২০ নভেম্বর ২০১৮

শনিবার থেকে ঢাকায় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবল বাছাই পর্ব

আজ থেকে শুরু হচ্ছে বাছাইপর্ব -

বাংলাদেশের মহিলা ফুটবল আজ সাফের গণ্ডি পেরিয়ে এশিয়া কাঁপাচ্ছে। অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলে তারা এশিয়ার ৭ নম্বর দল। লাল-সবুজ মেয়েরা যে ফুটবলে আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে এই এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ আসরেই সেটি তারা প্রথম জানান দিয়েছিল। ২০১৪ সালে তাদের কাছে হার শক্তিশালী জর্ডানের।

২০১৬ সালে তো তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। ইরান, চাইনিজ তাইপে, সিঙ্গাপুর, কিরগিজস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে বাংলাদেশ হয়েছিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, যা তাদের বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব বা এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্বে নিয়ে যায়।

দুই বছর পর শনিবার থেকে আবার ঢাকায় শুরু হচ্ছে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবলের বাছাই পর্ব। ‘এফ’ গ্রুপের এই বাছাই পর্বে এবারো ফেবারিট বাংলাদেশের মেয়েরা। অতিথি সব দলের কোচের কন্ঠেই সে সুর। এবারও বাংলাদেশের মিশন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া। শনিবার কমলাপুরের শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বেলা সাড়ে এগারোটায় সংযুক্ত আরব আমিরাত বিপক্ষে ভিয়েতনামের ম্যাচ নিয়ে শুরু হচ্ছে আসর। বিকেল সাড়ে তিনটায় লেবাননের প্রতিপক্ষ বাহরাইন। ১৭ সেপ্টেম্বর ফেবারিট ও স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ বাহরাইনের বিপক্ষে।

তবে গত আসরগুলোর সাথে এবারেরটির পার্থক্য- এবার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেই চূড়ান্ত পর্বে খেলার ছাড়পত্র মিলবে না। খেলতে হবে দ্বিতীয় রাউন্ড। সেখানে গ্রুপে অন্ত:ত দ্বিতীয় স্থান পেলে আগামী বছর থাইল্যান্ডে চূড়ান্ত পর্বের টিকিট কাটা যাবে। এই দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতেই ঢাকায় আসা বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লেবানন ও ভিয়েতনামের।

শুক্রবার টুর্নামেন্ট পূর্ব অফিসিয়াল প্রেস কনফারেন্স এই চার অতিথি দল সহ বাংলাদেশ কোচও জানালেন তাদের লক্ষ্য কোয়ালিফাই করা। পুরো আসরে এশিয়ার ৩০টি দেশ অংশ নিচ্ছে। ৬ গ্রুপে বিভক্ত প্রতি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল ও দুই সেরা রানার্সআপ দল খেলার সুযোগ পাবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। তবে বেস্ট রানার্সআপের কোটায় দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার ইচ্ছে নেই বাংলাদেশের। কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনের জানান, ‘আমরা গ্রুপ সেরা হয়েই দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে চাই।’

দ্বিতীয় পর্বের আট দল দুই ভাগে বিভক্ত হবে। সেখান থেকে দুই গ্রুপের দুটি করে সেরা দল আগামীবছর সেপ্টেম্বরে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে কোয়ালিফাই করবে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে গতবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান।

বাংলাদেশ দলের বড় প্রেরণা বর্তমান দলে গত বছর চূড়ান্ত পর্বে খেলা স্কোয়াডের ১২ জন আছে। আর গত মাসে ভুটানে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলে রানার্সআপ দলের ২২ জনের উপস্থিতি। কোচ ছোটনের মতে, আমাদের দল ২০১৬তে বাছাই পর্ব খেলা দলের চেয়ে শক্তিশালী এবার। দলটি গত ডিসেম্বর থেকে অনুশীলনে। এই সময়ে তারা দু’টি আন্তর্জাতিক আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। একটিতে রানার্সআপ। খেলেছে অনেক আর্ন্তজাতিক ম্যাচ। বেড়েছে অভিজ্ঞতা। তাই এবারও গ্রুপ সেরা হওয়ার আত্মবিশ্বাস।’
অবশ্য এবারের প্রতিপক্ষ সবাইকেই শক্তিশালী বলছেন ছোটন।

বয়সের কোটা পাড় হয়ে যাওয়ায় এবার দলে নেই কৃষ্ণা রানী, স্বপ্না, মারজিয়ারা। তবে এদের বিকল্প সাজেদা, শাহেদা রিপা, রিতু পূর্নারা এবার আস্থার প্রতিদান দেবে বলে আশাবাদ বাংলাদেশ কোচের। সে সাথে জানান, গত টুর্নামেন্টগুলোতে হওয়া ভুল ক্রুটিগুলো এই আসরে সংশোধন করা হবে। অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা এবারও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘোষণা দিলেন। একই সাথে দর্শকদের মাঠে আসার অনুরোধ তাদের উৎসাহ দেয়ার জন্য।

বাছাই পর্বে অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলে এএফসির র‌্যাংকিংয়ে ১১ তে আছে ভিয়েতনাম। বাকী তিন দল র‌্যাংকিংয়ের বাইরে। বাংলাদেশও সমীহ করছে ভিয়েতনামকে। ভিয়েতনামের কোচ নুইয়েন থাই মাল রান বলেন, ‘আমরা এসেছি দুই মাসের প্রস্তুতি নিয়ে। আমাদেরও লক্ষ্য কোয়ালিফাই করা।’ এপ্রিলের ইস্টএশিয়া কাপে তৃতীয় হওয়া দলটি ফেবারিট মানছে বাংলাদেশকে। সাথে লেবাননকেও।

ওয়েস্ট এশিয়া কাপে জর্ডানের কাছে টাইব্রেকারে হেরে রানার্সআপ লেবানন। এবার তারা প্রথম বারের অংশ নিচ্ছে এএফসির এই আসরে। কোচ হেগফ ডেমিরজিয়ান জানান, আমরা কোয়ালিফাই করলে খুশী হবো। না করলেও সমস্যা নেয়, অভিজ্ঞতা অর্জন হবে।
২০১৩ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলে কোয়ালিফাই করা বাহরাইন এবারও পরের রাউন্ডে যেতে চায় জানালেন কোচ খালেদ হাসান। ওয়েস্ট এশিয়া কাপে তারা হয়েছিল চতুর্থ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোচ হুরিয়া আল তাহেরি এবার ভালো করার ইঙ্গিত দিলেন।


আরো সংবাদ