২১ নভেম্বর ২০১৮

মোদির নেতৃত্বে ভুল পথে এগোচ্ছে ভারত: অমর্ত্য সেন

মোদির নেতৃত্বে ভুল পথে এগোচ্ছে ভারত: অমর্ত্য সেন - সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিভিন্ন নীতির কড়া সমালোচনা করলেন নোবেল বিজয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তিনি বলেন, মোদির সময়ে দেশ ভুল দিকে এগোচ্ছে। 

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজের সঙ্গে যৌথভাবে লেখা ‘অ্যান আনসার্টেন গ্লোরি: ইন্ডিয়া এন্ড ইটস কন্ট্রাডিকশন’ বইয়ের হিন্দি অনুবাদ, ‘ভারত অউর উসকে বিরোধাভাস’-এর আনুষ্ঠানিক প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অমর্ত্য সেন।

অমর্ত্য সেনের মতে, গত চার বছরে দেশ ‘ভুল দিকে বিরাট লাফ দিয়েছে’! যার জেরে উপমহাদেশে পাকিস্তানের পরেই ভারত এখন দ্বিতীয় নিকৃষ্ট দেশ!

বিজেপির শাসনকালের সমালোচনায় অমর্ত্য সেন বলেন, পরিস্থিতি খুব খারাপ হয়েছে। ২০১৪-র পর থেকে ভুল দিকে বিরাট লাফ দিয়েছে। আর্থিক উন্নতিতে দ্রুততম হয়েও আমরা পিছনের দিকে যাচ্ছি।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, বিশ বছর আগেও এই অঞ্চলের ছয়টি দেশের মধ্যে ভারত ছিল দ্বিতীয় সেরা, শ্রীলঙ্কার পরেই। এখন দ্বিতীয় নিকৃষ্ট! আমাদের নিকৃষ্টতম হওয়া থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান!

মোদি ও বিজেপি সম্পর্কে প্রকাশ্যেই বহুবার নিজের বিরুদ্ধমত তুলে ধরেছেন অমর্ত্য সেন। সে কারণে বিজেপির একাধিক নেতা তাকে বিভিন্নভাবে আক্রমণও করেছেন।

সূত্র : আনন্দবাজার

কোন দিকে যাচ্ছেন মোদি!
ডয়েচে ভেলে, ২৮ মে ২০১৮

অনিশ্চয়তার যেমন চ্যালেঞ্জ আছে, তেমন সম্ভাবনাও আছে৷ ভারত বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি থেকে যতটা সম্ভব ফায়দা তুলতে চাইছে৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পররাষ্ট্র নীতি দেখে অনেকটা নৃত্যশিল্পীর জটিল অঙ্গচালনার মতো মনে হচ্ছে৷

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত করতে রাষ্ট্রপ্রধানেরা একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন, যা পুরোদস্তুর আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়৷ গত মাসে মোদি চীনের নেতা শি জিনপিং-এর সঙ্গে এমনই বৈঠক করেছেন৷ সোমবার সোচিতে রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুটিনের সঙ্গে আলোচনা করেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী৷ আজকের রাশিয়া গত শতকের সোভিয়েত ইউনিয়ন নয়, যার সমর্থন সঙ্গে আছে বলে ভারত ধরে নেবে৷ যদিও এই দু'টি দেশ সম্পর্কে উষ্ণতা ধরে রাখতে চাইছে৷ অস্ত্রের ক্ষেত্রে রাশিয়ার উপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে ভারত৷ এদিকে রাশিয়াও ধীরে ধীরে পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক স্থাপন করছে৷ রাশিয়া পাকিস্তানকে সামরিক পরিবহণের জিনিসপত্র বিক্রি করতে রাজি হওয়ায় তার লক্ষণ মিলেছে৷ অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ সামরিক সম্পর্ক আর একধাপ দূরে৷ তবু মোদী যখন রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে ‘বিশেষ কৌশলগত বোঝাপড়া' বলেন, তখন তার তাৎপর্য তো রয়েছে৷


