২০ জুলাই ২০১৮

ইরানের পাশে থাকবে চীন ও জার্মানি

ইরানের পাশে থাকবে চীন ও জার্মানি - সংগৃহীত

পাশ্চাত্যের সাথে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতার প্রতি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং ও জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল।

বার্লিন সফররত লি কেকিয়াং-এর সাথে সোমবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেন, অনেক আলোচনার পর ইরানের সাথে যে পরমাণু সমঝোতা সই হয়েছে তাতে সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষিত হয়েছে। এ সময় চীনা প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সমঝোতা ভেঙে পড়লে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।

মার্কিল আরো বলেন, পরমাণু সমঝোতার প্রতি আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছি। আমরা মনে করছি এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি। সমঝোতার আগে ইরানের সঙ্গে হয়ত আরো আলোচনা করা যেত। কিন্তু তারপরও আমি মনে করি এই সমঝোতা বহাল রাখাই ভালো।

তবে একই সঙ্গে জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে মার্কিন সরকার যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছে তা থেকে বাঁচাতে বার্লিন তেমন কিছুই করতে পারবে না। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে নিজেদের দায়িত্বে ইরানের সাথে বাণিজ্য করতে হবে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

এর আগে সোমবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং ইরানের পরমাণু সমঝোতা বহাল রাখার জন্য বেইজিং জোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮ মে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে তার দেশকে একতরফাভাবে বের করে নেন। সেইসাথে তেহরানের ওপর পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আগের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহালের ঘোষণা দেয় বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী দেশ ও কোম্পানিগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় ফেলবে ওয়াশিংটন।

সামরিক ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে ইরান

‘ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির উদ্দেশ্য কেবল জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও আত্মরক্ষামূলক’। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কথা বলেছেন। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-ইভস লা দ্রিয়াঁ আরটি রেডিওকে দেয়া সাক্ষাতকারে দাবি করেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কেবল প্রতিরক্ষার জন্য নয়।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি তার দেশের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয় উল্লেখ করে বলেছেন, ইরাকের সাবেক স্বৈরশাসক সাদ্দামের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসহ গত কয়েক দশকে তেহরান সামরিক দিক দিয়ে ব্যাপক স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, শত্রুদের হুমকি ও অশুভ চক্রান্ত রুখে দেয়ার জন্য ইরান সামরিক শক্তি অর্জন করেছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পাশ্চাত্য এখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে টার্গেট করেছে। এ লক্ষ্যে একদিকে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রকে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এ ক্ষেত্রে ইরানের শক্তিকে দুর্বল করার পায়তারা করছে।

বিশ্লেষকরা পাশ্চাত্যের এ আচরণকে দু'দিক থেকে মূল্যায়ন করছেন। প্রথমত, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং যে কোনো হুমকি মোকাবেলায় নিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা জরুরি। এ অবস্থায় পাল্টা আক্রমণের যোগ্যতাসম্পন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি বৈধ বিষয় এবং এ নিয়ে কোনো সংলাপ কিংবা আপোষ হবে না। আর দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, সম্মিলিতভাবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি আরব দেশের সম্মিলিতভাবে নিরাপত্তা রক্ষার ব্যাপারে কোনো আগ্রহ নেই। সব কিছুতে তারা কেবল পাশ্চাত্যের সাহায্য ও সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল। পাশ্চাত্যের ইন্ধনে এ দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে চলেছে। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউট গত আগস্টে এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইরান ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে এবং এটা তাদের আত্মরক্ষার প্রধান মাধ্যম।

ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো যদিও পরমাণু সমঝোতা ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা করেছে কিন্তু তারপরও এই চুক্তিতে তেহরানকে ধরে রাখার জন্য ইউরোপের সঙ্গে চলমান সংলাপে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিয়ে উদ্বেগ ও সন্দেহ প্রকাশ করেছে। ইউরোপের ধারণা হয়তো এভাবে পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্রদের খুশী রাখা যাবে। যদিও তাদের এ ধরণের চিন্তা একেবারেই ভুল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনী এই চুক্তি টিকিয়ে রাখার অজুহাতে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের উপস্থিতির বিষয়ে কোনো আপোষ করা যাবে না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন।


আরো সংবাদ