২০ জুলাই ২০১৮

কেন টি-২০তে সেরা পাকিস্তান?

ক্রিকেট
ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাকিস্তান - সংগৃহীত

টি-২০তে একের পর এক ম্যাচ জিতে এই ফরমেটে এখন সেরা পাকিস্তান। সর্বশেষ রোববার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছে তারা। গত কয়েক বছর ধরেই টি-২০তে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করছে পাকিস্তান। কী এর রহস্য?

গত দুই বছরে টি-২০তে ২৬ ম্যাচের ২২টিতেই জিতেছে পাকিস্তান, যা টি-২০ ফরমেটে জয়ের রেকর্ড।

এর আগে ২০০৬ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে তারা ২৭ ম্যাচের ২১টিতে জয়ের স্বাদ পেয়েছে। হেরেছে মাত্র পাঁচটিতে। এরপর ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত তাদের পারফরমেন্স তেমন ভালো ছিল না। কিন্তু শেষ দুই বছর তাদের পারফরমেন্স অসাধারণ ছিল।

 

এই সময় বল হাতে তাদের বোলারা আগুন ঝরিয়েছেন। প্রতি ওভারে গড়ে তারা দিয়েছেন সাত রান। অথচ অন্য দলগুলো এক ওভারে দিয়েছে আট বা তার চেয়েও বেশি রান। এছাড়া পাকিস্তানী বোলাররা উইকেটও শিকার করেছেন দ্রুত। তাদের গড় ১৮.৩৯, যা অন্যদের তুলনায় সেরা। শুধু তা-ই নয়, এই দুই বছর তাদের রান রেট ও ইকোনমি রেটও ছিল প্রায় একই রকম।

 

pakistan-6

 

এছাড়া প্রথম দিকে পেসারদের আক্রমণের দিক দিয়ে সেরা পাকিস্তান। রান রেট ও ইকোনমি রেট বিবেচনা করে দেখা গেছে, পেস বিভাগে সবচেয়ে এগিয়ে পাকিস্তান। মিডল ওভারেও তারা চমৎকার বোলিং করেছে।

প্রথম ছয় ওভারে পাকিস্তান গড়ে ৬.৫ করে রান দিয়েছে। এর পরেই আছে ভারত। তারা ওভার প্রতি রান দিয়েছে ৭.৯৪ করে।

 

pakistan-3

 

আর পাওয়ার প্লেতে সেরা পাকিস্তানই। তারা গত দুই বছর বল হাতে আুগন ঝরিয়েছেন। রান দেয়ার বেলায় কিপ্টেমি করার পাশাপাশি উইকেটও শিকার করেছেন।

মিডল ওভারে পাকিস্তানি বোলাররা আরো দুর্দান্ত। পাকিস্তানের পাঁচ বোলার এই সময় শতাধিক বল করেছে। তাদের ইকোনমি রেট এবং উইকেটের সংখ্যা দেখলে বোঝা যায় বল হাতে কতটা তাণ্ডব চালিয়েছেন তারা। এই তালিকায় সেরা সাদাব খান। ২৮টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। এই সময়ের মধ্যে তার চেয়ে বেশি উইকেট আর কেউ শিকার করেনি।

 

pakistan-5

 

টি-২০ ফরমেটে সেরা হওয়ার পেছনে পাকিস্তানের পেসার এবং স্পিনারদের অবদান সবচেয়ে বেশি। গত দুই বছরে তাদের ফাস্ট বোলারদের ইকোনমি রেট সবচেয়ে দুর্দান্ত। দ্বিতীয় স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া। তবে স্পিনে শুধুমাত্র আফগানিস্তানের চেয়ে পিছিয়ে আছে তারা।

 

 

মোট কথা, টি-২০ ফরমেটে পাকিস্তানের সফলতার পেছনে আছে বোলাররা। তারাই প্রতিপক্ষ শিবিরে ত্রাস ছড়িয়ে রেখেছেন। বল হাতে তারা ক্রিজে আসা মানেই উইকেট ঝুলিতে পুরে নেয়া। তাই টি-২০তে এখন ছড়ি ঘুরাচ্ছেন তারাই।

 

আরো পড়ুন : ফখরের ব্যাটে রেকর্ড গড়ে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

