২১ নভেম্বর ২০১৮

ইরান, রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তানের ঐকমত্য

ইরান, রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তানের ঐকমত্য - ছবি : সংগৃহীত

আফগানিস্তানে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএসের উপস্থিতি ও হুমকির বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠক করেছেন ইরান, রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। রাশিয়ার পররাষ্ট্র বিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থার গণমাধ্যম বিভাগের প্রধান সের্গেই ইভানভের বরাত দিয়ে রুশ বার্তা সংস্থা তাস এ খবর দিয়েছে।

বৈঠকে চার দেশের গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। বার্তা সংস্থা তাসের খবর অনুযায়ী, রাশিয়ার পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র বিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক সের্গেই নারিসকিন অংশ নেন।

ইভানভ জানান, আফগানিস্তানের মাটিতে দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিপজ্জনক উত্থানের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়। আসন্ন এ হুমকি মোকাবেলার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে চার দেশ একমত হয়েছে। সিরিয়া ও ইরাক থেকে আফগানিস্তানে আইএসর উপস্থিতি কিংবা অন্য যেকোনো প্রতিবেশী দেশে এ গোষ্ঠীর উপস্থিতির বিরুদ্ধে চার দেশ একই ব্যবস্থা নেবে বলে বৈঠকে যোগ দেয়া কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আফগানিস্তানে আইএসের উপস্থিতির বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা উচিত বলে তারা মনে করেন।

আরো পড়ুন :

২০২০ সালের মাঝে বিশ্বপ্রভুত্ব করবে আইএস!
আলমগীর মহিউদ্দিন


এ লেখার শিরোনামটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পশ্চিমা শক্তিশালী সংবাদমাধ্যমের প্রধান খবরের শিরোনাম। সব খবরের মূল বক্তব্য হলো, ইসলামিক স্টেটের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রাকে আর ঠেকানো সম্ভব নয় এবং তারা বিশ্বে প্রভুত্ব করবে। অবশ্য ইসলাম, মুসলিম, কুরআন ইত্যাদি পশ্চিমা বিশ্বের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোর আলোচনার প্রধান খোরাক বহু বছর ধরে।

তবে এবারের এই ঝটিকা আক্রমণের (ব্লিতসক্রিগ) উৎস ও উৎসাহ বিবিসি-৪ এর সংবাদদাতা অ্যান্ড্রু হসকেনের সদ্য প্রকাশিত বই ‘এমপায়ার অব ফিয়ার : ইনসাইড দি ইসলামিক স্টেট’।

ইসলাম, মুসলিম এবং কুরআন সম্পর্কে একশ্রেণীর পশ্চিমা মুসলিমবিদ্বেষী লেখকদের চিরাচরিত চর্বিত তথ্য সমাবেশের সাথে সাথে হসকেন একটি মানচিত্র ছেপেছেন। এই কালো রঙের মানচিত্রটিতে স্পেন, গ্রিস, বলকান দেশগুলোসহ ভারত ও আফ্রিকার উত্তরাংশ অন্তর্ভুক্ত। হসকেন বলেছেন, এই দেশগুলো ২০২০ সালের মধ্যে আইএসের শাসনে আসবে এবং তার সাথে বিশ্বপ্রভুত্বও চলে আসবে। 

