১৬ জুলাই ২০১৮

ভারতীয় সেনাপ্রধানের ঘুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ

ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। - সংগৃহীত

ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত ঘুষ, দুর্নীতিসহ নানা ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সিএসডি মাদক, ঝাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান, অবসরে যাওয়া সেনা কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ কমানো ও কোন সেনা কর্মকর্তার নৈতিক পদস্খলনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির নির্দেশনাসহ বিভিন্ন বিষয়ের একটি ‘নির্দেশনামা’ ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য জারী করেছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১২ লাখ সদস্যকে এসব অপকর্ম প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে বলেছেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

জেনারেল বিপিন রাওয়াত সেনাবাহিনীর নিজস্ব সাইটে একটি নির্দেশনা প্রেরণ করেছেন। একটি শক্তিশালী ও সুশৃখল সেনাদল গড়তে বাহিনীর সর্বস্তরে এই নির্দেশনা প্রেরণ করেছেন। কয়েকটি নির্দেশনা সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিষয়গুলো আরো ভালো করতে প্রেরণা দিবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করেন সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড বেসামরিক মানুষের কর্মকাণ্ডের চেয়ে ভালো।

কিন্তু অপরপক্ষ মনে করেন জেনারেল রাওয়াত এমন এক সময় এসব নির্দেশনা জারি করেন, যখন সেনাবাহিনী ‘সরকারি চাপের মুখে’ আছে। সেনাবাহিনীকে ৬২টি ক্যান্টনমেন্টের রাস্তা বেসামরিক লোকদের জন্য ছেড়ে দিতে হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন কাজ যেমন, বিভিন্নস্থানে সেতু নির্মাণ, ময়লা পরিস্কার করার মতো কাজও সেনাবাহিনীকে দিয়ে করানো হচ্ছে।

যদিও কয়েক দশক ধরেই এমন নির্দেশনা চলে আসছে একজন উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা বলেন, জেনারেল রাওয়াত সেনাবাহিনীকে নাড়া দিতে চাচ্ছেন তাদের মধ্যে যে অবসাদ ভর করেছে তা থেকে বের করে আনার জোর প্রচেষ্ঠার একটি হলো এইসব নির্দেশনা। তাছাড়া সেনাবাহিনীর অস্ত্র ক্রয়, ভাতা, পেনশনের পেছনে সরকারের রাজস্ব ব্যয় বেড়েছে।

 

আরো দেখুন : মন্ত্রীর পা ছুঁয়ে চাকরি খোয়ালেন পুলিশ কর্মকর্তা

অতিরিক্ত ভক্তি দেখাতে গিয়ে যে মন্ত্রীর পা ছুঁয়ে তিনি প্রণাম করেছিলেন, তার নির্দেশেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সাসপেন্ড হলেন ভারতের পাঞ্জাব পুলিশের এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর। ফোনেই সাসপেন্ড করা হয় বাটালার ফতেহগড় চুরিয়ান থানার ওই পুলিশ অফিসারকে। পিটিআই সূত্রে এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি।

সূত্রের খবর, সোমবার পুলিশের পোশাক পরেই পাঞ্জাবের মন্ত্রী তৃপ্ত রাজিন্দর সিং বাজওয়ার কাদিয়ানের বাসভবনে যান এএসআই পলবিন্দর সিং। তার দু-পা ছুঁয়ে তিনি প্রণাম করেন। ঘটনার আকস্মিকতায় হকচকিয়ে যান মন্ত্রী। অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে তত্‍‌ক্ষণাত্‍‌ তিনি ফোন করেন আইজি এসপিএস পারমারকে। এএসআইকে সাসপেন্ড করার জন্য ফোনেই ওই পুলিশকর্তাকে নির্দেশ দেন।

এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এএসআই পলবিন্দরের ফোনে সাসপেনশন নির্দেশের মেসেজ আসে। তাকে পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়।

এএসপি ওপিন্দরজিত্‍‌ সিং গ্রুমান খবরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, একজন পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়। এতে পুলিশের পোশাকের অপমান করা হয়। যে কারণে এএসআইকে সাসপেন্ড করে শাস্তি দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বাজওয়ার বক্তব্য, ‘বাড়ির বাইরে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা রয়েছে, কেউ পা ছুঁয়ে প্রণাম করবেন না। তার পরেও ওই এএসআই পুলিশের পোশাক পরে এসে আমাকে প্রণাম করে।’


আরো সংবাদ