দুই দলই এর আগে ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে। তবে জয় তালিকায় থাকতো অস্ট্রেলিয়া। এবার সেসব রেকর্ড গুড়িয়ে দিয়ে নতুন রেকর্ড গড়ে জয় নিজেদের ঘরে তোলেন ফখর জামানদের পাকিস্তান। পাকিস্তানকে এই ম্যাচ জিততে হলে  রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড গড়েতে হতো।ফখরের ব্যাটে হেসে খেলেই তা টপকে গেল পাকিস্তান। দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে বাঁহাতি ওপেনার পাকিস্তানকে এনে দিলেন শিরোপা।

জিম্বাবুয়েরর হারারেতে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ৪ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টির শীর্ষ দলটি জিতল টানা ৯ সিরিজ নিজেরে ঘরে তোলার রেকর্ডও গড়েছে এর মাধ্যমে।

প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৮৩ রান তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেটি বেশ বড় সংগ্রহই। তাছাড়া এত বড় রান তাড়া করে এর আগে জিততে পারেনি পাকিস্তান।

অস্ট্রেলিয়ার দেয়া ১৮৪ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে দলীয় দুই রানেই দুটি উইকেট হারিয়ে বিপাকে পরে পাকিস্তান। কিন্তু এক প্রান্ত দিয়ে দুই সতীর্থ নিরাশ করলেও হাল ছাড়েননি ফখর জামান। অপর প্রান্তে দারুণ ব্যাটিং করে একের পর এক সীমানা ছাড়া করেছেন অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের। তার দাপুটে ব্যাটিংয়ের সামনে রীতিমতো অসহায় ছিলো অস্ট্রেলিয়ার বোলিং ডিপার্টমেন্ট। এই ইনিংসের মাধ্যমে ফখর জামান যেন মনে করিয়ে দিয়েছেন গত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে দারুণ এক সেঞ্চুরি করে ম্যাচ জেতানোর কথা। যদিও এই ম্যাচটিতে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হয়েছেন তিনি। মাত্র ৪৬ বলে ৯১ রানের ইনিংসে ছিলো ১২টি চার ও ৩টি ছক্কা।

অন্য প্রান্তে ফখরকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন সরফরাজ আহমেদ ও শোয়েব মালিক। সরফরাজ ২৮ রানে রানআউট হলেও শোয়েব মালিক ছিলেন শেষ পর্যন্ত। ১৬তম ওভারের শেষ বলে কাভার পয়েন্ট ক্যাচ দিয়ে যখন ফকর জামান ফিরে যান, ততক্ষণে পাকিস্তান ম্যাচ পকেটে পুরেছে। এরপর বাকি কাজটুকু সাড়ার দায়িত্ব নিজ কাধে তুলে নেন শোয়েব মালিক। ফকর জামান যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, অনেকটাই নিষ্প্রভ ছিলেন মালিক। ফকর আউট হওয়ার সময় তার সংগ্রহ ছিলো ২৮ বলে ২৭ রান। কিন্তু সঙ্গী ফিরে যাওয়ার পর নিজেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন মালিক। চার বল বাকি থাকতেই যখন জয় তুলে নিয়ে ম্যাচ শেষ করেন ব্যক্তিগত স্কোর তখন ৩৭ বলে ৪৩ রান। ৩টি চার ও একটি ছক্কা ছিলো মালিকের ইনিংসের।

এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট হাতে শুরুটা ভালোই করেছিল অস্ট্রেলিয়া। উদ্বোধনী জুটি ডি'অর্কি শর্ট ও অ্যারন ফিঞ্চ গড়েছিল ৯৫ রান। কিন্তু নবম ওভারে শাদাব খানের বলে ফিঞ্চের আউটের পরই বিপত্তি বাধে। অর্ধশত থেকে তিন রান দুরে থাকতেই সাজঘরে ফিরেন ফিঞ্চ। এরপর ধারাবাহিক উইকেটের পতন হয়। বেশিক্ষণ এক প্রান্ত লাগলে রাখতে পারেননি শর্ট।

শর্ট ৭৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে তরুণ শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে সাজঘরে ফেরেন। ৫৩ বলে সাতটি বাউন্ডারি ও চারটি ছক্কা হাকান। এর আগে তাণ্ডব চালান সাদাব আর আমির। ম্যাক্সওয়েলকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় উইকেট শিকার করেন সাদাব। আর আমির বিদায় করেন স্টোইনিসকে। আমির শিকার করেন দুটি উইকেট। একটি করে উইকেট ঝুলিতে পড়েন ফাহিম আশরাফ, হাসান আলি ও হাসান আলি। ৮ উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ১৮৩ রান।

সিরিজের অন্য দলটি ছিলো স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।


আরো সংবাদ