প্রথম দৃষ্টিতেই বক্তব্য ও তথ্যগুলো অসম্ভব মনে হলেও পশ্চিমা প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলো তা লুফে নিয়ে অতি উৎসাহের সাথে ছেপে চলেছে। এর সাথে শত শত প্রবন্ধ-মন্তব্য দিয়ে এ সম্ভাবনা আর এ সম্ভাবনা নয়, বরং একটি বাস্তবতাÑ এ কথা প্রমাণ করার প্রাণান্ত চেষ্টা চলছে।
এ সংবাদগুলো পড়লে যেকোনো পাঠক বিশ্বাস করতে বাধ্য হবেন, আগামী মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে এই বিশাল এলাকা তার ১৫০ কোটি মানুষসহ ‘ইসলামিক বিশ্ব’ হয়ে যাবে। খবরের শিরোনামে ইংরেজির ‘চিলিং’ শব্দটি বারবার ব্যবহার করা হয়েছে এবং কী ভয়াবহ অবস্থা তখন বিরাজ করবে, তার বিশদ বর্ণনা দেয়া হয়েছে। কথিত ভয়াবহ অবস্থার অন্যতম কারণ হবে ‘শরিয়া আইন’। কারণ, এই কথিত খেলাফতে অন্য কোনো আইন চলবে না।
ম্যাপটিকে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য বলা হয়েছে, এর বেশির ভাগ একসময়ে মুরদের অধীনে ছিল। আইএস সেগুলো পুনর্দখল করে সেই ‘মধ্যযুগীয় মুরদের’ (মুসলিম) শাসন কায়েম করবে।

ব্রিটেনের বিখ্যাত ইনডিপেন্ডেন্ট পত্রিকায় লেখিকা সোনিয়া পারনেল (Sonia Purnell) হসকেনের বইটির সমালোচনা করতে গিয়ে হসকেনের প্রশংসা করেছেন। তার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর জোর দিয়ে পারনেল লিখেছেন, এ বিষয়ে হসকেনের চেয়ে আর কেউ এত স্পষ্টভাবে কী ঘটতে যাচ্ছে বলতে পারতেন না। কারণ, হসকেন বিবিসির হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সব ঘটনার, বিশেষ করে ৯/১১-এর সাক্ষী। যে প্রশ্নগুলো সবার মাঝে এখন প্রবল, তা খুব প্রণসিয়ানার সাথে আলোচনা করে ইসলাম ও মুসলিম সম্পর্কে পশ্চিমা বিশ্বের অবস্থানটি তুলে ধরেছেন। যেমন- একটি মন্তব্য, ‘সপ্তম শতাব্দীর বর্বরতার তৃষ্ণাটিকে আইএস অত্যন্ত প্রলোভনের মাঝে তথাকথিত বিশুদ্ধ জীবনের কথাগুলোর সত্যিকারের চিত্র (হসকেন) তুলে ধরেছেন।’ কারণ পারনেলের ভাষায়, হসকেন একজন প্রত্যক্ষদর্শী। তবে হসকেন আইএস অধিকৃত জায়গায় না গিয়ে এত ভয়াবহ চিত্র কেমন করে আঁকলেন, সে প্রশ্নটি তুলে ধরে জবাবটিও তিনি দিয়েছেন। বলেছেন, ‘(আইএস) অধিকৃত স্থানটি থেকে আগতদের (পালিয়ে আসা) সাথে আলোচনা করে তিনি চিত্রটি এঁকেছেন।’ তাই এগুলো নির্ভরযোগ্য। অন্যান্য সমালোচকও একই ভাষায় এ কথা বলেছেন। 
আইএসের কার্যক্রম সাতটি স্তরে বিভক্ত, হসকেন লিখেছেন। প্রথম স্তরগুলো ছিল প্রস্তুতির সময় এবং কর্মকাণ্ডটি এখন পঞ্চম স্তরে পৌঁছেছে। এ রিপোর্টগুলো বলেছে, এ পাঁচ স্তরে আইএস নিজেকে শক্তিশালী করেছে। এখন এর ৫০ হাজার সদস্য এবং দুই বিলিয়ন ডলার অর্থসম্পদ আছে। ফলে পাঠক বিশ্বাস করতে বাধ্য হবে, এই বিশাল বাহিনী অতি সহজেই ম্যাপে বর্ণিত এলাকা ২০২০ সালের মধ্যে দখল করে তাদের দাবি অনুসারে বিশ্বকে পদানত করার প্রক্রিয়া চালাবে।

