১৬ অক্টোবর ২০১৮

আমেরিকার সঙ্গে ইমরানের সম্পর্ক কেমন

আমেরিকার সঙ্গে ইমরানের সম্পর্ক কেমন - ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার আগেই আমেরিকার সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলার কথা শুনিয়ে রাখলেন ইমরান খান। একসময় ঘোর মার্কিন বিরোধী ইমরান জানিয়ে দিলেন, তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো দৃঢ় করতে চান। গত জানুয়ারি থেকেই ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমশ তলানিতে এসে পৌঁছেছে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানকে মিথ্যাবাদী বলে তোপ দেগেছিলেন। সেই পরিস্থিতিকে যেভাবেই স্বাভাবিক করার চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাখলেন হবু প্রধানমন্ত্রী।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী ডন পত্রিকার মতে, এমনিতেই সুসময়েও পাকিস্তান শাসন করা দুরূহ কাজ। তার উপর পাকিস্তানের যখন অর্থনৈতিক টানাপোড়েন আর কূটনৈতিক চাপের মধ্যে থাকে, তখন কী হতে পারে বুঝতে কল্পনাশক্তির অধিকারী হতে হয় না। এ দুয়ের সমাধান পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। ব্যথা উপশমের একটা চাবি আমেরিকার হাতে। তবে ভাবী প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জন্য খুব সহজ হবে না এই সমস্যার সুষ্ঠ সমাধান।

বিজয়ীর ভাষণে ইমরান বেশ প্রাজ্ঞ, মৈত্রীসূচক ও উদ্দীপনামূলক কথা বলেছেন। কিন্তু আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে তার কথা অস্বস্তিকর। এ ক্ষেত্রে তিনি একজন গতানুগতিক পাকিস্তানির মতো কথা বলেছেন। যার মূল সুর, পাকিস্তানের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়েছে এবং আমেরিকার সম্পর্কটি ‘পারস্পরিক লাভজনক’ ও ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ হতে হবে। একজন ঝানু রাষ্ট্রনায়ক হয়তো এখানে কৌশলী হতে চেষ্টা করবেন। কিন্তু ইমরান বোধ হয় বিষয়টা নিয়ে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চান। তা করতে গেলে তিনি নিজেকে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন।

ইমরানের জয় ওয়াশিংটনের পছন্দের ছিল না। তার সম্পর্কে যা কিছু বলা বা ভাবা হয়েছে, এর সবই তালিবানদের প্রতি তার সহানুভূতিশীল মনোভাবের প্রেক্ষাপটে। ইমরানের ঘনিষ্ঠরা বলে থাকেন, তাঁকে ভুল বোঝা হচ্ছে। হয়তো তা-ই। কিন্তু অতীতে আমেরিকার বিপক্ষে ও তালিবানের পক্ষে তিনি অনেক কড়া কথা বলেছেন এবং সেগুলো কখনোই শুধরানোর চেষ্টা করেননি। যেমন সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অনেকেই তাকে বোঝাতে চেষ্টা করেছেন, ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্ক স্বাভাবিক করা উচিত। কিন্তু ইমরান সেসব কানে তোলেননি।

ডন বলছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ইমরানের হাত বাঁধা। যেমন আমেরিকা-পাকিস্তান সম্পর্ক পারস্পরিক লাভজনক ছিল না—এমন ভাবনা থেকে তাকে সরে আসতে হবে। কার্যত, উভয় দেশই এই সম্পর্ক থেকে প্রভূত লাভবান হয়েছে। একজনকে ছাড়া অপরজন সমস্যায় থাকত। কিন্তু ‘ভারসাম্য’ সম্ভব নয়। বস্তুত, স্বল্প মেয়াদে, সরকারের ভারসাম্যের ইচ্ছা তার অর্থনৈতিক দুরবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টার বিরুদ্ধে কাজ করবে। আইএমএফকে পাশে পাওয়া পাকিস্তানের প্রয়োজন হবে। আমেরিকা এ ব্যাপারে অনেকটা খোলাখুলিই বলেছে, দাতা সংস্থা কোন দিক ঝুঁকবে, তা নির্ভর করছে আমেরিকা-পাকিস্তান সম্পর্কের উপরই।

আমেরিকা বরাবর বলে আসছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে ইসলামাবাদকে সব জায়গায় বেশি করে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ইমরান এই বেশি করে অগ্রণী ভূমিকা পালনের ব্যাপারটা পছন্দ করছেন না। এই মনোভাব তার সরকারের সঙ্গে আমেরিকার সমীকরণ আরও জটিল করে তুলতে পারে। শাসকচক্র যদি তাঁকে যদি অন্যভাবে ভাবতে বাধ্য করে, তিনি হয়তো তাঁর প্রথম পরীক্ষা অভিজ্ঞতা করবেন। এটা মোটামুটি নিশ্চিত, কড়া মনোভাব আখেরে পাকিস্তানের ক্ষতি করবে। তালিবানকে বোঝাতে হবে, আফগানিস্তানে শান্তি স্থাপনে আমেরিকার প্রচেষ্টায় অংশ নেয়া সবার জন্যই মঙ্গলজনক। আমেরিকা পাকিস্তানের কাছে এই সমর্থন চায়, কিন্তু পাশাপাশি এও আশা করে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে তারা আরো বেশি করে সক্রিয় হবে।

ইমরান খানের পররাষ্ট্রনীতি কেমন হচ্ছে এবং আমেরিকার সঙ্গে তিনি কী ধরনের সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী, তার ইঙ্গিত মিলবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেছে নেয়ায়। সেনাবাহিনীর পছন্দের কাউকে যদি এ পদে বসানো হয়, অচলাবস্থা বজায় থাকবে বলেই মনে হয়।


আরো সংবাদ