২৩ জুলাই ২০১৮

ব্যাংক ঋণের সুদহার নিয়ে চাপে এমডিরা

ব্যাংক ঋণের সুদহার নিয়ে চাপে এমডিরা - সংগৃহীত

ব্যাংক ঋণের সুদহার নিয়ে চাপে পড়ে গেছেন এমডিরা। বেসরকারি ব্যাংক পরিচালকদের সংগঠনের (বিএবি) সিদ্ধান্ত কেউ মানছেন, আবার কেউ মানছেন না। যারা মানছেন না তারা ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। আবার যারা মানছেন তাদের আমানত কমে যাচ্ছে। এটা তাদের কাছে বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এভাবেই ব্যাংকিং খাতে নয়-ছয় সুদ নিয়ে এক ধরণের বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএবি’র সিদ্ধান্ত পরিপালন করেছেন দেশের দ্বিতীয় প্রজম্মের এমন একটি ব্যাংকের এমডি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বুধবার নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, আমানতের সুদহার ৬ শতাংশ এবং ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার সাথে সাথে তার রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। প্রতিনিয়তই কমে যাচ্ছে আমানত। বিপরীতে বাড়ছে ঋণ চাহিদা। তিনি বলেন, বিএবির সিদ্ধান্ত ছিল ৩ মাস মেয়াদি আমানতের সুদহার হবে ৬ শতাংশ। বেশিরভাগ স্বল্প মেয়াদে আমানত রাখে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো।

এসব আমানত এতোদিন ১০ থেকে ১১ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দেয়া হতো। কিন্তু ৬ শতাংশ সুদ নামিয়ে আনায় অনেক প্রতিষ্ঠানই ব্যাংক থেকে আমানত প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এতে রাতারাতি তার আমানত কমে যাচ্ছে। আমানত কমে গেলে তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যায়। কারণ, আমানত বেশি হলে বেশি হার ঋণ দেয়া যায়। এতে ব্যাংকের মুনাফার প্রবৃদ্ধি বাড়ে। অপরদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক বেঁধে দেয়া ঋণ আমানতের অনুপাতের (এডিআর) মধ্যে রাখা যায়। যেমন, প্রচলিত ব্যাংকগুলো ১০০ টাকা আমানত নিলে সাড়ে ৮৩ টাকা এবং ইসলামী ব্যাংকগুলো ১০০ টাকা আমানত নিলে ৮৯ টাকা ঋণ বিতরণ করতে পারে। এখন বেশিরভাগ ব্যাংকেরই এডিআর বেশি হওয়ায় ঋণ দিতে পারছে না। ফলে অনেকেই আমানত নিয়ে এডিআর কমানোর চেষ্টা করছে। এখন সুদহার কমানোর ফলে আমানত প্রত্যাহার হওয়ায় ঋণ আমানতের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। এতে ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রম আরও থেমে যাবে। সবমিলেই তারা বাড়তি চাপে ভুগছেন।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিএবির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কী না এ নিয়ে ত্রিমুখী নজরদারিতে আছে ব্যাংকগুলো। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়, অর্থমন্ত্রনালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ নজরদারি করা হচ্ছে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে। যেসব সব ব্যাংকের এমডি এখনই ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে অনীহা প্রকাশ করেছেন তাদেরকে সঙ্গে উচ্চ পর্যায় থেকে কথা বলা হয়েছে। এরই ভিত্তিতে সরকারের উচ্চ পর্যায়, সেখান থেকে অর্থমন্ত্রনালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংককেও অবহিত করা হচ্ছে। এছাড়া ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালকদের সংগঠণ বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) পক্ষে থেকেও ব্যাংকের এমডিদের উপর ঋণের সুদের হারে কমাতে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। সব মিলে ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে ব্যাংকগুলোর এমডিরা এখন পড়েছেন বহুমুখী চাপে।


