২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ঢাবির বিভিন্ন বিভাগে কাস পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত

-

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়া শিার্থীদের ওপর সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের হামলা এবং আন্দোলনকারী শিার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশ রিমান্ড এবং হয়রানিমূলক মামলা দেয়ার প্রতিবাদে কাস-পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত রেখেছেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা কাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন।
বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, বিশ^বিদ্যালয়ের চারটি অনুষদের অন্তত ১০টি বিভাগে কাস হয়নি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ওপর হামলা-মামলার প্রতিবাদ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য কাস বর্জন করেছে বলে জানা গেছে। গ্রেফতারকৃত শিার্থীদের বিভাগগুলোতে কাস-পরীা বর্জনের মাধ্যমে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি জোরালোভাবে চলছে বলে জানা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব বিভাগে কাস-পরীক্ষা হচ্ছে না সেগুলো হলো- সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সমাজবিজ্ঞান ও কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন এবং উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ; কলা অনুষদের বাংলা এবং আরবি বিভাগ; আইন অনুষদভুক্ত আইন বিভাগ; জীববিজ্ঞান অনুষদভুক্ত মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ; ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ, মার্কেটিং বিভাগ, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ।
এ ছাড়া সেমিস্টার পদ্ধতির অনেক বিভাগে এখনো কাস শুরু হয়নি। তা ছাড়া যেসব বিভাগে সেমিস্টার পদ্ধতি নেই তার বেশ কয়েকটিতেও কাস শুরু হয়নি বলে বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। এগুলোর মধ্যে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ এবং টেলিভিশন চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগ।
জানতে চাইলে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুচিস্মিতা তিথি নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা মশিউরকে আমাদের মধ্যে ফেরত চেয়ে এক সপ্তাহের একটি ডেডলাইন দিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর চিঠি দিয়েছি। চিঠিটি বিভাগের চেয়ারম্যানের মাধ্যম হয়ে তার কাছে পৌঁছাবে। এর মধ্যে মশিউরকে ফেরত না দিলে আমরা আবারো বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করব। কাস বর্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, নৈতিক বিবেচনায় আমরা বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্ত কাস বর্জন করেছি। তবে এর মধ্যে তিনজনকে বিভাগের একজন শিক্ষক ফোন করে কাসে নিয়ে গেছেন। এ ছাড়া তাদের সাথে আরো তিনজন অংশ নিয়েছে। তবে বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীরা মশিউরকে ছাড়া কাসে ফিরবে না জানিয়ে কাস বর্জন অব্যাহত রেখেছে।
তবে শিক্ষার্থীদের চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, আমি এখনো চিঠি পাইনি। তবে এ বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের কাস বর্জন কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু কিছু বিভাগে কাস হচ্ছে না। এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। অন্য বিভাগগুলোতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হোক তা আমরা চাই না। তারা যেকোনো বিষয়ে আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী মশিউরকে আটকের প্রতিবাদে বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা গত ৫ জুলাই মানববন্ধন করেন। গত বুধবার বিভাগের গেটে তালা লাগিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। তারা মশিউরের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের ছাত্র কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ রাশেদ খানকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়ার প্রতিবাদে গত ৮ জুলাই মানববন্ধন করেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। আইন বিভাগের ছাত্র তারিকুলকে মারধর ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিভাগের শিক্ষার্থীরা গত ৯ জুলাই বিভাগের সামনে মানববন্ধন করে কাস বর্জন কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তারা প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষের ফার্স্ট টার্ম পরীাও বর্জন করেছেন। বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী মাসুদ রানার ওপর হামলার প্রতিবাদে বিভাগের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে কাস বর্জনের ঘোষণা দেন।
এর আগে গত বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অনির্দিষ্টকালের জন্য কাস-পরীা বর্জনের আহ্বান জানান কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরণ পরিষদ। গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পরিষদের আহবায়ক হাসান আল মামুন জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, নারী নিপীড়ন, মামলা, রিমান্ডের নামে নির্যাতন বন্ধ ও আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে এ কর্মসূচি আহ্বান করা হয়েছে। হামলাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত ও কোটা সংস্কার আন্দোলনে আটককৃতদের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। কিন্তু তার ঠিক আগ মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ও বিশ^বিদ্যালয় শাখার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক ও আতাউল্লাহসহ ১৫ জন আহত হন। পরদিন শহীদ মিনারে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচিতে হামলা চালিয়ে ছাত্রী নিপীড়ন করার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া আটক করা হয় আন্দোলনের বেশ কয়েক জন যুগ্ম আহ্বায়ককে। সেই থেকে এসব ঘটনার প্রতিবাদে কাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।


আরো সংবাদ