২২ অক্টোবর ২০১৮

জেন্ডারবৈষম্য : সেরেনার পাশে টেনিস দুনিয়া

ক্ষুব্ধ সেরেনা উইলিয়ামস - ছবি : সংগ্রহ

ইউএস ওপেনের ফাইনালে আম্পায়ারের বিরুদ্ধে জেন্ডারবৈষম্যের অভিযোগ এনে ২৩টি গ্রান্ডস্লাম জয়ী মার্কিন টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস পাশে পাচ্ছেন টেনিস জগতের লোকদের। এমনকি টেনিসের সর্বোচ্চ সংস্থা ডব্লিউটিএও তার এই অভিযোগ আমলে নিয়েছে।

ফাইনালের দিন ম্যাচ শেষে জাপানি তারকা নাওমি ওসাকার জন্য তখন ফ্ল্যাশিং মিডোয় হাততালি পড়ছে। নতুন চ্যাম্পিয়নের নাম নিয়ে গলা ফাটাচ্ছেন দর্শকরা। অন্যদিকে সেরেনা সোচ্চার ‘অন্যায়ের’ বিরুদ্ধে।

ঘটনার সূত্রপাত দ্বিতীয় সেটের দ্বিতীয় গেমের সময়। ওসাকা প্রথম সেট জিতে নেন ৬-২ ব্যবধানে। তারপর দেখা যায় প্লেয়ার বক্স থেকে সেরেনাকে কিছু ইঙ্গিত করছেন তার কোচ প্যাট্রিক। ডব্লুটিএ ট্যুরে এমন কিছু বৈধ হলেও গ্র্যান্ডস্লামে এটি আচরণবিধি ভঙ্গ। এই অভিযোগে আম্পায়ার সেরেনার একটি পয়েন্ট কেটে নিলে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন যুক্তরাষ্ট্রের তারকা।

আর এতেই মেজাজ হারান সেরেনা। আম্পায়ারকে চিৎকার করে বলতে থাকেন, তিনি কোর্টে দাঁড়িয়ে কোচের থেকে কোনো পরামর্শ নেননি। ক্যারিয়ারে কখনো প্রতারণা করেননি তিনি। সেরেনা বলেন, ‘জেতার জন্য কখনো মিথ্যের আশ্রয় নেইনি। তার চেয়ে ভালো আমি হেরে যাব।’

দ্বিতীয় সেটের গেম চলাকালীন পিছিয়ে পড়ে সজোরে ব়্যাটেক ছুঁড়ে ফেলতেও দেখা যায় ২৩ টি গ্র্যান্ড স্লামের অধিকারীকে। আম্পায়ার এটিকে আচরণবিধি ভঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত করে গোটা একটা গেমই কেড়ে নেন ২৩টি গ্র্যান্ড স্লাম বিজয়ী তারকার কাছ থেকে। ক্ষিপ্ত হয়ে আম্পায়ার ব়্যামোসকে ক্ষমা চাইতে বলেন সেরেনা। আম্পায়ারকে ‘মিথ্যেবাদী’, ‘চোর’ অপবাদ দিয়ে চিৎকার করে ওঠেন সেরেনা। বলেন, ‘আপনি মিথ্যাবাদী। জীবনে আর কখনোই আপনি আমার ম্যাচে আম্পায়ারিং করতে আসবেন না।’

এ নিয়েই তোলপাড় গোটা টেনিস দুনিয়া। যে অভিযোগে সেরেনার বিরুদ্ধে পয়েন্ট কেটেছেন আম্পায়ার, সে আচরণ (হতাশা প্রকাশে কোর্টে র‍্যাকেট ছুড়ে মারা) অহরহই করে থাকেন পুরুষ খেলোয়াড়েরা। তাই সেরেনা বলছেন, জেন্ডারবৈষম্যের শিকার হয়েছেন তিনি। সেরেনার প্রতিবাদের পর ব্যাপারটি নিয়ে নড়েচড়ে বসছে ডব্লুটিএ। সংস্থার ট্যুর চিফ স্টিভ সিমনস টেনিস কোর্টের এমন বৈষম্য স্বীকার করে এটি সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করার কথা জানিয়েছেন।

সেরেনাকে সমর্থন করেছেন বিলি জিননের মতো কিংবদন্তি। তিনি টুইটারে লিখেছেন, ‘যখন কোনো মেয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে, তখন তাকে বলা হয় হিস্টিরিয়াগ্রস্ত। কিন্তু পুরুষেরা একই জিনিস করলে বলা হয়, বাহ্! এ তো খোলাখুলি কথা বলতে ভয় পায় না। ধন্যবাদ সেরেনা উইলিয়ামস, এই দ্বিচারিতাকে সামনে নিয়ে আসার জন্য।’

আরেক নারী টেনিস তারকা ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কাও লিখেছেন, ‘এটি যদি পুরুষদের খেলা হতো, তাহলে এমন কিছুই হতো না।’ 

সেরেনার প্রতিবাদের পর ব্যাপারটি নিয়ে নড়েচড়ে বসছে ডব্লুটিএ। সংস্থার ট্যুর চিফ স্টিভ সিমনস টেনিস কোর্টের এমন বৈষম্য স্বীকার করে এটি সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করার কথা জানিয়েছেন। 

ডব্লুটিএ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ডব্লুটিএ বিশ্বাস করে, কোর্টে ছেলে কিংবা মেয়ে খেলোয়াড়দের প্রকাশ করা আবেগের সহনীয় মাত্রা একই হওয়া উচিত। কোর্টে নারী-পুরুষ সব খেলোয়াড়কে যেন সমান চোখে দেখা হয়। সবার প্রতি একই বিচার প্রতিষ্ঠায় সংস্থা কাজ করে যাবে। আমরা বিশ্বাস করি না যে ইউএস ওপেনের ফাইনালে সেরেনার প্রতি সেই আচরণ নিশ্চিত হয়েছে।’


আরো সংবাদ