২২ নভেম্বর ২০১৮

ইনজামামপুত্রের সুযোগ পাওয়া নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটে ঝড়

ইনজামাম উল হক - ফাইল ছবি

সাবেক তারকা ব্যাটসম্যান ও অধিনায়ক ইনজামাম উল হকে পুত্র ইবতাসাম উল হকের দলে সুযোগ পাওয়া নিয়ে নতুন ঝড় শুরু হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেটে। পাকিস্তান অনূর্ধ-১৯ ক্রিকেট দলে সুযোগ পেয়েছেন দেশটির জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক ও সাবেক কিংবদন্তী ক্রিকেটার ইনজামাম উল হকের পুত্র ইবতাসাম উল হক।

আর এই এই দল নির্বাচনে জাতীয় দলের নির্বাচক ইনজামাম প্রভাব খাটিয়েছেন বলে খবর রটেছে। বিষয়টি কানে যাওয়ার পর বেজায় চটেছেন সাবেক অধিনায়ক। স্রেফ বলে দিয়েছেন, প্রভাব খাটিয়ে পুত্রকে দলে সুযোগ পাওয়ার অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারলে পদত্যাগ করবেন।

ঘটনার সূত্রপাত এক সাংবাদিকের সাথে পাকিস্তানের সাবেক স্পিনার আবদুল কাদিরের একটি আলোচনার মাধ্যমে। ওই সাংবাদিক দাবি করেছেন, অনূর্ধ-১৯ দল নির্বাচনের আগে দলের নির্বাচক বাসিত আলীকে ফোন করেছেন ইনজামাম উল হক। ফোন করে তার পুত্রকে দলে নিতে অনুরোধ করেছেন। ওই সাংবাদিকদের দাবি তিনি আবদুল কাদিরের কাছ থেকে জেনেছেন বিষয়টি।

বিষয়টি জানার পরই ক্ষেপেছেন ইনজামাম। বলেছেন, শীঘ্রই পিসিবি চেয়ারম্যান এহসান মানির সাথে বৈঠক করে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানাবেন তিনি। আর তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য হলে পদত্যাগ করবেন। মিথ্যা প্রমাণিত হলে গুজব রটানো লোকদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন।

ক্ষুব্ধ এই সাবেক তারকা বুধবার টুইটারে লিখেছেন, ‘এই অসত্য ও বিদ্বেষমূলক অভিযোগ জোরালো ভাবে প্রত্যাখান করেছি। জুনিয়র নির্বাক কমিটির কারো সাথেই যোগাযোগ হয়নি আমার। এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। বিষয়টি খুব সিরিয়াসলি নিচ্ছি আমি, এ নিয়ে পিসিবি চেয়ারম্যানের সাথে মিটিং করবো এবং তাকে তদন্ত করার অনুরোধ জানাব’। এক ভিডিও বার্তায়ও এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন ইনজি।

অবশ্য এই ঘটনায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন ইনজি। বোর্ড জানিয়েছে, প্রধান নির্বাচকের ওপর পূর্ণ আস্থা আছে তাদের। পাকিস্তান অনূর্ধ-১৯ দলের নির্বাচক বাসিত আলীও অস্বীকার করেছেন ইনজামাম ও আবদুল কাদিরের সাথে কোন ধরনের আলাপের কথা।

ইনজামাম উল হকের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ গত বছরও উঠেছিলো, যখন তার ভাজিতা ইমাম উল হক জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলো। তখন ইনজামাম বলেছিলেন এমন কিছু কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। আর ভাতিজা ইমাম তার পারফরম্যান্স দিয়ে প্রমাণ করেছেন জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার দাবিটা তার ছিলোই। এখন পাকিস্তান দলের নিয়মিত ওপেনারের জায়গাটা তার অনেকটা পাকা হয়ে গেছে।

আরো পড়ুন: এশিয়া কাপের সময় সূচি

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) শনিবার শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপ। ছয় দেশকে দুটি গ্রুপে ভাগ করে হবে এবারের আয়োজন। ২০১৬ সালে এশিয়া সেরার আসর হয়েছিল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। আয়োজক ছিল বাংলাদেশ। সেবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে এশিয়ার দেশগুলো ছোট ফরম্যাটে টুর্নামেন্টটি খেলেছিল। এশিয়ান ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই আসর এবার ফিরছে ওয়ানডে ফরম্যাটে।

দুই বছর পর হতে চলা এবারের আসরের ছয় দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ভারত এবং পাকিস্তান আছে একই গ্রুপে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের সঙ্গে ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে হংকং। অন্যদিকে গ্রুপ ‘বি’তে আছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা আর আফগানিস্তান।


ইউএইর’ দুটি কেন্দ্র আবুধাবি ও দুবাইয়ে হবে ম্যাচগুলো। দুটি গ্রুপ থেকে দুটি করে চারটি দল সুপার ফোরে উঠবে, দুটি দল বিদায় নেবে। সুপার ফোরে চারটি দল একে অপরের সঙ্গে খেলবে।

শনিবার টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা। সুপার ফোরের খেলা শুরু হবে ২১ সেপ্টেম্বর। ২৮ সেপ্টেম্বর হবে মেগা ফাইনাল।

 

গ্রুপ ‘এ’

ভারত, পাকিস্তান, হংকং

গ্রুপ ‘বি’

বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান

একনজরে এশিয়া কাপের সময় সূচি

গ্রুপ পর্ব

১৫ সেপ্টেম্বর – বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা (দুবাই)
১৬ সেপ্টেম্বর – পাকিস্তান বনাম হংকং (দুবাই)
১৭ সেপ্টেম্বর – শ্রীলঙ্কা বনাম আফগানিস্তান (আবুধাবি)
১৮ সেপ্টেম্বর – ভারত বনাম হংকং (দুবাই)
১৯ সেপ্টেম্বর – ভারত বনাম পাকিস্তান (দুবাই)
২০ সেপ্টেম্বর – বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান (আবুধাবি)

সুপার ফোর

২১ সেপ্টেম্বর – গ্রুপ এ বিজয়ী বনাম গ্রুপ বি রানার আপ (দুবাই)
২১ সেপ্টেম্বর – গ্রুপ বি বিজয়ী বনাম গ্রুপ এ রানার আপ (আবুধাবি)
২৩ সেপ্টেম্বর – গ্রুপ এ বিজয়ী বনাম গ্রুপ এ রানার আপ (দুবাই)
২৩ সেপ্টেম্বর – গ্রুপ বি বিজয়ী বনাম গ্রুপ বি রানার আপ (আবুধাবি)
২৫ সেপ্টেম্বর – গ্রুপ এ বিজয়ী বনাম গ্রুপ বি বিজয়ী (দুবাই)
২৬ সেপ্টেম্বর – গ্রুপ এ রানার আপ বনাম গ্রুপ বি রানার আপ (আবুধাবি)

ফাইনাল

২৮ সেপ্টেম্বর – ফাইনাল (দুবাই)

(সব কটি ম্যাচ বাংলাদেশ সময় বিকেলে শুরু) ।


আরো সংবাদ