সংক্ষেপে এ বর্ণনা থেকেই অনেক প্রশ্নের সৃষ্টি হতে বাধ্য। যেমন- এই আইএস (বা যা-ই বলা হোক না) এর কার্যক্রম বর্তমানে দু’টি দেশে মোটামুটি সীমাবদ্ধ। এগুলো হলো ইরাক ও সিরিয়া। গত দেড় দশক ধরে এ দু’টি দেশে চলছে বৈদেশিক আগ্রাসন, অভ্যন্তরীণ সঙ্ঘাত ও দখলের কার্যক্রম। এ এলাকার দুই দশকের সত্যিকারের নিরপেক্ষ স্পষ্ট চিত্র কখনোই বিশ্বের মানুষ জানতে পারেনি। বিশ্ব সংবাদমাধ্যম পশ্চিমা শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, তাই তাদের বর্ণনামতে সবাইকে বিশ্বাস করতে হয় আর এ দু’টি দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোকেও সাবধানে তাদের প্রকাশনা চালাতে হয়, নতুবা আক্রমণের ভয় থাকে। যেমন- ইরাকে রয়েছে শতাধিক বৈদেশিক সামরিক ঘাঁটি। এ ঘাঁটি থেকে কখনো কখনো স্বাধীনভাবে অপারেশন চালানো হয়। বিভিন্ন সংস্থা দিয়েও কর্মকাণ্ডগুলো চালানো হয়। বিরোধী সংস্থা এগুলো চালাচ্ছে বলে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম প্রচার করে থাকে। এ প্রচারের মাধ্যমেই আলকায়েদা, তালেবান এবং আইএস-আইএসআইএস ইত্যাদি নাম এসেছে। এসব সংবাদমাধ্যমেই জানা গেছে সর্বশেষ আইএসের কথা। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এদের কর্মকাণ্ডের ভয়াবহ ছবিগুলোও দেখা যাচ্ছে। 

তবে রিপোর্টগুলো একটি বিষয়কে কখনো পাঠককে ভুলতে দিচ্ছে না, তা হলো- এসব জিঘাংসামূলক কর্মকাণ্ডের উৎস ও উৎসাহ আসছে ইসলাম এবং মুসলমানদের বিশ্বাস ও সামাজিক ব্যবহার থেকে।

সবচেয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য আসছে আইএসকে নিয়ে। এ সম্পর্কে প্রধান প্রশ্নগুলোর জবাবও সঠিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। যেমন- আইএস (ইসলামিক স্টেট), আইএসআইএস (ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া), আইএসআইএল (ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড লেভান্ট), দায়েশ কী? কখন এর জন্ম? কারা এর সদস্য? কোথা থেকে এরা অস্ত্র, অর্থ এবং রাজনৈতিক সহায়তা পাচ্ছে? যে দু’টি দেশে এরা কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে সেখানে এদের অবস্থান কী? এগুলো কি একই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নাম? বিশ্বের মহাশক্তিধরেরা কী ভাবছে এবং করছে? এসবের জবাবও আসছে নানাভাবে। তবে বেশির ভাগই পরস্পরবিরোধী, একের সাথে অন্যের মিল নেই। যেমন- এখন এদের একই নামে ডাকা হচ্ছে। তা হলো আইএস (ইসলামিক স্টেট)। এরা খেলাফত স্থাপন করবে। খবর অনুসারে তারা ইরাক-সিরিয়াতে ব্রিটেনের মতো স্থান ইতোমধ্যে দখল করে আছে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম অনুসারে এরা কখনো বাগদাদের কাছে চলে আসছে, আবার পিছিয়ে যাচ্ছে। একই খবরে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমা শক্তি তাদের ওপর বোমাবর্ষণ করছে। আবার সেই শক্তিবর্গ প্রকাশ্যে একই গোষ্ঠীকে অস্ত্রসহায়তাও দিচ্ছে।

