২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সংবাদ সম্মেলন মেয়রপ্রার্থী বুলবুল রাজশাহী সিটি নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নেই

-

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেছেন, রাজশাহী সিটি নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি হয়নি। এখানে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। তিনি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে হয়রানি অভিযোগ এবং মহানগর পুলিশের দুই ওসির প্রত্যাহার দাবি করেছেন। গতকাল কিন্তু তা মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
বুলবুল বলেন, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা ও নিরপেতা প্রয়োজন। না থাকায় এখানে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি হয়নি। প্রচার-প্রচারণাসহ নির্বাচনী সব কর্মকাণ্ডে শুরু থেকেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন তিনি। আওয়ামী লীগ তথা নৌকা প্রতীকের নেতাকর্মীরা পুলিশকে সাথে নিয়ে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ১০ জুলাই বেলা ১১টার পর প্রতীক বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু ৯ জুলাই রাত থেকেই পুরো নগরী নৌকা প্রতীকের প্রচারপত্রে ছেয়ে গেছে। এমনভাবে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে, যাতে অন্য প্রতীকের প্রচারপত্র টাঙানোর সুযোগ না থাকে। নৌকা প্রতীকের প্রচারপত্রে ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বুলবুল। তিনি বলেন, গত দুই দিনে অন্তত চার কোটি টাকার প্রচারপত্র ছড়ানো হয়েছে। এ অর্থের উৎস জানতে চান বুলবুল। এটি আচরণবিধি লঙ্ঘন উল্লেখ করে তিনি যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।
নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি হয়রানি চলছে বলে অভিযোগ করে বুলবুল বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে থেকেই আমাদের নেতাকর্মীদের ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ। ভয়ভীতি ছড়াতে গভীর রাতে বাড়ি বাড়ি হানা দিয়ে নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি এবং মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওসির প্রত্যাহার দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পপাতিত্বের অভিযোগ এতে বুলবুল বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ। খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচন করে তারা সেটিই প্রমাণ করেছে। রাজশাহীতে নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতেও ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার অভিযোগ করে তিনি বলেন, প্রচারণা শুরুর পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন স্থানে আমাদের নেতাকর্মীরা নৌকা প্রতীকের কর্মীদের দ্বারা হামলা, ভাঙচুর ও বাধার শিকার হচ্ছেন। কিন্তু এ নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে না কমিশন। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে নিরপে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি এসব অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন বক্তব্য দেন। এতে আরো উপস্তিত ছিলেন ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচন সমন্বয়ক ও জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু।
এতে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, যত হামলা, মামলা করা হোক না কেন আমরা ভয় পাই না। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে অবৈধ সরকারের সব জুলুম-নিপীড়নের জবাব দেয়া হবে ইনশা আল্লাহ। মিনু বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি সরকারের আজ্ঞাবহ। তিনি অবিলম্বে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অপতৎপরতা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধ এবং দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্য পরিহারের আহ্বান জানান। প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্টদের আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান মিনু।

 


আরো সংবাদ