এই সফর নিয়ে ইকোনমিক টাইমসে দীপাঞ্জন রায়চৌধুরী লিখেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় এমন এক সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সহমত হয়েছেন, যা কোনো একটি নির্দিষ্ট ব্লক বা শিবিরের অধীন থাকবে না৷ একইসঙ্গে ভারত এই এলাকায় নিয়মমাফিক শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অ্যামেরিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কাজ করে যাবে৷

মোদি ও পুটিনের আলোচনার ফলশ্রুতি কী, সেটা এখনই পুরোটা বোঝা যাবে না৷ তবে এটা অনুমান করা যায়, রাশিয়ার উপর চাপানো অ্যামেরিকার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কথা হয়েছে৷ রাশিয়ার কোম্পানির সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক রয়েছে যে দেশগুলির, তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা ও তার ফল নিয়েও কথা হতে পারে৷ আমেরিকার ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিষয়টিও ভারত ও রাশিয়ার কাছে গুরুত্বপূর্ণ৷

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় কোনো পক্ষকেই স্বস্তিতে রাখেনি৷ ইউরোপ বরাবরই অ্যামেরিকার বন্ধু, এবং তারা পুতিনের কাজকর্মে সন্দিহান৷ ২০০০ সালে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিন্টনের ভারত সফরের পর দুই দেশ কাছাকাছি এসেছে৷ ভারতকে অ্যামেরিকা-রাশিয়া-চীনের সম্পর্ককে মাপতে হচ্ছে৷ কেননা ট্রাম্প এটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে বিশ্বের নতুন অর্থনৈতিক ও সামরিক মহাশক্তি হিসেবে চীনের উত্থানকে তিনি ভালো চোখে দেখছেন না৷

লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক হর্ষ ভি পান্ট এই প্রসঙ্গে বলেন, মনে হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের কাজকর্ম রাশিয়া-ভারত-চীন এই ত্রিদেশীয় সম্পর্ককে পুনরায় চাঙ্গা করল, যেটা অপেক্ষাকৃতভাবে অযৌক্তিক বলে মনে হচ্ছে৷ তবে এটা ভারতকে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে বিশ্বজনীন সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করতে সাহায্য করবে৷

পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে তার ভূমিকা সত্ত্বেও ভারত চায় না চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে এটার প্রভাব পড়ুক৷ সাংহাই কো অপারেশন অর্গানাইজেশন-এ ভারতের সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিয়েছিল রাশিয়া৷ এই সম্পর্কটাকে ভারত তার বিদেশ নীতির লক্ষ্য অর্জনে ব্যবহার করতে চাইছে৷ সেই জন্য মোদি তার পূর্বসূরি অটলবিহারী বাজপেয়ির কথা বলেছেন৷ প্রাক্তন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী চেয়েছিলেন, রাশিয়া শক্তিশালী দেশ হিসেবে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিক৷ এটা আমেরিকা ও চীনকে ভারতের এই বার্তা যে, একটি শক্তিশালী দেশের রাজত্বের দিন আর নেই, ঠান্ডা যুদ্ধের পরবর্তী বিশ্বে অনেক শক্তিশালী দেশ রয়েছে৷

ভারত এখনো বাণিজ্য এবং প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে৷ ১২ বিলিয়ন ডলার খরচ করে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারত সামরিক হার্ডওয়্যার ও উন্নত অস্ত্র কিনতে উদ্যোগী৷

গত পাঁচ বছরে রাশিয়ার কাছ থেকেই ৬২ শতাংশ প্রতিরক্ষা আমদানি করেছে এই দেশ৷ এই সম্পর্ক দু'দেশের কাছেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ৷ ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে অ্যামেরিকার নীতিতে অবিশ্বাসের কারণে উভয়েই এই সম্পর্ক নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহী এবং তা বজায় রাখতে শেষ চেষ্টা অবধি করতে পারে৷ এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতিতে সোচিতে মোদির এক দিনের ঝটিকাসফর এবং পুটিনের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপচারিতা সবই ইন্ধনের আশা জোগাচ্ছে৷


আরো সংবাদ