২০ জুলাই ২০১৮

নেইমারদের ডুবিয়ে আত্মহারা কোর্তোয়াস

নেইমারদের ডুবিয়ে আত্মহারা কোর্তোয়াস - ছবি : সংগৃহীত

টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট ব্রাজিলের বিপক্ষে দুরন্ত জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে ফুটছেন কেভিন ডে ব্রুইন। বেলজিয়ামের তারকা মিডফিল্ডারটির চোখে এখন ফাইনালে খেলার স্বপ্ন। প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের আশায় রীতিমতো বিভোর তিনি। ডে ব্রুইনের কথায়, ‘আমাদের ঘিরে এবার দেশবাসীর প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরাও তার প্রতিদান দিতে প্রস্তুত। এখন আমাদের চোখে শুধু একটাই স্বপ্ন ভাসছে, ফাইনালে খেলা। এছাড়া অন্যকিছু ভাবছি না।’

ইডেন হ্যাজার্ড, রোমেলু লুকাকু, কেভিন ডে ব্রুইনের মতো তারকা খচিত এই দলটি যথার্থই বেলজিয়ামের ফুটবল ইতিহাসের সোনালি প্রজন্ম। তারই প্রতিফলন ঘটিয়ে কাজান এরিনায় শুক্রবারের কোয়ার্টার ফাইনালে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারায় অসাধারণ ছন্দে থাকা বেলজিয়াম। সেই সুবাদে বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় বারের জন্য সেমি-ফাইনালের ছাড়পত্র হাতে পেয়ে যায় বেলজিয়ানরা। এর আগে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে শেষ চারে উঠেও চতুর্থ স্থান পেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাদের। দীর্ঘ ৩২ বছর পর আবার ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চের সেমি-ফাইনালে পৌঁছে আবেগের জোয়ারে ভাসছে কোচ রবার্তো মার্টিনেজের দল।

নেইমার-কুটিনহোদের ঝড় রুখে দিয়ে অসাধারণ জয় তুলে নেয়ার পর বিবিসি’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে কেভিন ডে ব্রুইন বলেন, ‘ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলা সহজ নয়। তারা চমৎকার একটি দল। প্রতিভার ছড়াছড়ি। কিন্তু টিম হিসেবে আমাদেরও যে শক্তি রয়েছে, তার প্রমাণ আমরা দিয়েছি। প্রথমার্ধে আমরা দুর্দান্ত খেলেছি। তবে দ্বিতীয়ার্ধ খুবই কঠিন ছিল। মাঝমাঠে ওদের অনেক বেশি খেলোয়াড় এবং আধিপত্য ছিল। খেলা যত গড়িয়েছে সমতা ফেরানোর জন্য ওরা ততই চাপ বাড়িয়ে গিয়েছে আমাদের রক্ষণে। শেষ ১৫ মিনিট আমাদের কাছে ছিল অগ্নি পরীক্ষা। সেই কঠিন চাপের মুখেও মেরুদণ্ড সোজা রেখে বিশ্বকে আমরা দেখিয়ে দিয়েছি আমরা কী করতে পারি।’

ম্যাচের ৩১ মিনিটে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে রোমেলু লুকাকুর বাড়ানো বল ধরে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে কোনাকুনি শটে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন ডে ব্রুইন। চোখ ধাঁধানো সেই গোল প্রসঙ্গে ম্যাঞ্চেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘গোলটির জন্য আমি খানিকটা অপেক্ষার পথ বেছে নিয়েছিলাম। তাড়াহুড়ো না করে আগে আমি জায়গাটা খুঁজে বের করি। শট নেওয়ার জন্য পজিশনটা দারুণ ছিল। সুযোগটা কাজে লাগাতে পেরে আমি দারুণ খুশি।’ ডে ব্রুইন আরও বলেন, ‘আপনাকে একজন খেলোয়াড় এবং একটা দল হিসেবে উন্নতি করতে হবে। অবশ্যই এটা কঠিন। তবে আমরা সঠিক লক্ষ্যেই এগচ্ছি। একটা টুর্নামেন্টে এক দল হেরে ছিটকে যাবে। তবে আমরা ফাইনালের আগে বিদায় নিতে আসিনি। এখানে এসেছি বিশ্বকাপ জিততে। লক্ষ্য থেকে আর আমরা মাত্র দুটো জয় দূরে।’

ডে ব্রুইন ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হলেও পুরো ম্যাচে ৯টি সেভ করে বেলজিয়ামের স্বপ্ন টিকিয়ে রেখেছেন গোলরক্ষক থিয়াবুট কোর্তোয়াস। নেইমারদের সামনে যেন চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ম্যাচ শেষে চেলসির এই গোলরক্ষক বলেন, ‘এই জয় অবিশ্বাস্য। ব্রাজিলকে ছিটকে দিয়ে শেষ চারে উঠতে পারার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। জয়ের প্রবল খিদেই আমাদের সাফল্যের আসল মন্ত্র। আমরা সব ম্যাচই জিততে চাই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সবাই বলছিল হারলে তা আমাদের পক্ষে সুবিধাজনক হবে। কিন্তু আমরা ম্যাচটা জিতেছিলাম। নিজেদের দক্ষতার ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে আমাদের। দলের প্রত্যেকেই সেরাটা উজাড় করে দিয়েছে। আমিও প্রমাণ করেছি, আমি কে এবং কেন আমি এখানে এসেছি।’ সংযোজিত সময়ে বক্সের মধ্যে থেকে নেইমারের শট তীক্ষ্ণ ক্ষিপ্রতার সঙ্গে ফিস্ট করে ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন কোর্তোয়াস। ওই সেভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি জানি, নেইমার ওভাবে বাঁকানো শট নিতে পছন্দ করে। আমি প্রস্তুত ছিলাম। আমাদের কৌশলগত পরিকল্পনাও ছিল দারুণ। শুরুতেই আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, এটা আমাদের দিন।’

প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে আগামী মঙ্গলবার ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে বেলজিয়ামের এই ‘সোনালি প্রজন্ম’।


আরো সংবাদ