১৬ জুলাই ২০১৮

প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে ছাত্রলীগের কমিটি

ছাত্রলীগ - সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে এখন ছাত্রলীগের নতুন কমিটি। আওয়ামী লীগ প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছেন ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী নেতারা। ছাত্রলীগের কাণ্ডারি কারা হচ্ছেন এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতূহল বাড়ছে। শীর্ষ দুই পদে কারা আসছেন তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা ও গুঞ্জন। চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

জানা গেছে, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ৯-১০ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্য থেকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হবে। নেতৃত্ব নির্বাচনে পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড, সাংগঠনিক প্রজ্ঞা, মেধা ও যোগ্যতা এবং গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। সংক্ষিপ্ত তালিকায় যেসব নেতার নাম আছে তাদের বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে খোঁজখবর নেয়া হয়েছে। তবে নতুন কমিটি গঠনে আরো কিছু দিন সময় নিতে পারেন আওয়ামী লীগ প্রধান। গত বুধবার পদপ্রত্যাশী ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেছেন, ‘আমি সবার ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছি। আমি যে নেতৃত্ব নির্বাচন করব তোমরা সবাই তা মেনে নেবে এবং আগামী নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।’ এর আগেও পদপ্রত্যাশী ৩২৩ জনের মধ্য থেকে সংক্ষিপ্ত তালিকা করার জন্য কয়েক দফা যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এ বছরের ডিসেম্বরে। তাই অনেক হিসাব-নিকাশ কষতে হচ্ছে আওয়ামী লীগ প্রধানকে। তা ছাড়া দীর্ঘ দিন একটি সিন্ডিকেটের মধ্যে ছাত্রলীগের কমিটি হয়েছে। এবার আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে কমিটি হচ্ছে। কিছু চমক তো থাকবেই। তবে কিছু সমীকরণও আছে। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী চান, আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির পরিবারের মধ্য থেকেই ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচিত হোক। যার ফলে সব কিছু মেলাতে গিয়ে একটু সময় লাগছে।

গত বুধবার রাতে পদপ্রত্যাশী নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় সভায় ২০০ জনের মতো বক্তৃতা করেন। তাদের বক্তৃতার একপর্যায়ে পক্ষ-বিপক্ষ সৃষ্টি হলে উত্তেজনা শুরু হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বক্তৃতায় এসব নেতা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্যের প্রশ্নে সবাই নিজেকে নিবেদিত প্রাণ বলে দাবি করেন। 
এ সময় আবেগে কেঁদেও ফেলেন অনেক নেতা। আবেগঘন পরিবেশের মধ্যেও ছাত্রলীগের সদ্যবিদায়ী সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করেন ছাত্রলীগ নেতা সোহান।

এ সময় তার ওপর চড়াও হয়ে ওঠেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সদ্যবিদায়ী সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান। এই অবস্থায় এসএসএফ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ওই সভায় ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে মাইক নিয়ে টানাটানি ও হট্টগোল হয়। এ ছাড়াও এক পক্ষের বক্তৃতা দেয়ার সময় আরেক পক্ষ চিৎকার-চেঁচামেচি করে। 
সূত্রে আরো জানা যায়, বৈঠকে ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানতে চান এবার এত পদপ্রত্যাশী কেন।

জবাবে ছাত্রলীগ নেতারা বলেন, আপনি এবার কমিটি করবেন জেনে প্রার্থী হয়েছি। আমরা আনন্দিত কমিটির দায়িত্ব এবার আপনি নিয়েছেন। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাদের অনেকে বলেন, এত দিন ছাত্রলীগে কোনো গণতন্ত্র ছিল না। ভোট হয়েছে লোক দেখানো। কমিটির দায়িত্ব আপনি নিয়েছেন জেনে আমরা আনন্দিত হয়েছি। নেতাদের তিনি জিজ্ঞেস করেন, তাদের পছন্দের কোনো নাম আছে কি না; থাকলে প্রস্তাব করতে বলেন তিনি। তখন প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে নেতারা সমস্বরে জানান।

গত ১১ মে ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ দিন তিনি ছাত্রলীগের কমিটি সমঝোতার মাধ্যমে দেয়ার কথা বলেন। একই সাথে নেতাদের বয়সসীমা ২৮ বছর নির্ধারণ করে দেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে দফায় দফায় পদপ্রত্যাশীদের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।


আরো সংবাদ