেশটিতে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতি ঘন্টায় চারটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে। জরিপ পরিচালনার সময় উত্তরদাতাদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক সম্পদ, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি পালন, মানব পাচার এবং যৌন ও অযৌন সহিংসতার ক্ষেত্রে জাতিসঙ্ঘের সদস্য ১৯৩ টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ দেশের নাম জানতে চাওয়া হলে এই ক্যাটাগরিতেও শীর্ষ দেশ হিসেবে ভারতের নাম উঠে আসে। অবশ্য ভারতের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জরিপের ফলাফল নিয়ে কোন ধরণের মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।

জরিপে আফগানিস্তানের অবস্থান দ্বিতীয়। দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওটিস বলছে, ‘আফগানিস্তানের চলমান সংঘর্ষ ক্রমেই খারাপ থেকে আরো খারাপের দিকে পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে নারী ও অল্প বয়সী মেয়েরাও ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।’

প্রায় সাত বছর ধরে চলা যুদ্ধের প্রভাব ফুটে উঠেছে জরিপে সিরিয়ার তৃতীয় অবস্থান লাভের মাধ্যমে। দেশটিতে যৌন ও অযৌন সহিংসতা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র উদ্বেগ রয়েছে। ওমেন নাউ ফর ডেভেলপমেন্ট নামক সংস্থার নির্বাহি পরিচালক মারিয়া আল আবদেহ বলেন, ‘সিরিয়ার নারী ও শিশুদের সেখানে অনেক বিপদ রয়েছে।’

 


আরো সংবাদ