১৬ জুলাই ২০১৮

ফ্রান্সের খেলায় বিরক্ত বেলজিয়াম!

বিশ্বকাপ
বেলজিয়ামের গোলপোস্টে কাল দেয়াল হয়ে দাড়িয়েছিলেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তয়া - সংগৃহীত

বেলা শেষ, খেলায় মুখ্য বিষয়টি হয়ে দাড়ায় 'গোল'। যার গোল বেশি, বিজয়ী সে। গতকাল প্রথম সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতে ফাইনালে পা রাখে ফ্রান্স। বেলজিয়ামের গোলপোস্টে কাল দেয়াল হয়ে দাড়িয়েছিলেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তয়া। প্রথমার্ধে দুটি গোল বাঁচিয়েছেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে উমতিতির গোলটি বাঁচাতে পারেননি। ফলাফল হার। কিন্তু এই হার মেনে নিতে চাচ্ছেন না কোর্তয়া। কারণ ফ্রান্সের খেলার ধরণে বিরক্ত ছিলেন তিনি। তার মতে, ফ্রান্স কোনোভাবেই ভালো খেলে জিতেনি।

কোর্তয়া বলেন, 'আমরা এমন কোনো দলের কাছে হারিনি, যারা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমরা এমন দলের কাছে হেরেছি যারা কিছুই খেলেনি, শুধু রক্ষণভাগ সামলেছে।'

তিনি আরো বলেন, 'ফ্রান্স তো খেলেইনি। ১১ জন খেলোয়াড় নিয়ে গোলপোস্টের ৪০ মিটারের মধ্যে তারা বেলজিয়ামের আক্রমণগুলো ঠেকিয়ে গেছে মাত্র।'

ফ্রান্সের কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচের কথা উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, 'উরুগুয়ের বিপক্ষে তারা ফ্রি কিক ও গোলরক্ষকের ভুলে জিতেছে। আমাদের বিপক্ষে জিতল কর্নার থেকে গোল দিয়ে। আজ (মঙ্গলবার) বেলজিয়ামের জিততে না পারাটা আসলে ফুটবলের জন্যই লজ্জার।'

উল্লেখ্য, গতকালের ম্যাচ ছাড়া আগের পাঁচটি ম্যাচেই জিতেছে বেলজিয়াম। চলতি বিশ্বকাপে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছে তারা। অপরদিকে ফ্রান্স একটি ম্যাচে ড্র করেছে আর বাকি চারটি ম্যাচে জেতেছে।

 

আরো পড়ুন : ফ্রান্সকে চ্যাম্পিয়ন হতেই হবে!

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে নিজেদের মাটিতে ফ্রান্স প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেইবার ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতে ফ্রান্স। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানে অনুষ্ঠিত ২০০২ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্স দ্বিতীয় রাউন্ডেই উঠতে পারেনি।

তবে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে খেলবে ফ্রান্স। ১৯৯৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০০৬ সালেও ফাইনালে খেলেছিল ফ্রান্স।

ইউরোপিয় দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি এ পর্যন্ত আটবার এবং ইতালি ছয়বার বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে খেলেছিল।

১৯৯৮ সাল থেকে ফ্রান্সের সমান অর্থাৎ তিনবার বিশ্বকাপ ফাইনালে অন্য কোনো দেশ খেলতে পারেনি।

বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে ফ্রান্স এ পর্যন্ত তিনবার বেলজিয়ামকে পরাজিত করেছে। মঙ্গলবার বেলজিয়ামের সাথে সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের দখলে বল ছিল ৬৪ শতাংশ। কিন্তু ফ্রান্স পাল্টা আক্রমণের কৌশল নিয়ে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করেছিল।

খেলায় বেলজিয়ামের দখলে বেশি সময় বল থাকলেও গোল করার প্রচেষ্টা নিয়েছে ফ্রান্স ১৯বার এবং বেলজিয়াম নয়বার।

বিশ্বকাপ এবং ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের আসরে ফ্রান্স দলের সর্বশেষ ২০টি গোলের মধ্যে ১৩টি গোলে অবদান রেখেছেন অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যান। এর মধ্যে তিনি নিজে গোল করেছেন নয়টি গোল এবং অন্যদের গোল করতে সহায়তা করেছেন চারটি।