বিভ্রান্তিকর খবরের উৎসে থাকছে বিশ্বাসযোগ্য পশ্চিমা শক্তির সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। যেমন- মার্কিন সরকারের ডিফেন্স ইনটেলিজেন্স এজেন্সির (ডিআইএ) ২০১২ সালের একটি প্রতিবেদন। এটি গোপন ছিল। সম্প্রতি তা প্রকাশিত হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, পশ্চিমা শক্তিবর্গ তাদের মধ্যপ্রাচ্যের বন্ধুদের সাথে আইএসের এই সন্ত্রাসীদের সহায়তা করছে। আবার আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি মুসলিম দেশ দখল এবং হত্যা-সঙ্ঘাত সৃষ্টির মধ্য দিয়ে এই আইএসের জন্ম। সরকারিভাবে পশ্চিমা শক্তিবর্গ এদের সন্ত্রাসী বলেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ঘোষণাও দিয়েছে। সে ঘোষণা অনুসারে এক দিকে বোমাবর্ষণের খবর পাওয়া যাচ্ছে, আবার এ গোষ্ঠীর সাথে পশ্চিমা শক্তির সম্পৃক্ততার খবরও সেই একই সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে।

আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিভ্রান্তিকর বিষয় এই গোষ্ঠীর নেতাকে নিয়ে। সাধারণভাবে তিনি আবু বকর আলবাগদাদি বলে পরিচিত। তিনি কে? শত শত প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে তাকে নিয়ে; প্রশংসামূলক এবং ভয়াবহ। বেশির ভাগই পরস্পরবিরোধী। অবশেষে দু’টি নামে তা নিবদ্ধ হয়েছে। একটি হলো তার নাম- ‘ইবরাহিম ইবনে আওয়াদ ইবনে আল-বাদরি আরাদুই হোসেনি’; অপরটি হলো- এলিয়ট সাইমন। এডওয়ার্ড স্লোডেনের প্রকাশিত গোপন ফরাসি তথ্য অনুযায়ী, আবু বকর বাগদাদি একজন ইহুদি এবং ইসরাইলের গুপ্তচর। বাগদাদি ইরাকের বাক্কা জেলখানায় বন্দী থাকা অবস্থায় ইসরাইল ও পশ্চিমা শক্তির সাথে চুক্তিবদ্ধ হন যে, তিনি ছাড়া পেলে একটি সন্ত্রাসী সংস্থা গড়ে তুলবেন। তিনি ২০০৬ সালে ছাড়া পান। 

একটি প্রশ্ন উঠতেই পারে এবং উঠেছেও, কেন হঠাৎ শুধু হসকেনের বর্ণিত মানচিত্র এবং তার বইয়ের বর্ণিত বক্তব্যগুলো নতুনভাবে পশ্চিমা বিশ্বকে নাড়া দিচ্ছে। কেননা, এর আগেরও বই আছে। মধ্যপ্রাচ্যে আইএসের ভয়াবহ কর্মকাণ্ডগুলো (যার বেশির ভাগ রহস্যময় ভিডিও চিত্র থেকে আসছে) ইতিহাসে বর্ণিত নৃশংসতা থেকে কি ভয়াবহ? এই প্রশ্ন করেছেন ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. রিচার্ড জ্যাকসন। ‘আইএস কি ইরাক যুদ্ধের চেয়ে নিষ্ঠুর? (প্রায় ১৫ লাখ ইরাকি এ যুদ্ধে নিহত হয়েছেন)। ত্রিশ লাখ ভিয়েতনামিকে হত্যার চেয়েও নিষ্ঠুর? কমিউনিস্ট ঠেকানোর নামে ব্রিটিশ বাহিনী মালায়াতে যে হত্যাকাণ্ড চালায়, তার চেয়েও নিষ্ঠুর? কেনিয়ার মাউ মাউ হত্যাকাণ্ড, খেমাররুজের কম্বোডিয়া হত্যাকাণ্ড, চেচনিয়ার হত্যাকাণ্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবিদ্বেষী হত্যাকাণ্ড, ফসফরাস বোমা বর্ষণ?’ রিচার্ড বলেছেন আইএসের হত্যাকাণ্ড ও নিষ্ঠুরতা- এসব ইতিহাসে বর্ণিত হত্যাকাণ্ডের কাছে নি®প্রভ।