সূত্র জানায়, গত ২ জুলাই ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এমডিদের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই বৈঠকে কয়েকটি ব্যাংকের এমডি ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে এখনই নামিয়ে আনা সম্ভব হয় বলে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তারা বলেন, ঋণের সুদের হার কমাতে হলে কম সুদে আমানত পেতে হলে। সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি। বাজারে যে অবস্থা বিজার করছে তাতে কম সুদে আমানত পাওয়া কঠণ হবে। এ কারণে তারা ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে আরো সময় দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিন্ধান্ত। যত দ্রুত সম্ভব এটি বাস্তবায়ন করতে হবে।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই বৈঠকে ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে বিষয়ে কয়েকটি ব্যাংকের এমডির ভিন্নমত পোষণের বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে নানা সূত্র থেকে জেনেছে। সংশিষ্ট ব্যাংকের এমডিদের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলা হচ্ছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের উপর থেকে বলা হয়েছে। সেটি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে। ব্যাংকের এমডিদেরও বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়টি তদারকির পাশাপাশি কোন খাতে কিভাবে কমানো যায় সেটিও বিশেষণ করে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।


সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে দেশে বিনিয়োগে স্থবিরতা চলছে। বিনিয়োগ না হওয়ার পেছনে ঋণের চড়া সুদকে অন্যতম দায়ী করা হচ্ছে। নির্বাচনী বছরে বিনিয়োগ বাড়িয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যেই ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে। এ বিষয়টি এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে অর্থমন্ত্রনালয় থেকেও তদারকি করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রনালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যাংকগুলোকে কর্পোরেট করে বিশেষ ছাড় দেয়া হয়েছে। এছাড়াও সরকারি আমানতের অর্ধেক বেসরকারি ব্যাংকগুলো রাখার বিধান করা হয়েছে। সরকারি ব্যাংকের অতিরিক্ত তারল্য ৬ শতাংশ সুদে বেসরকারি ব্যাংকে এফডিআর হিসাবে রাখার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এর ফলে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর তহবিলের খরচ কমে যাবে। এতে তারা সুদের হার কমাতে পারবে। সরকারি ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যেই ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছে।

এদিকে তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেশি- এই অজুহাতে এখনো বেশির ভাগ বেসরকারি ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনেনি। তারা শিল্প তি মূলধন, সেবা খাতের ঋণের সুদের হার ১০ থেকে ১৪ শতাংশে রাখছে। অন্যান্য খাতের সুদের হার আরো বেশি রাখছে। এর সঙ্গে নানা চার্জ, ফি ও কমিশন আরোপ করে সুদের হার আরো ২ থেকে ৩ শতাংশ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ব্যাংকগুলোর তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তারা এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেধে দেয়া খাতগুলোতে ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনছে। এর মধ্যে কৃষি, মসলা চাষ, নারী উদ্যোক্তা, রফতানি ঋণ এসব খাতে এআর সিঙ্গেল ডিজিটে রয়েছে। বাকিগুলোতে এ হার ডাবল ডিজিটেই রয়েছে।


আরো সংবাদ

ফখরের ইতিহাসের দিনে পাকিস্তানের অসাধারণ জয় জন্মদিনের অনুষ্ঠানে নেয়ার কথা বলে তরুণীকে গণধর্ষণ মাইনাস টু দিয়ে শুরু করে মাইনাস ওয়ানে খালেদা জিয়াকে রেখে দেয়া হয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর যেভাবে হামলা চালাল ছাত্রলীগ দুর্দান্ত জয় বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারে বঙ্গবন্ধু কর্নার বাধ্যতামূলক হচ্ছে মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলায় বিভিন্ন সংগঠনের নিন্দা এরশাদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন ২১ অক্টোবর তারেক মাসুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ মামলার আপিল শুনানি ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন নিদ্রামগ্ন : রিজভী পানির দাবিতে মীর হাজীরবাগ এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

সকল