বুধবার ক্রোয়েশিয়া এবং ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচে বিজয়ী দলের সাথে ফাইনালে খেলবে ফ্রান্স। কোচ দিদিয়ে দেশ্যাম বলেছেন, এবার ফ্রান্সকে চ্যাম্পিয়ন হতেই হবে।

 

আরো পড়ুন : শিরোপার স্বপ্নে বিভোর রুনি

সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার ওয়েন রুনিকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। গোল্ডেন বুট জিতবেন। ইংল্যান্ডকে শিরোপার কাছে নিয়ে যাবেন, অনেক কিছু। রুনি সে সবের কিছুই পারেননি। অথচ ইংল্যান্ডের এবারের দলটাই এখন তাদের সর্বশেষ ৫২ বছরের ইতিহাসে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। আজ তারা খেলবে সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। বিশ্লেষকদের ধারণা ইংল্যান্ড যে ফর্মে তাতে ইউরোপের আরেক দল ক্রোয়েশিয়া সম্ভবত সুবিধা করতে পারবে না ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। দলের সাবেক স্ট্রাইকার ওয়েন রুনিও ইংল্যান্ডের সাফল্যে আত্মহারা। ইংল্যান্ডকে নিয়ে তিনিও উচ্চাশা প্রকাশ করছেন। আমেরিকায় একটি ফুটবল লিগে অংশ নিয়ে দেশে ফিরে নিজের অভিব্যক্তি জানিয়ে বলেন, ‘আমি ইংল্যান্ডের শুভকামনা করছি। আশা করছি তারা এবার বিশ্বকাপ জয় করে দেশের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবেন।’ ইংল্যান্ড সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ১৯৬৬ সনে। রুনি বলেন, ‘তারা (ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা) দুর্দান্ত খেলছেন। আশা করি তারা বিশ্বকাপ জয়ে সক্ষম হবেন।’

খেলা দেখা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথমার্ধ আমি দেখতে পারিনি। কারণ আমি অনুশীলনে ছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধ আমি ঠিকই দেখেছি।’ রুনি স্কাই স্পোর্টসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই কথা বলেন। নিজের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সত্যিই দারুণ লাগছে। এটা আসলেই দারুণ একটা সময় ইংল্যান্ডের ফুটবলের। দলটি আসলেই অসাধারণ খেলছে। সেমিফাইনালের (ক্রোয়েশিয়া) প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় নিয়ে অবশ্যই তারা ফাইনালে যাবে এটা আমার বিশ্বাস।’

তিনি বলেন, ‘ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ অবশ্যই আমি দেখব। একই সাথে দলের খেলোয়াড় এবং কোচ সাউথগেটের জন্য শুভকামনা করব। কারণ তারা সত্যিই আমাদের গর্বের বিষয়। আমরা এ স্তর পার হয়ে ফাইনালে যাবো।’

রুনি জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন গত আগস্টে। রুনি বর্তমানে আমেরিকার জনপ্রিয় ফুটবল লিগের ক্লাব ডিসি ইউনাইটেডে খেলছেন। ক্লাবে যোগ দিয়েই সেটাকে চ্যাম্পিয়ন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ৩২ বছর বয়সের এ ফুটবলার বেশির ভাগ সময়ই খেলেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। এরপর এভারটনে খেলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ডিসি ইউনাইটেডে যোগ দেন। ম্যানইউতে থেকে তিনি ১৮৩টি গোল করেছিলেন। ২০০৩ এ প্রথম তিনি যোগ দিয়েছিলেন ইংল্যান্ড দলে। খেলেছেন ২০১৬ পর্যন্ত। জাতীয় দলের হয়ে ১১৯ ম্যাচে ৫৩ গোল করা এ তারকারও স্বপ্ন ছিল বিশ্বকাপ। নিজের সে যন্ত্রণার সময়গুলো অবশ্যই মনে পড়ছে। বর্তমান দলটির সাফল্যে তিনি একটু বেশিই উচ্ছ্বসিত। ইংল্যান্ড দলের খেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি দলের সব ম্যাচের ভিডিও দেখে এনজয় করছি। আমি আশা করছি এবারের দল কিছুটা ভাগ্যেরও সহায়তা পাচ্ছে।’


আরো সংবাদ