আইএসের পেছনে ইসরাইলের মদদের বর্ণনা দিয়ে কানাডার অর্থনীতিবিদ জন চাকম্যান প্রশ্ন করেছেন, ‘এই আইএসরা কেন কোনো ইসরাইলি স্থাপনার ওপর আক্রমণ চালায় না?’ তিনি উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ১২টি দেশ সিরিয়া ও ইরাকে বোমাবর্ষণ করে চলেছে কয়েক বছর ধরে। এর ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ কখনো পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে আসে না।

মজার কথা, আইএসের ঘটনাগুলো হঠাৎ করে বিশ্বব্যাপী ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই’-এর (War on Terror) রিপোর্টগুলোকে ছাপিয়ে দিয়েছে। অথচ সে ‘লড়াই’ কিন্তু থেমে নেই। মৃত্যুর মিছিলও দীর্ঘতর হচ্ছে।’
তাহলে হসকেনের তথ্য নিয়ে মাতামাতি কেন! এমন তো নয়, বৃহত্তর ইসরাইল গঠনের আরেক পর্যায়ের কর্মকাণ্ডকে চাপা দেয়ার জন্য এই মাতামাতি। ‘গ্রেটার ইসরাইল : দি জিওনিস্ট প্লান ফর মিডল ইস্ট’ (লেখক ইসরাইল সাহাক) বইতে বৃহত্তর ইসরাইল সৃষ্টির পেছনে বর্তমান সঙ্ঘাত-যুদ্ধের কারণ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এ পরিকল্পনায় আরব রাষ্ট্রগুলোকে ভেঙে ছোট করা হবে; বিশেষ করে ইরাক ও সিরিয়াকে। মুসলমানদের মধ্যে শিয়া-সুন্নি বিরোধকে উৎসাহিত করে মধ্যপ্রাচ্যকে অশান্ত রাখা হবে; যেন পুরো এলাকা ইসরাইলের দাস (ভ্যাসাল) হিসেবে বিরাজ করে। এই অশান্ত অবস্থা সৃষ্টি এবং বজায় রাখার জন্য কৌশলে তালেবান, আলকায়েদা, আইএস ইত্যাদি সৃষ্টি করা হয়েছে। এই বইয়ের ভূমিকায় বিখ্যাত লেখক মাইকেল চসুদভস্কি বলেছেন, ইসরাইলের এই পরিকল্পনা ‘ওদেদ ইনন’ (Oded Yinon) বলে পরিচিত। এটা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের নীলনকশার একটি অংশ। সে পরিকল্পনা অনুসারে, বিশ্বের সব মুসলিম রাষ্ট্রে অশান্তি ও সঙ্ঘাত বজায় রেখে ক্রমান্বয়ে ভেঙে ফেলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের নতুন মানচিত্র সৃষ্টি করা হবে। 

লক্ষণীয়, আইএস নিয়ে প্রচারণা ও কর্মকাণ্ডে শুধু মুসলমানেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, ৯/১১-এর পরে নানা সঙ্ঘাত ও হত্যাকাণ্ডে অন্তত ৪০ লাখ মুসলমান নিহত-আহত হয়েছেন।
সর্বশেষে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম বারবার দাবি করছে, আইএসের কর্মকাণ্ড দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ায় এর মধ্যেই বিস্তৃতি লাভ করেছে। এর অর্থ, এ এলাকাগুলোকে অশান্তির মুখে ঠেলে দেয়ার পরিকল্পনা সম্ভবত শেষপর্যায়ে।


আরো সংবাদ