১৯ নভেম্বর ২০১৮

৪ যাজকের কুকীর্তি, ১৬ বছর ধরে ধর্ষণ

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় খ্রিস্টান ধর্মের ৪ জন যাজকের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এদের মধ্যে ২জন যাজক আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে এবং অপর একজন যাজক বৃহস্পতিবার সন্ধার দিকে আত্মসমর্পণ করতে পারেন বলে জানা গেছে। খবর বিবিসির।

তবে চতুর্থ জনকে আটকের জন্য অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

ধর্ষণের অভিযোগ দায়েরকারী ৩২ বছর বয়সী ওই নারীকে যাজকরা ব্লাকমেইল করে ধর্ষণ করে আসছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ওই নারীর স্বামী বিষয়টি বুঝতে পারলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়।

গত ২ জুন ওই নারীর স্বামীর সাথে যাজকদের কথোপকথনের অডিও ক্লিপ পুলিশের হাতে পৌঁছায়। পরে সেই অডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও ভাইরাল হয়ে যায়।

পুলিশ কর্মকর্তা ইমরান কুরায়েশি বলেন, ব্লাকমেইলের ঘটনা দেখে বুঝা যায় এটি একটি ধর্ষণ।তিনি আরো বলেন, ওই নারীর স্বামী গত মে মাসে চারজন যাজকের নামে চার্চে অভিযোগ করেন। কিন্তু চার্চ কতৃপক্ষ যাজকদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ওই সময় চার্চে নিজেদেরকে কার্যক্রম থেকে সরিয়ে রেখেছেন যাজকরা।

মালাঙ্কারা অর্থ্রোডক্স সিরিয়ান চার্চের একজন মুখপাত্র বলেন, চার্চের পক্ষ থেকে একটি অনুসন্ধান কমিটি করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, একজন যাজক যখন তাকে যৌন হয়রানি শুরু করেন তখন তার বয়স ১৬ বছর। একপর্যায়ে ওই নারী অন্য একজন যাজককে বিষয়টি জানালে তিনিও ব্লাকমেইল করে যৌন হয়রানি শুরু করেন। ওই নারী আরো জানান, পরবর্তীতে তিনি অপর দুজন যাজকের সাহায্য চাইলে তারাও তাকে ধর্ষণ করে। এভাবে চারজন যাজক তাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছেন।

কেরেলাসহ সমগ্র ভারতে এই ঘটনা নিয়ে বিশেষ করে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে নাড়া দিয়েছে।

ভারতের একজন নারীবাদী কোচুরানী আব্রাহাম বলেন, চার্চগুলোর যৌন হয়রানির বিষয়ে সকলেই জানে। কিন্তু এব্যাপারে কেউ মুখ খুলে না।

ভারতে খ্রিস্টানরা সংখ্যালঘু। মোট জনসংখ্যার ৩ শতাংশ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। কিন্তু দক্ষিণ উপকূলীয় রাজ্য কেরেলায় মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ খ্রিস্টান।

কেরেলায় ২ হাজারেরও বেশি বছর ধরে খ্রিস্টানরা বসবাস করে আসছে।জনশ্রুতি অনুসারে শোন যায়, কেরেলার উপকূলীয় অঞ্চল ক্রাঙ্গানুরে খ্রিস্টান ধর্মের প্রবর্তক যিশুর প্রেরিত ১২ জনের একজন সেন্ট টমাস খ্রিস্ট ৫২ সালে ধর্ম প্রচারের জন্য আসেন।

 

আরো দেখুন : প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণে যুবক গ্রেফতার

মানিকগঞ্জের ঘিওরে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মোল্লা নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে থানায় মামলা দায়ের করেন ওই কিশোরীর মা। গ্রেফতার তুলন মোল্লা ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া গ্রামের বজলুর রশীদ মোল্লার ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত ৫ জুলাই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ওই প্রতিবন্ধী কিশোরী একই উপজেলার পেচাঁরকান্দা গ্রাম থেকে বড়টিয়া গ্রামে ভাই আইয়ুব আলীর বাড়িতে আসেন। পরে বাড়ির সবাই মরদেহ দেখতে গেলে এই সুযোগে মোল্লা প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ করে। ওই যুবকের পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় প্রথমে ঘটনার ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এলাকায় ধর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে বিষয়টি আপোষ মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে ঘিওর থানার পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে সোমবার রাতে তুলন মোল্লাকে ধরে নিয়ে যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঘিওর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার বিকালে প্রতিবন্ধী কিশোরীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।


আরো সংবাদ